Suvendu Adhikari: ৮০ হাজার কোটি বিনিয়োগ, ১০ হাজার কর্মসংস্থান, আসানসোলে শিল্প-বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর | West Bengal New Industrial Policy: Suvendu Adhikari Announces Rs 80,000 Crore Vedanta Investment Proposal in Asansol, 10,000 Jobs Expected
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীImage Credit: PTI
আসানসোল: বৃহস্পতিবারই রাজ্যে নয়া শিল্পনীতি প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। আর আজই আসানসোলে গিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে শিল্পের নতুন জোয়ার আনতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। কয়লা ও বালি মাফিয়াদের দাপটে একসময়কার গৌরবময় শিল্পাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার সেই পরিস্থিতি বদলে শিল্পায়ন ও আধুনিকীকরণে জোর দিতে চাইছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নাকরাসোতা-বড়দিঘারী জনকল্যাণ সমিতির ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর উদ্বোধনে এসে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।\
কী বললেন শুভেন্দু?
শিল্প বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি বেদান্ত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নবান্নে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। কাটমানি ও তোলাবাজিমুক্ত পরিবেশ পেয়ে জে কে নগরের জমিতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওই শিল্পগোষ্ঠী। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে এলাকায় প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। একসময় এই অঞ্চল রাজ্যের শিল্প ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে কয়লা ও বালি মাফিয়াদের দাপটে শিল্পাঞ্চলের গৌরব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় ও রাজ্য স্তরের শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে বর্তমান সরকার। শিল্পাঞ্চলের আধুনিকীকরণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
শুধু শিল্পায়ন নয়, নাগরিক পরিষেবা নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসানসোল পুরসভার কমিশনার দিলীপ মিশ্রকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “পুর কমিশনার এখন সরকারের চোখ। পানীয় জল সরবরাহ, ভাঙা রাস্তা মেরামত-সহ সমস্ত নাগরিক পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।” পুর নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা প্রদানে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
পাশাপাশি, ছটপুজোর পরেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে আসার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রতিনিধিকে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। জনকল্যাণের কাজে গাফিলতি হলে নিজেদের কাছেই অপরাধী হয়ে থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে বেনারস থেকে আসা বিশেষ গঙ্গা আরতি দলের পরিবেশনায় দামোদর নদকে উৎসর্গ করে আরতির আয়োজন করা হয় আসানসোলে। এরপর ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি, রানিগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।