India-EU FTA হলে প্রথম বছরেই কম শুল্কে আসবে ১ লাখ ইউরোপীয় গাড়ি - 24 Ghanta Bangla News
Home

India-EU FTA হলে প্রথম বছরেই কম শুল্কে আসবে ১ লাখ ইউরোপীয় গাড়ি

Spread the love

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (India-EU FTA) কার্যকর হলে ইউরোপ থেকে ভারতে আমদানি করা গাড়ির বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চুক্তির শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম বছরেই ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতারা ১ লক্ষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ি বা সিবিইউ ভারতে তুলনামূলক কম আমদানি শুল্কে আনতে পারবেন।

এই সুবিধা মূলত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন বা আইসিই এবং নন-প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। নির্দিষ্ট কোটা ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে চুক্তির দশম বছর থেকে বছরে ১.৬ লক্ষ গাড়িতে পৌঁছবে।

তবে চুক্তিটি এখনও স্বাক্ষরিত হয়নি। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা জানুয়ারি ২০২৬-এ শেষ হলেও, চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে দুই পক্ষকেই নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং ২০২৭ সাল থেকে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম বছরেই ১ লক্ষ গাড়ির কোটা

প্রথম বছরে ইউরোপ থেকে মোট ১ লক্ষ সিবিইউ গাড়ি নির্দিষ্ট কম শুল্কের সুবিধায় ভারতে আমদানি করা যাবে। এই কোটা তিনটি দামের স্তরে ভাগ করা হয়েছে।

Advertisements


   


   

  • ১৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ ইউরো দামের গাড়ি, ৩৪,০০০ ইউনিট
  • ৩৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ ইউরো দামের গাড়ি, ৩৩,০০০ ইউনিট
  • ৫০,০০০ ইউরোর বেশি দামের গাড়ি, ৩৩,০০০ ইউনিট

অর্থাৎ তিনটি শ্রেণি মিলিয়ে প্রথম বছরে মোট ১ লক্ষ গাড়ি কম শুল্কে আমদানির সুযোগ থাকবে।

কম শুল্কে ইউরোপীয় গাড়ি

প্রথম বছরে ১৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ ইউরো দামের আইসিই এবং নন-প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে কোটা-ভিত্তিক আমদানি শুল্ক হবে ৩৫ শতাংশ। ৩৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ ইউরো এবং ৫০,০০০ ইউরোর বেশি দামের গাড়ির ক্ষেত্রে এই শুল্ক আরও কম, ৩০ শতাংশ। তবে ১৫,০০০ ইউরোর কম দামের গাড়ি প্রথম বছরে এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাবে না।

বর্তমানে কোটা-বহির্ভূত আমদানি করা গাড়ির ক্ষেত্রে প্রাথমিক শুল্ক ৬৬ শতাংশ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। প্রস্তাবিত চুক্তির অধীনে এই হারও ধীরে ধীরে কমবে এবং দশম বছরে কোটা-বহির্ভূত গাড়ির জন্য তা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে নেমে আসার কথা।

দশম বছরে কোটা বাড়বে ১.৬ লক্ষে

ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ-র অধীনে গাড়ি আমদানির কোটা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। প্রথম বছরে ১ লক্ষ থেকে দ্বিতীয় বছরে কোটা বেড়ে হবে ১.০৭৫ লক্ষ গাড়ি। পঞ্চম বছরে তা বেড়ে ১.৩ লক্ষে পৌঁছবে। দশম বছর থেকে বছরে সর্বোচ্চ ১.৬ লক্ষ গাড়ি এই সুবিধার আওতায় আসবে। শুধু কোটা নয়, আমদানি শুল্কও ধীরে ধীরে কমানো হবে। দশম বছর থেকে তিনটি মূল্যস্তরেই অগ্রাধিকারমূলক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশে নেমে আসবে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য আলাদা কোটা

শুরুতেই সব ধরনের গাড়ি এই সুবিধা পাবে না। ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই দুই ধরনের গাড়ি প্রথম পাঁচ বছরে প্রাথমিক ১ লক্ষ গাড়ির কোটা থেকে অগ্রাধিকারমূলক আমদানি সুবিধা পাবে না। পঞ্চম বছর থেকে ২০,০০০ ইউরোর বেশি দামের বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড সিবিইউ গাড়ির জন্য আলাদা কোটা চালু হবে। এই আলাদা কোটা পঞ্চম বছরে ২০,০০০ গাড়ি দিয়ে শুরু হয়ে ১৪তম বছরে ৯০,০০০ গাড়িতে পৌঁছবে। প্রথম দিকে এই গাড়িগুলির অগ্রাধিকারমূলক আমদানি শুল্ক হবে ৩০ শতাংশ। দশম বছর থেকে তা কমে ১০ শতাংশ হওয়ার কথা।

বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, ভক্সওয়াগেনের সুবিধা

কম আমদানি শুল্কের ফলে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতীয় বাজারে সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ি আনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভক্সওয়াগেন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং বিএমডব্লিউ-র মতো সংস্থাগুলি ইউরোপের কারখানা থেকে আরও বেশি সিবিইউ মডেল ভারতে আনার সুযোগ পেতে পারে।

এর ফলে বর্তমানে বেশি আমদানি শুল্কের কারণে যেসব বিশেষ ধরনের, উচ্চক্ষমতার বা বিলাসবহুল গাড়ি ভারতে আনা তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক, সেগুলির বাজারে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

বিশেষ করে উচ্চমূল্যের নিশ মডেল, পারফরম্যান্স গাড়ি এবং ইউরোপীয় বাজারে তৈরি নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে আরও সহজলভ্য হতে পারে।

ভারত থেকেও ইউরোপে গাড়ি রপ্তানির সুবিধা

চুক্তিতে শুধু ইউরোপ থেকে ভারতে গাড়ি আমদানির সুবিধাই রাখা হয়নি। ভারত থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হওয়া গাড়ির ক্ষেত্রেও পারস্পরিক শুল্ক ছাড়ের ব্যবস্থা থাকছে।

ফলে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তিটি শুধু ভারতে ইউরোপীয় গাড়ির আমদানি বাড়াবে না, ভারতীয় গাড়ি নির্মাতাদের ইউরোপের বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে পুরো ব্যবস্থাটি কার্যকর হওয়ার জন্য প্রথমে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ অনুমোদন সম্পূর্ণ হওয়া জরুরি। চুক্তি ২০২৭ সালে কার্যকর হলে তার পর থেকেই নির্ধারিত কোটা ও শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী ইউরোপীয় গাড়ির আমদানি শুরু হতে পারে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *