iPhone 18 Pro-র স্টোরেজ বাড়াতে তিন গুণেরও বেশি দাম নিচ্ছে Apple!

মুম্বই: নতুন iPhone কেনার সময় বেশি স্টোরেজের মডেল বেছে নিতে গেলে গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। কিন্তু সেই স্টোরেজ বাড়ানোর জন্য Apple-এর প্রকৃত খরচের তুলনায় কতটা বেশি দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের? The Wall Street Journal-এর একটি বিশ্লেষণ ঘিরে এই প্রশ্নই সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, iPhone 18 Pro-র স্টোরেজ আপগ্রেডের ক্ষেত্রে Apple কিছু কনফিগারেশনে তাদের খরচের তিন গুণেরও বেশি দাম নিচ্ছে। বিশেষ করে ১TB স্টোরেজের ক্ষেত্রে সংস্থার মুনাফার অঙ্ক নজর কেড়েছে।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করেছে Apple। সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হওয়া ওই ত্রৈমাসিকে ভারতে সর্বকালীন রেকর্ড আয়ের দাবি করেছে সংস্থাটি। iPhone এবং Mac বিক্রিতেও রেকর্ড আয়ের কথা জানিয়েছে তারা। MacBook Neo, MacBook Pro এবং iPhone আপগ্রেডের চাহিদাকে এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে Apple। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, চলতি বছরে একাধিক পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রভাবও এই আয়ের পিছনে থাকতে পারে।
iPhone 18 Pro-র স্টোরেজে কত খরচ Apple-এর?
The Wall Street Journal-এর বিশ্লেষণে iPhone 17 Pro এবং iPhone 18 Pro-র স্টোরেজ আপগ্রেডের খরচ ও বিক্রয়মূল্যের তুলনা করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১TB স্টোরেজের জন্য Apple-এর সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যন্ত্রাংশ কেনার খরচ iPhone 17 Pro-তে ছিল প্রায় ৪২ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৪,০০০ টাকা। iPhone 18 Pro-তে সেই খরচ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৯২ ডলার বা ১৮,০০০ টাকা।
তবে খরচ বাড়লেও Apple-এর মোট মুনাফার অঙ্ক বেড়েছে। রিপোর্টে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১TB স্টোরেজ আপগ্রেড থেকে সংস্থার গ্রস প্রফিট iPhone 17 Pro-তে ছিল প্রায় ৩৫৮ ডলার বা ৩৪,০০০ টাকা। iPhone 18 Pro-তে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪০৮ ডলার বা ৩৯,০০০ টাকা।
অন্যদিকে, ৫১২GB স্টোরেজ আপগ্রেডের ক্ষেত্রেও খরচ বেড়েছে। iPhone 17 Pro-র জন্য এই স্টোরেজের পিছনে Apple-এর খরচ ছিল প্রায় ১৫ ডলার বা ১,৪০০ টাকা। অথচ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হত অতিরিক্ত ২০০ ডলার বা প্রায় ১৯,০০০ টাকা। iPhone 18 Pro-তে এই স্টোরেজের খরচ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৬ ডলার বা ৬,০০০ টাকা। ফলে এই কনফিগারেশনে সংস্থার গ্রস প্রফিট আগের তুলনায় কমেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
২TB মডেলে সবচেয়ে বেশি মুনাফার হিসাব
রিপোর্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য ২TB স্টোরেজ কনফিগারেশন নিয়ে। ১TB মডেলের তুলনায় ২TB iPhone 18 Pro কিনতে অতিরিক্ত ১,২০০ ডলার, অর্থাৎ আনুমানিক ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা দিতে হয় গ্রাহকদের।
অন্যদিকে, এই অতিরিক্ত স্টোরেজের জন্য Apple-এর আনুমানিক খরচ ৪৫০ ডলার বা প্রায় ৪২,০০০ টাকা। সেই হিসাবে ২TB আপগ্রেড থেকে সংস্থার গ্রস প্রফিট দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭৫০ ডলার বা ৭১,০০০ টাকা।
এর আগে iPhone 17 Pro-র ক্ষেত্রে স্টোরেজ আপগ্রেডের খরচের তুলনায় Apple-এর মার্কআপ প্রায় ১,০০০ শতাংশ ছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। নতুন মডেলে সেই অনুপাত কমেছে। তবে স্টোরেজ আপগ্রেড থেকে সংস্থার উল্লেখযোগ্য মুনাফা হচ্ছে বলেই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, Apple-এর মোট খরচের মধ্যে RAM-এর জন্য কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেই তথ্য রিপোর্টে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। তাই স্টোরেজ আপগ্রেডের এই হিসাবকে ফোন তৈরির সামগ্রিক খরচ বা মোট লাভের হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
ভারতে স্টোরেজ বাড়াতে কত অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে?
ভারতীয় বাজারেও iPhone 18 Pro-র স্টোরেজ অনুযায়ী দামের ব্যবধান বেশ বড়। রিপোর্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কনফিগারেশনে অতিরিক্ত খরচের হিসাব হল:
- ২৫৬GB থেকে ৫১২GB: অতিরিক্ত ২৫,০০০ টাকা।
- ৫১২GB থেকে ১TB: অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা।
- ১TB থেকে ২TB: অতিরিক্ত ৭৫,০০০ টাকা।
অর্থাৎ, বেশি স্টোরেজের মডেল কিনতে গেলে গ্রাহকদের যথেষ্ট বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ৫১২GB থেকে ১TB-তে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৫০,০০০ টাকার অতিরিক্ত দাম অনেকের কাছেই বড় অঙ্ক।
The Wall Street Journal-এর বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, iPhone 18 Pro-র স্টোরেজ আপগ্রেড Apple-এর জন্য উল্লেখযোগ্য মুনাফার উৎস। তবে এই হিসাব মূলত স্টোরেজের আনুমানিক খরচ ও আপগ্রেডের দামের তুলনা। এর মধ্যে ফোনের অন্যান্য যন্ত্রাংশ, উৎপাদন, পরিবহণ, বিপণন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব অন্তর্ভুক্ত নয়।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel