দেশ জুড়ে নারী নির্যাতনে জড়িত ১৮৭ বিধায়ক-সাংসদ! সমীক্ষায় উঠল চাঞ্চল্যকর তথ্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

দেশ জুড়ে নারী নির্যাতনে জড়িত ১৮৭ বিধায়ক-সাংসদ! সমীক্ষায় উঠল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Spread the love


নয়াদিল্লি: অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা (187 MPs)এডিআর-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। দেশজুড়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত সাংসদ ও বিধায়কদের মধ্যে ১৮৭ জন…

নয়াদিল্লি: অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা (187 MPs)এডিআর-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। দেশজুড়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত সাংসদ ও বিধায়কদের মধ্যে ১৮৭ জন নিজেদের নির্বাচনী হলফনামায় নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলার কথা ঘোষণা করেছেন। এই সংখ্যা শুনে অনেকেই চমকে উঠেছেন। কারণ যাঁরা আইন তৈরি করেন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাঁদের মধ্যে এতজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়।

এডিআর এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ মিলে মোট ৪৮৮১ জন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কের হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে ৭৭২ জন সাংসদ এবং ৪১০৯ জন বিধায়ক রয়েছেন। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮৭ জনের বিরুদ্ধে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন সাংসদ এবং ১৬৮ জন বিধায়ক। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই রাজ্য বিধানসভার সদস্য।

আরও দেখুনঃ

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিজেপির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। (187 MPs)দলটির ১০৬ জন সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে এমন মামলা ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর কংগ্রেসের ২০ জন এবং তেলুগু দেশম পার্টির ১৮ জন রয়েছেন। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষে। এখানে ৬৯ জন সাংসদ ও বিধায়কের নাম উঠে এসেছে। এরপর অন্ধ্রপ্রদেশে ২২ জন এবং ওডিশায় ১৭ জন।

সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হল ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা। ১৮৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা একই নারীর ওপর বারবার ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুজন লোকসভা সাংসদ এবং ১২ জন বিধায়ক। এই মামলাগুলো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ এবং ৩৭৬(২)(এন) ধারায় দায়ের করা। এডিআর স্পষ্ট করে বলেছে, এগুলো শুধু হলফনামায় ঘোষিত মামলা। মামলার বর্তমান অবস্থা বা সাজা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। অনেক মামলা এখনও চলছে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। (187 MPs)নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এমন অভিযোগ থাকা সমাজের জন্য বিপজ্জনক বার্তা দেয়। তাঁরা দাবি করছেন, দলগুলোকে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় আরও সতর্ক হতে হবে। শুধু জয়ের সম্ভাবনা দেখে অপরাধের ইতিহাস থাকা প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া বন্ধ করা উচিত। অনেক নাগরিক মনে করছেন, এমন প্রতিনিধিরা নারী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন বা বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক হতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তবে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত এ ধরনের প্রতিবেদনের জবাবে বলে যে, মামলা মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না। অনেকেই দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা। এডিআর-এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, হলফনামায় ঘোষিত তথ্যের ভিত্তিতেই বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং মামলার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি।

এই পরিসংখ্যান ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক বড় দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। নির্বাচনী হলফনামায় অপরাধের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও দলগুলো কেন এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টও সময় সময় পরিষ্কার প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *