ডিভোর্স মানেই ফুলস্টপ নয়, ক্যাম্প করছেন রাফিয়া - স্নেহাংশু অধিকারী - 24 Ghanta Bangla News
Home

ডিভোর্স মানেই ফুলস্টপ নয়, ক্যাম্প করছেন রাফিয়া – স্নেহাংশু অধিকারী

Spread the love

ডিভোর্স মানেই ‘ফুলস্টপ’ নয়, ক্যাম্প করছেন রাফিয়া

স্নেহাংশু অধিকারী

মাখো-মাখো প্রেম থেকে শুরু করে পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান। গদগদ লয়্যালিটি থেকে লুিকয়ে-চুরিয়ে চিটিং — এমন স্মৃতি কমবেশি আমাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই ‘স্মৃতি’ নই। বিয়ের দিনে বিয়ে ভাঙার মতো ব্যাটিং—স্মৃতি মান্ধানার মতো কেউ কেউ পারেন। দিন কয়েকের মধ্যে লড়াকু মেয়ে আবার ফিরেও গিয়েছেন জাতীয় দলের প্র্যাকটিসে। বাইশ গজে হাঁটু মুড়ে সুরকার-গায়ক পলাশ মুছলের সেই সিনেম্যাটিক বিয়ের প্রস্তাব, কিংবা SM18 ট্যাটু আঁকিয়ে ‘আদিখ্যেতা’— স্মৃতি যেন সে সব স্মৃতিতে রাখতেই চাইছেন না। সদ্য বিশ্বকাপজয়ী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর একমাত্র প্রায়োরিটি এখন ক্রিকেট। কেন বিয়ে ভাঙলেন স্মৃতি, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। চলবেও। মান্ধানার মুড কিন্তু মন্দ না। বিয়ে-বিয়েভাঙার এপিসোড কাটিয়ে তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি— ‘ক্রিকেটের থেকেও বেশি ভালোবাসি, এমন কিছু আছে বলে আমার মনেই হয় না।’ স্মৃতি বরাবরের চ্যাম্পিয়ন। স্মৃতির পাশে আজ পুরো ইন্ডিয়া। কিন্তু হেমা-রেখা-জয়া-সুষমার মতো মেয়েরা? যাদের দিয়ে কেউ কিছুর অ্যাড করায় না, ডিভোর্সি হলেই যাদের রাতারাতি পর হয়ে যায় বাপের বাড়িও, তাদের পাশে কে থাকে?

কলকাতা থেকে ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের জবাব এল কালিকট থেকে। বছর একত্রিশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফিয়া আফি ফোনে ‘এই সময়’-কে বললেন, ‘আমি তো সেই চেষ্টাটাই করছি। বিয়ে-ভাঙা একটা মেয়েকে আমাদের দেশে কতখানি লাঞ্ছনা সইতে হয়, সেটা আমি নিয়ে একজন ডিভোর্সি ও সিঙ্গল মাদার হিসেবে খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ মানেই যে সব শেষ নয়, বরং নতুন একটা জীবনের শুরু, সেটাই বোঝাতে চাইছি।’ দেড় বছর হয়ে গেল ডিভোর্সি মেয়েদের জন্য সাপোর্ট-রিট্রিট ক্যাম্প করছেন রাফিয়া। ডিভোর্স-সেলিব্রেশন হালে বেশ পপুলার হয়েছে দেশে। কেউ ‘হ্যাপি ডিভোর্স’-এর কেক কাটছেন, ফোটোশুটে ভাইরাল হচ্ছেন, তো কেউ আবার ‘পাপ’-বিদায়ে ৪০ লিটার দুধে স্নান করে চিৎকার করে বলছেন— ‘আজ থেকে আবার আমি স্বাধীন।’ রাফিয়ার কাজটা কিন্তু এই ‘দিলখুশ’ ডিভোর্সিদের নিয়ে নয়। কেরালার মেয়ে হাসি ফেরানোর লড়াই লড়ছেন হেমা-রেখা-জয়া-সুষমার মতো অতি সাধারণ মেয়েদের জন্যই।

রাফিয়া নিজেকে ‘লাকি’-ই বলেন। কারণ বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরে তিনি স্ট্রেট ফিরে গিয়েছিলেন নিজের বাড়িতে। এই ইউ টার্ন নেওয়ার সুযোগটা অনেকেরই থাকে না। তাঁর ছিল। রাফিয়ার পরিবারও সবটুকু দিয়ে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে একটা সময়ে পারিবারিক ব্যবসায় ঢুকে পড়েন রাফিয়া। শৈশবে আবার ফুটবলের প্রতি ইন্টারেস্ট ছিল মারাত্মক। এ বার হাতে তাই একটু বাড়তি সময় পেয়েই রাফিয়া ঝাঁপিয়ে পড়েন মাঠে। নেহাত টাইমপাস নয়, কেরালার মালাপ্পুরমে মেয়েদের জন্য তৈরি করে ফেলেন আস্ত একখানা ফুটবল কমিউনিটি — ‘ফুটবল ফর হার’!

সব মিলিয়ে দিনভর ব্যস্ততা। দম ফেলার ফুরসত নেই। মন খারাপেরও। বছর একত্রিশের সিঙ্গল মাদার এর চেয়ে আর কত ভালো থাকতে পারেন! হৃদয় খুঁড়ে বেদনা তবু জেগে ওঠে থেকে-থেকেই। আগাগোড়া পজ়িটিভ রাফিয়া কিন্তু একটিবারের জন্যও ভেঙে পড়েননি। বরং সেই সময়ে ফাঁক পেলেই ডিফোর্স কিংবা সেপারেশন নিয়ে টুকটাক লেখালিখি করতেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তা করতে গিয়ে চোখ খুলে যায় তাঁর। বিয়ে-ভাঙা সব মেয়ে যে তাঁর মতো লাকি নন, সেই বোধটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যায় তাঁর কাছে। মানে, সাপোর্ট চাই— এই ভাবনা থেকেই ওই ‘আনলাকি’ মেয়েদের সাপোর্ট সিস্টেম হয়ে ওঠার লড়াই শুরু করে দেন রাফিয়া।

রাফিয়ার সেই লড়াইটাই আজ ‘ব্রেক ফ্রি স্টোরিজ়’-এর চেহারা নিয়েছে। বৈধব্য মানেই জীবন শেষ নয়। একই ভাবে ডিভোর্সি, সেপারেটেড মেয়েদেরও হেসে-খেলে বাঁচার অধিকার রয়েছে — এই থিম মাথায় রখেই ওই মেয়েদের জন্য সাপোর্ট রিট্রিট ক্যাম্পের আয়োজন করেন রাফিয়া। চলতি বছরের মে-তে পথচলা শুরু করে প্রথম তিন মাসেই কেরালায় তিনটে ক্যাম্প। জুলাইয়ের মাঝামাঝি ক্যাম্প করে এসেছেন ইউএই থেকেও!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *