কালীপুজোর ভোগে কী পদ রাখবেন? খিচুড়ি থেকে মাটন বিরিয়ানি, রইল ৮ পদ

কলকাতা: আগামী ৮ নভেম্বর, রবিবার কালীপুজো (Kali Puja 2026)। একই দিনে পালিত হবে দীপাবলিও। দুর্গাপুজোর পর পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ওড়িশার বহু পরিবারে কালীপুজো ঘিরে বিশেষ আয়োজন থাকে। মধ্যরাতে দেবী কালীর আরাধনা, পুজোর নানা আচার এবং ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় এই উৎসব। আর বাঙালির উৎসব মানেই খাবারের বিশেষ আয়োজন।
কালীপুজোয় অনেক বাড়িতে দেবীর জন্য ভোগ রান্না করা হয়। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য তৈরি হয় নানা পদ। সাধারণ খিচুড়ি ও লাবড়া থেকে শুরু করে বাসন্তী পোলাও, মাটন বিরিয়ানি কিংবা পায়েস, বাঙালির কালীপুজোর ভোজে থাকে নানা স্বাদের আয়োজন। কিছু পদ পুজোর ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়, আবার কিছু মূলত পরিবারের উৎসবের খাবার।
কালীপুজোর ভোগে রাখতে পারেন এই ৮টি পদ
১. বাঙালি খিচুড়ি
কালীপুজোর ভোগে খিচুড়ি অন্যতম পরিচিত পদ। সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চাল এবং সোনামুগ ডাল দিয়ে তৈরি হয় এই খিচুড়ি। আদা, কাঁচালঙ্কা ও মরশুমি সবজি দিয়ে রান্না করা হয়। মশলার ব্যবহার থাকে পরিমিত, যাতে চাল ও ডালের নিজস্ব স্বাদ বজায় থাকে।
২. লাবড়া বা মিশ্র সবজি
খিচুড়ির সঙ্গে লাবড়ার জুটি বাঙালির ভোগের অন্যতম পরিচিত আয়োজন। ফুলকপি, আলু, কুমড়ো, মুলো, গাজর ও মটরশুঁটি দিয়ে তৈরি হয় এই পদ। হালকা মশলায় রান্নার পর উপর থেকে নারকেল কোরা এবং সামান্য চিনি দেওয়া হয়। ভোগের থালায় এই সবজির পদ বিশেষ জায়গা করে নেয়।
৩. নিরামিষ পাঁঠার মাংস
কিছু পারিবারিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক রীতিতে দেবী কালীর উদ্দেশে বলির পাঁঠার মাংস নিবেদনের প্রথা রয়েছে। এই পদটি নিরামিষ পদ্ধতিতে রান্না করা হয়, অর্থাৎ পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার করা হয় না। আদা, দই এবং গোটা গরমমশলার মিশ্রণে তৈরি হয় এর স্বতন্ত্র স্বাদ। তবে এই রীতি সর্বত্র প্রচলিত নয়।
৪. ছানার পায়েস
উৎসবের মেনুতে মিষ্টি পদ না থাকলে যেন আয়োজন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কালীপুজোর ভোজে ছানার পায়েস রাখতে পারেন। ঘন দুধের সঙ্গে চাল বা ছানা দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করা হয় এই পদ। শেষে এলাচ, কাজু, কিশমিশের মতো শুকনো ফল মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।
৫. মাছের ঝোল বা কালিয়া
বাঙালির উৎসবের রান্নায় মাছের পদও বিশেষ জনপ্রিয়। রুই কালিয়া ও কাতলা কালিয়া অনেক বাড়ির পছন্দের তালিকায় থাকে। যাঁরা হালকা খাবার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য তৈরি করা যেতে পারে সাধারণ মাছের ঝোল। তাজা মিষ্টি জলের মাছ দিয়ে রান্না করা এই পদ উৎসবের মেনুতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া যোগ করে।
৬. বাঙালি মাটন বিরিয়ানি
উৎসবের ভোজে একটু জমকালো আয়োজন করতে চাইলে রাখতে পারেন কলকাতা-ধাঁচের মাটন বিরিয়ানি। লম্বা দানার বাসমতি চাল এবং ধীরে রান্না করা নরম মাটনের সঙ্গে থাকে সেদ্ধ ও ভাজা আলু। কেওড়া জল, গোলাপ জল ও ঘিয়ের সুগন্ধ বিরিয়ানিতে আলাদা মাত্রা যোগ করে। এটি সাধারণত পরিবারের মূল ভোজের পদ, প্রচলিত নিরামিষ ভোগের অংশ নয়।
৭. বাসন্তী পোলাও
মিষ্টি পোলাও বা বাসন্তী পোলাও দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর মতো উৎসবে বাঙালির পরিচিত পদ। ছোট দানার গোবিন্দভোগ চাল, ঘি, কাজু, কিশমিশ এবং গোটা গরমমশলা দিয়ে তৈরি হয় এই হলুদ রঙের পোলাও। হালকা মিষ্টি স্বাদের এই পদ খিচুড়ির পাশাপাশি উৎসবের মেনুতেও রাখা যায়।
৮. মিষ্টি ও শুকনো ফলের আয়োজন
মূল খাবারের পাশাপাশি মিষ্টি এবং শুকনো ফলের আয়োজনও করতে পারেন। পায়েসের সঙ্গে লাড্ডু, সন্দেশ কিংবা অন্যান্য স্থানীয় মিষ্টি পরিবেশন করা যায়। পুজোর পর প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে মিষ্টি ভাগ করে নেওয়ার রীতিও বহু বাঙালি পরিবারে প্রচলিত।
পুজোর সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ
কালীপুজো শুধু আরাধনার উৎসব নয়, পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ারও উপলক্ষ। বাড়িতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পদ, ভোগ নিবেদন এবং পরে সেই খাবার সকলের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে উৎসবের সংস্কৃতি।
তবে ভোগের মেনু পরিবার ও এলাকার রীতি অনুযায়ী বদলে যায়। কোথাও নিরামিষ খিচুড়ি-লাবড়াই প্রধান, আবার কোথাও মাছ বা মাংসের পদও উৎসবের খাবারের অংশ। নিজের পরিবারের প্রথা মেনেই কালীপুজোর আয়োজন সাজিয়ে নিতে পারেন।
The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.