'কথায় শিল্প আটকে থাকলে চলবে না!' বিজেপি সরকারকে বার্তা মদনের - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘কথায় শিল্প আটকে থাকলে চলবে না!’ বিজেপি সরকারকে বার্তা মদনের

Spread the love


কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন (Madan Mitra)ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মদন মিত্র। তিনি এই নীতিকে ইতিবাচক ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন।…

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন (Madan Mitra)ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মদন মিত্র। তিনি এই নীতিকে ইতিবাচক ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন। মদন মিত্রের মতে, শুধু ভাতা বা ভাতা দিয়ে জনগণকে টিকিয়ে রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। সরকারি অর্থ বিনামূল্যে দিলে মানুষের মধ্যে অভ্যাস গড়ে ওঠে যা কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

মদন মিত্র বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষ রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। (Madan Mitra)কিন্তু ফিরে এসে তাঁরা কী করবেন যদি কাজের ব্যবস্থা না থাকে? পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন এলে যদি কিছুই না হয়, তাহলে এই নীতির কোনো অর্থ থাকে না। বাংলায় এখন আর কিছুই নেই, শুধু সরকারি ভাতা। মানুষ হয়তো বলবেন যে তিনি বিজেপিকে সমর্থন করছেন। কিন্তু তা নয়। বিজেপি হোক বা কংগ্রেস, কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে তিনি তা সমর্থন করবেন।

আরও দেখুনঃ ‘বিজেপির তোলাবাজদের দিকে নজর দিন!’ শুভেন্দুকে পাল্টা কুনাল

মদন মিত্রের (Madan Mitra)এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি সরকার সম্প্রতি নতুন বিনিয়োগ প্রচার নীতি ঘোষণা করেছে। এতে কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে আরও বেশি মানুষ কাজ পান। মহিলা ও ট্রান্সজেন্ডার কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত জটিলতা কমাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় শিল্পের অবস্থা নিয়ে সমালোচনা চলে আসছিল। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বিনিয়োগকারীরা অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। এর জেরেই অনেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। মদন মিত্র সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ভাতা দিয়ে মানুষকে নির্ভরশীল করে তোলা যায় না। কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে যাতে মানুষ নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

নতুন শিল্পনীতিতে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি রোধের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কারখানার গেট অবরোধ বা জোর করে বন্ধ করার মতো ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। মদন মিত্রের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দরকার। কারণ শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবে কাজ করতে হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে যদি দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসে, তাহলে জনগণের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে।

রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার কথা বলে মদন মিত্র (Madan Mitra)এক ধরনের নতুন বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে রাজ্যের স্বার্থে যেকোনো ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। বাংলার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে হলে শিল্প ও কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই। ভাতার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

মদন মিত্রের বক্তব্যে একদিকে যেমন সরকারের নীতিকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও রয়েছে। তিনি বলেছেন, শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ দিতে হবে। এক কোটি মানুষ যে রাজ্য ছেড়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে হলে কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে। নইলে আহ্বান শুধু কথায়ই থেকে যাবে। বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই শিল্পনীতি কতটা সফলভাবে রূপায়িত হয় তার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *