ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র? ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি - 24 Ghanta Bangla News
Home

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র? ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি

Spread the love


তেল আভিভ: ইরান কি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্র (Chemical Weapons) হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে? এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তাদের দেওয়া তথ্য আমেরিকা এবং উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। তবে এই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক আঞ্চলিক আধিকারিক। তাঁদের সন্দেহ, ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় সামরিক অভিযান শুরু করতে আমেরিকা ও তার সহযোগীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, রাসায়নিক অস্ত্রকে ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ব্যবহার করার প্রযুক্তি দ্রুত তৈরি করছে তেহরান। পাশাপাশি গোপনে রাসায়নিক অস্ত্র ইজরায়েল-সহ অন্য দেশে পাচার করে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে। ড্রোনের মাধ্যমে রাসায়নিক উপাদান ছড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ইজরায়েল।

তবে এই গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আমেরিকার প্রশাসনের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদের সন্দেহ, এই তথ্য প্রকাশের পিছনে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

পরমাণু অস্ত্রের থেকেও রাসায়নিক হামলাকে বেশি গুরুত্ব ইজরায়েলের

গত দু’সপ্তাহে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক আলোচনায় ইজরায়েলি প্রতিনিধিরা ইরানের রাসায়নিক অস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। তাদের দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও দ্রুত এগোচ্ছে।

ইজরায়েলের আশঙ্কা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাসায়নিক উপাদান ছড়ানোর প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে ইরান। পাশাপাশি গোপন অভিযানের মাধ্যমে অন্য দেশে রাসায়নিক অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।

আমেরিকার কিছু আধিকারিকের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় সামরিক অভিযানে ফেরাতে নেতানিয়াহু সরকারের এটি একটি চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। তবে অন্য অংশের আধিকারিকরা সতর্ক করেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি এবং আমেরিকার স্বার্থে হামলার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে এই গোয়েন্দা তথ্য খতিয়ে দেখা জরুরি।

ইরান অবশ্য প্রকাশ্যে রাসায়নিক অস্ত্র থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অতীতেও তেহরান এই ধরনের অভিযোগকে ইজরায়েল ও নেতানিয়াহুর পরিচালিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছে।

ইজরায়েলের দাবিতে সংশয় উপসাগরীয় দেশগুলির

ইজরায়েল তাদের গোয়েন্দা মূল্যায়নের কথা উপসাগরীয় দেশগুলিকেও জানিয়েছে। কিন্তু সেখানকার একাধিক সরকারের কাছে এই দাবি বিশেষ বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে এক আঞ্চলিক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইজরায়েলি প্রতিনিধিরা তাঁদের মূল্যায়নের কথা জানালেও তার পক্ষে কোনও প্রমাণ পেশ করেননি। ফলে ইরান সত্যিই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপসাগরীয় দেশগুলির আধিকারিকরা।

অর্থাৎ, ইরানের সম্ভাব্য রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দা মহলে এখনও একমত হওয়া যায়নি। ইজরায়েলের সতর্কবার্তা যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনই তার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র বসানো কতটা কঠিন?

গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত কয়েকজন আধিকারিকের মধ্যেও ইরানের সম্ভাব্য সক্ষমতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। রাসায়নিক অস্ত্রকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে বসানো প্রযুক্তিগতভাবে খুব কঠিন কাজ নাও হতে পারে বলে মনে করছেন কয়েকজন মার্কিন আধিকারিক ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞ।

তবে আসল চ্যালেঞ্জ হল, ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রাসায়নিক উপাদান এমনভাবে ছড়ানো, যাতে তা কার্যকরভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছতে পারে। এই কাজের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতির প্রয়োজন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে গোপনে রাসায়নিক বোমা পাচার করাও বড় ধরনের নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বহু বছর ধরেই ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত কার্যকলাপের উপর নজর রাখছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক আইনে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ।

যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই রাজনৈতিক চাপে নেতানিয়াহু

এই গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ্যে আসার সময় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আট মাসের যুদ্ধের পরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশ একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, অন্যদিকে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এরই মধ্যে ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। গত সপ্তাহের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্ট পথ তৈরি করতে পারেননি তিনি। ফলে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও চাপের মুখে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *