লক্ষ্মীলাভে ধনতেরাসের আগে ঘর থেকে সরান এই ১০ অপ্রয়োজনীয় জিনিস

কলকাতা: ধনতেরাসের (Dhanteras 2026) আগে ঘর পরিষ্কারের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। দীপাবলির আগে বাড়ির প্রতিটি কোণ পরিষ্কার করার পাশাপাশি কোন জিনিস রাখা উচিত আর কোনগুলি সরিয়ে ফেলা দরকার, তা নিয়েও রয়েছে নানা বাস্তু পরামর্শ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাঙা বা অকেজো জিনিস বাড়িতে জমিয়ে রাখলে নেতিবাচক শক্তি তৈরি হয় এবং লক্ষ্মীর আগমনের পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অন্যদিকে, পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী, পুজোর বই কিংবা আশীর্বাদস্বরূপ পাওয়া শুভ জিনিস যত্ন করে রাখা উচিত।
এ বছর ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস। তার আগে ঘর গোছানোর জন্য হাতে রয়েছে অল্প সময়। বাস্তু মতে, পরিষ্কার ও আলো-বাতাস চলাচল করে এমন বাড়িতেই ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে। তাই উৎসবের আগে শুধু ধুলো পরিষ্কার নয়, দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত সামগ্রী সরিয়ে ফেলাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ধনতেরাসের আগে ঘর থেকে সরিয়ে ফেলুন এই ১০ জিনিস
১. বন্ধ ঘড়ি: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা ঘড়িকে বাস্তু মতে থমকে যাওয়া অগ্রগতির প্রতীক মনে করা হয়। ঘড়িটি মেরামত করিয়ে নিন। তা সম্ভব না হলে সরিয়ে ফেলাই ভালো।
২. ফাটা আয়না: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাঙা বা ফাটা আয়না বাড়িতে অশান্তি ও নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই এমন আয়না ব্যবহার না করে নতুন আয়না লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
৩. দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পোশাক: আলমারিতে এক বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা পোশাকের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা দেখে নিন। পরার উপযুক্ত পোশাক দরিদ্র বা প্রয়োজনীয় মানুষকে দান করতে পারেন। বাকি পোশাক পুনর্ব্যবহারের জন্য পাঠানো যেতে পারে।
৪. পুরনো ও ছেঁড়া জুতো: বাড়ির প্রবেশদ্বারকে লক্ষ্মীর আগমনের পথ হিসেবে দেখা হয়। তাই দরজার সামনে পুরনো, ছেঁড়া বা অব্যবহৃত জুতো জমিয়ে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত ব্যবহার করা জুতোগুলিই রাখুন।
৫. মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: বাড়ির ওষুধের বাক্স ভালো করে পরীক্ষা করুন। মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ওষুধ সরিয়ে ফেলুন। তবে সেগুলি সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে না ফেলে নিরাপদ পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা জরুরি।
৬. শুকনো ফুল ও মৃত গাছ: পুজোর শুকিয়ে যাওয়া ফুল, মরে যাওয়া মানিপ্ল্যান্ট বা শুকনো গাছের ডাল বাড়িতে জমিয়ে রাখবেন না। সুস্থ ও সবুজ গাছ বাড়িতে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।
৭. ভাঙা ইলেকট্রনিক্স ও অকেজো যন্ত্রপাতি: নষ্ট চার্জার, কাজ না করা বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মরচে ধরা সাইকেল কিংবা দীর্ঘদিনের জমে থাকা স্ক্র্যাপ সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজন হলে ভাঙারি বিক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারেন।
৮. পুরনো খবরের কাগজ ও খালি কার্টন: বিছানার নীচে, দরজার পিছনে কিংবা ঘরের কোণে জমে থাকা খবরের কাগজ, বোতল ও কার্টন সরিয়ে ফেলুন। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব দিকের কোণ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেয় বাস্তু।
৯. গত বছরের ক্যালেন্ডার: পুরনো ক্যালেন্ডার সরিয়ে নতুন ক্যালেন্ডার লাগান। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দীপাবলিকে নতুন বছরের সূচনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
১০. অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র: দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না করা এবং কোনও কাজে লাগে না এমন সামগ্রী বাড়িতে জমিয়ে রাখবেন না। ঘরের খোলা জায়গা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় জিনিসই রাখুন।
যে ৫ ধরনের জিনিস বাড়ি থেকে সরাবেন না
সব পুরনো জিনিসই যে অশুভ, এমনটা নয়। কিছু সামগ্রী পারিবারিক ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। বাস্তু পরামর্শ অনুযায়ী, সেগুলি যত্ন করে রাখা উচিত।
- পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন: পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া পিতলের বাসন, ঐতিহ্যবাহী লোটা, গয়না কিংবা অন্য মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণ করুন।
- ধর্মীয় বই: ধর্মগ্রন্থ ও পুজোর বই অবহেলা করে ফেলে দেবেন না। পুরনো বইয়ের বাঁধাই নষ্ট হলে মেরামত করিয়ে আলাদা তাকে রাখুন।
- পুজোর মূর্তি ও যন্ত্র: নিয়মিত পুজো করা হয় এবং ভালো অবস্থায় রয়েছে, এমন ধাতু বা পাথরের দেবদেবীর মূর্তি ও যন্ত্র বাড়িতে রাখুন। ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত ধর্মীয় রীতি মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- আশীর্বাদস্বরূপ পাওয়া উপহার: রুপোর কয়েন, তোরণ কিংবা শুভ-লাভের প্রতীকের মতো উপহার পরিষ্কার করে যত্নে রাখুন।
- সোনা, রুপো ও মূল্যবান ধাতু: পরিবারের সম্পদ ও ধনতেরাসের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত সোনা, রুপোর গয়না এবং ব্যবহারযোগ্য বাসনপত্র পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করুন।
সময় পেরিয়ে গেলে কী করবেন?
ধনতেরাসের আগে ঘর পরিষ্কারের কাজ শেষ করতে না পারলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাস্তু পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে পারেন।
প্রথমত, অব্যবহৃত জিনিসগুলি একটি বাক্স বা ব্যাগে ভরে বাড়ির বসার ঘর কিংবা অন্য ব্যবহারযোগ্য জায়গা থেকে সরিয়ে বারান্দা, গ্যারাজ বা বারান্দার বাইরের নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে পারেন। দ্বিতীয়ত, সন্ধ্যার প্রদোষকালীন পুজোর মুহূর্তে কোনও জিনিস ফেলে দেওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্জ্য সংগ্রাহকের হাতে সামগ্রী তুলে দেওয়ার কাজ পুজোর সময়ের আগে বা পরে করুন।
জিনিসপত্র সরানোর পর বাড়ির প্রবেশদ্বার ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দরজার চৌকাঠে সামান্য গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেওয়াও শুভ বলে মনে করা হয়।
ধনতেরাসের সকালে কেন কিছু ফেলে দিতে নিষেধ?
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাস হল দীপাবলি উৎসবের সূচনা। এই দিনে দেবী লক্ষ্মী, ধন্বন্তরি এবং কুবেরের আরাধনা করা হয়। তাই সকাল থেকেই বাড়িতে শুভ শক্তি ও সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বাস্তু মতে, ধনতেরাসের সকালে ভাঙা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাইরে ফেলে দেওয়াকে শুভ বলে মনে করা হয় না। কারণ এই দিনটি ঘর থেকে অশুভ কিছু বের করে দেওয়ার পরিবর্তে সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। সেই কারণেই ধনতেরাসের আগের দিনগুলিতে ঘর পরিষ্কার ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে এই নিয়মগুলি মূলত প্রচলিত বাস্তু ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। এগুলির সঙ্গে আর্থিক সমৃদ্ধি বা লক্ষ্মীলাভের কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। উৎসবের আগে ঘর পরিষ্কার রাখা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরানো এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী যত্নে সংরক্ষণ করাই মূল কথা।