নেপাল-ভুটান যাওয়ার আগে সাবধান! এবার থেকে সঙ্গে রাখতে হবে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র

নয়াদিল্লি: ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই তিন দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট…
নয়াদিল্লি: ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই তিন দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেখাতে হবে অভিবাসন আধিকারিকদের। ২০২৫ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স (এক্সেম্পশন) অর্ডার’-এ সংশোধনী এনে ২০২৬ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকেরা স্থলপথে বা বিমানে নেপাল কিংবা ভুটানে যাতায়াত করলে পরিচয় প্রমাণের জন্য ভিসা ম্যানুয়ালে উল্লেখিত নথিগুলির মধ্যে অন্তত একটি দেখাতে হবে। অভিবাসন আধিকারিকেরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাইলে তা-ও দিতে হবে। নেপাল ও ভুটানের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। ভারত দিয়ে যাতায়াতের সময় তাঁদেরও নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।
তবে এই ছাড় সব ধরনের আন্তর্জাতিক যাত্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভারত-নেপাল বা ভারত-ভুটান সীমান্ত ব্যবহার করে অন্য কোনও দেশে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে ফেরার ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকদের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। নির্দিষ্ট অভিবাসন কেন্দ্র দিয়েই তাঁদের ভারতে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করতে হবে। একই ভাবে, নেপাল ও ভুটানের নাগরিকেরা অন্য কোনও দেশে যাতায়াত করলে তাঁদেরও বৈধ পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
চিন, হংকং হয়ে এলে লাগবে ভিসাও
সংশোধিত নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, নেপাল ও ভুটানের যে নাগরিকেরা চিন, ম্যাকাও, হংকং বা পাকিস্তান থেকে ভারতে আসবেন কিংবা ওই দেশগুলির কোনওটির মধ্য দিয়ে যাত্রা করবেন, তাঁদের কাছে বৈধ পাসপোর্টের পাশাপাশি বৈধ ভিসাও থাকতে হবে।
কাদের ক্ষেত্রে থাকছে বিশেষ ছাড়?
নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির মানুষের জন্য পাসপোর্ট, ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি এবং ভিসার নিয়মে ছাড় রাখা হয়েছে। সরকারি কাজে ভারতে প্রবেশ বা দেশত্যাগকারী ভারতীয় নৌবাহিনী, সেনা ও বায়ুসেনার সদস্যেরা এই সুবিধা পাবেন। সরকারি পরিবহণে তাঁদের সঙ্গে যাতায়াতকারী পরিবারের সদস্যরাও ছাড়ের আওতায় থাকবেন।
এ ছাড়া, ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বা তার আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং নথিভুক্ত শ্রীলঙ্কার তামিল নাগরিকদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। মেরামতির কাজে সামরিক জাহাজ নিয়ে ভারতে আসা বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অনুমতিপত্র থাকলে ছাড় মিলবে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভারতে প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের কাছে নথিভুক্ত কিছু তিব্বতি নাগরিকও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।
ধর্মীয় নিপীড়ন বা তার আশঙ্কায় আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা ছয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্যও বিশেষ ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যে ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা এই বিধানের আওতায় পড়বেন। বৈধ নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশ করা কিংবা প্রবেশের সময় বৈধ থাকলেও পরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নথি নিয়ে থাকা ব্যক্তিরাও এই সুবিধা পাবেন। তবে ভারতে থাকার জন্য তাঁদের উপযুক্ত শ্রেণির ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
২০২৫ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স আইনের ৩৩ নম্বর ধারায় দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই সংশোধনী এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
পার্টিতে ডেকে পরিবারের ৬ জনকে হত্যা! স্ত্রী-সহ ৭ খুনে অভিযুক্ত বেঙ্গালুরুর ক্যাবচালক
আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালতে পেশ, গ্রেফতার দেখাতে দেরি চলবে না, সুপ্রিম নির্দেশ