আচমকাই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু তৃতীয় শ্রেনির ছাত্রীর, ভাইরাল ভিডিয়ো
আচমকাই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারলো তৃতীয় শ্রেনির এক ছাত্রী। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব দিল্লির ময়ূর বিহার অঞ্চলের একটি স্কুলে। পড়ুয়ার পরিবারের অভিযোগ, সঠিক সময় বাচ্চাটিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়নি। যার জেরেই এই ঘটনা।
স্কুলের মধ্যে এই ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে ওই বালিকাকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয় যাওয়া হয়নি। এমনকী তাঁকে সিপিআরও দেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, বাচ্চাটিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সে মারা যেত না। যদিও স্কুলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পরেই মেয়েটিকে প্রথমে একটি চেয়ারে বসানোর চেষ্টা করেছিলেন একজন শিক্ষিকা। এর পর হাসপাতালেও ভর্তি করানো হয় তাকে। এ ছাড়াও স্কুলে এক জন নার্স উপস্থিত ছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, খেলার পর ক্লাস ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে পড়ে যায় ওই বালিকা। পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে তাকে দুহাত দিয়ে কোমরে ধরে থাকতেও দেখা যায়। তার পরেই অজ্ঞান হয়ে যায় সে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন এক জন শিক্ষিকা। তাকে তুলে একটি চেয়ারে বসানোর চেষ্টাও করেন তিনি। ঘটনার বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওই বালিকাকে। সেখান থেকে তাকে বিহারের অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ বর্তমানে বালিকার মরদেহ হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা হবে। সামাজিক মধ্যমে ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এই ঘটনা সামনে আসে। ভিডিয়োতে ক্লাসরুমের ভিতরের একটি দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সেই সময় ক্লাসে অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীদেরও দেখা গিয়েছে। ছাত্রীকে আচমকা পড়ে যেতে দেখে ছুটে আসেন তিনি। বালিকাকে তুলে বসানোর চেষ্টা করেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পুলিশের অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই বালিকার।
‘প্রিয়ারাণা৩১০১’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে এই ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছে। এমন দুর্ভাগ্যজনক ভিডিয়ো দেখে অনেক ব্যবহারকারীরাই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ স্কুল কর্তৃপক্ষের এ হেন আচরণে ক্ষুব্ধও হয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অনেক কম হয়। তবে মনে রাখা ভালো।শিশুদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট সবসময় হৃদপিণ্ডের কোনো সমস্যা থেকে শুরু হয় না। কিছু নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত শিশুদেরও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। ডাক্তারদের মতে, কিছু শিশু জন্মগতভাবে হৃদপিণ্ডের অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। আবার বংশগতভাবেও হৃদরোগের সমস্যা হয়ে থাকে।