সরকারি অনুষ্ঠানে শুরু করেই বন্ধ জাতীয় সঙ্গীত, বিতর্ক শুরু হতেই সাফাই দিলেন মন্ত্রী
সরকারি অনুষ্ঠানের শুরু হয়েছিল জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে বাজানো হয় ‘বন্দে মাতরম’। সেই সময়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। বুধবার হাওড়া পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ বাজানো শুরু হতেই তা বন্ধ করে দেওয়ায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন সকলেই। এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও কোনও প্রোটোকল ভঙ্গ করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন মন্ত্রী এবং আধিকারিকরা।
বুধবার, হাওড়া পুরসভার টাউন হলে পথকুকুরদের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট ফিডিং জ়োন চালু করার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানা-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ বাজানো শুরু হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর মাইকে ঘোষণা করে জানানো হয়, অনুষ্ঠানের সূচনা হবে‘বন্দে মাতরম’ দিয়ে। সেই অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন জাতীয় সঙ্গীত বাজানো শুরু করে তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
হাওড়া পুরসভার কমিশনার জানান, অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে। শুরুতে ‘বন্দে মাতরম’ এবং অনুষ্ঠানের শেষে ‘জন গণ মন’ পরিবেশন করা হয়। সেই প্রোটোকলই অনুসরণ করা হয়েছে। তবে জাতীয় সঙ্গীত মাঝপথে বন্ধ করার মতো কোনও ঘটনার কথা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
একই দাবি করেন উমেশ রাই। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়েছে। যিনি বোতাম টিপেছিলেন তার ভুলেই গান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটি ‘কোনও বিষয় নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যদি অনুষ্ঠানের প্রোটোকল অনুযায়ী শুরুতে ‘বন্দে মাতরম’ এবং শেষে ‘জন গণ মন’ বাজানোর কথা থাকে, তাহলে ভুল করে জাতীয় সঙ্গীত চালু হয়ে যাওয়ার পর সেটি মাঝপথে বন্ধ করা হলো কেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এতে জাতীয় সঙ্গীতের অপমান করা হয়েছে।