নেই পাকা রাস্তা, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় ডুলি করে
এই সময়, পুরুলিয়া: কোনও প্রত্যন্ত গ্রাম নয়। নয় পাহাড়ের কোনও চটি। খোদ পুরুলিয়া শহরের মধ্যেই এখনও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় ডুলি করে। ন্যূনতম পাকা রাস্তা না–থাকায় আজও রোগীকে ডুলি করে বা চাদরে মুড়ে পাঁজাকোলা করে অনেকটা পথ বয়ে নিয়ে যেতে হয় সাত নম্বর ওয়ার্ডের চিড়াবাড়ি বস্তি এলাকায়। বুধবারই নাককাটা কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পুনা বাউড়ি নামে এক বৃদ্ধা মারাত্মক জখম হলে পরিবারের লোকজন তাঁকে এ ভাবেই চাদরে জড়িয়ে প্রায় ২০০ মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে টোটোয় তোলেন। শহরের মাঝে এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ অন্তত ৬০টি পরিবার। পানীয় জল ও আলোর বেহাল দশার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের এই অবহেলার ছবি তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ বেলা বাউড়ি বলেন, ‘ফাঁকা জমি বিস্তর রয়েছে। কিন্তু হয়নি কোনও রাস্তা। যার জন্য কোনও যানবাহন শহরের এই এলাকায় আসতে পারে না। গর্ভবতী মহিলারাও সমস্যায় পড়েন। এবড়ো-খেবড়ো রাস্তায় পাঁজাকোলা করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে বহু মহিলার প্রসব পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে।’ ঝুমা বাউড়ি নামে আর এক বাসিন্দার কথায়, ‘না আছে এখানে জল বার হওয়ার ব্যবস্থা। না আছে পাকা রাস্তা। অথচ এই এলাকা পুরুলিয়া পুরসভার অন্তর্গত। বার বার পুরসভায় গিয়েও কোনও লাভ হয়নি।’ অজয় বাউড়ি বলছেন, ‘জন্মের পর থেকেই এই অবস্থা দেখছি এলাকার। শুধু প্রতিশ্রুতিই সার।’ বর্তমানে কোনও নির্বাচিত বোর্ড না-থাকায় পুরুলিয়া পুরসভা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে।
এই দুরবস্থার জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র জয়দীপ চট্টোরাজ বলেন, ‘আগামী দিনে আমাদের (বিজেপি) পুরসভা হবে। কথা দিচ্ছি, পুরুলিয়া পুর এলাকার প্রতিটি জায়গায় পাকা রাস্তা হবে।’ বিষয়টি জেলাশাসক সুধীর কণ্ঠমকে জানানো হলে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।