‘আমার মাথা আর রক্ত নিয়ে ধ্যান করবে বলেছে...’, গঙ্গারামপুরে কাটা মুন্ডু উদ্ধারের ঘটনায় নয়া তথ্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘আমার মাথা আর রক্ত নিয়ে ধ্যান করবে বলেছে…’, গঙ্গারামপুরে কাটা মুন্ডু উদ্ধারের ঘটনায় নয়া তথ্য

Spread the love

‘দাদা, তোর জামাই আমাকে খুন করে ফেলবে। দুই ছেলেকে নিয়ে দুর্গামন্দিরের আসনে বসে আমার মাথা আর রক্ত সামনে রেখে ধ্যান করবে বলেছে। তা হলেই নাকি ওর সব সমস্যার সমাধান হবে। আমার বুক-পিঠ মিলিয়ে মোট ১৫টি জায়গায় ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। রক্ত ঝরছে শরীর থেকে। দাদা, আমাকে বাঁচা!’

মঙ্গলবার ভোরে নিজের দাদাকে ফোন করে অস্ফুট স্বরে এ কথাই বলেছিলেন সীমা ঘোষ। বোনের মুখে এ কথা শোনা মাত্রই বাপের বাড়ির লোকেরা দৌড়ে এসেছিলেন সীমার শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু যত ক্ষণে তাঁরা পৌঁছেছেন, তত ক্ষণে সব শেষ। গিয়ে দেখেছেন, সীমার কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে দুর্গামন্দিরে বসে রয়েছে স্বামী রিন্টু দাস!

পুলিশ এবং সীমার বাপের বাড়ি সূত্রে খবর, বোনের ফোন পাওয়ার পরেই পুলিশে খবর দিয়েছিলেন সীমার দাদা। এর পরে পুলিশ গিয়ে রিন্টুর হাত থেকে সীমার কাটা মুন্ডু উদ্ধার করে। পরে বাড়ির দোতলার ঘর থেকে মেলে যুবতীর মাথাকাটা দেহ। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ২৮ বছর আগে রিন্টুর বাড়িতে তার বাবার উদ্যোগে দুর্গামন্দির তৈরি হয়েছিল। সেখানে প্রতি বছর দুর্গাপুজো করতেন রিন্টুর বাবা। একসময়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাসে অস্থায়ী কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করত রিন্টু। সে-ও পরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছে। কিন্তু দু’বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর থেকে আর পুজো হয়নি।

প্রতিবেশীদের দাবি, বাবার মৃত্যুর পরে অশৌচ পর্ব শেষ হলে চলতি বছর ফের দুর্গাপুজোর আয়োজন করার কথা ছিল রিন্টুর। তবে পরিবার সূত্রে খবর, পুজোর আয়োজন এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসা নিয়ে সীমার সঙ্গে শাশুড়ির সম্পর্কের অবনতি হয়। বাড়িতে দুর্গাপুজো করার বিষয়টি সীমা ভালো ভাবে নিতেন না। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল।

খুনের ঘটনায় সীমার দুই ছেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি, জেরায় দুই ছেলে জানিয়েছে, মাকে গলা কেটে খুন না করার জন্য তারা বাবাকে নিষেধ করেছিল। এই বক্তব্য ঘিরে তদন্তকারীদের মনে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার আগে কী হয়েছিল, দুই ছেলে ঠিক কী দেখেছিল এবং পরিবারের অন্য কেউ ঘটনার বিষয়ে কিছু জানতেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে ইতিমধ্যেই রিন্টুর মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আদালতে যাওয়ার পথে রিন্টু দাবি করে, ‘আমার মাথা ঠিক নেই। আমি ভুল করেছি।’ অন্য দিকে, রাজেশের অভিযোগ, খুনের আগে তাঁর বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়েছিল। পরে গলা কেটে খুন করে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে রিন্টু। দোষীর ফাঁসির সাজা দাবি করেছেন তিনি।

জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা জানান, খুনের ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে তদন্তের পাশাপাশি একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *