১০ মিনিটে ৩০০ কিমি চার্জ, Mercedes GLC Electric-এর বড় চমক

গুরুগ্রাম: ভারতের বাজারে নতুন GLC Electric লঞ্চ করল Mercedes-Benz। গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ৭৮.৫ লক্ষ টাকা। ভারতেই গাড়িটি অ্যাসেম্বল করা হচ্ছে। সংস্থার বৈদ্যুতিক SUV লাইনআপে এটিই এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী মডেল। নামের মিল থাকলেও পেট্রল ও ডিজেল চালিত GLC-র সঙ্গে এই বৈদ্যুতিক SUV-র প্রযুক্তিগত সম্পর্ক নেই বললেই চলে। সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক প্ল্যাটফর্মের উপর তৈরি গাড়িটিতে রয়েছে ৪০০ ভোল্ট আর্কিটেকচার এবং ৯৪kWh ব্যাটারি। সংস্থার দাবি, একবার সম্পূর্ণ চার্জে WLTP পদ্ধতিতে ৭১১ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে এটি।
লঞ্চের আগেই গাড়িটি ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। Mercedes-Benz জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত GLC Electric-এর জন্য ১,০০০-এর বেশি বুকিং জমা পড়েছে। ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত গাড়িটির বুকিং পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। দীপাবলির সময় থেকে গ্রাহকদের হাতে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
নজরকাড়া ডিজাইন, ৯১৪টি পিক্সেল আলোয় তৈরি গ্রিল
GLC Electric-এর অন্যতম আকর্ষণ সামনের আলোকিত গ্রিল। এতে রয়েছে ৯১৪টি পৃথক পিক্সেল লাইটিং এলিমেন্ট। গাড়ি পার্ক করা, চালু করা বা বন্ধ করার সময় এই আলো বিভিন্ন প্যাটার্নে জ্বলে ওঠে। Mercedes-এর পুরনো W114 এবং W108 মডেলের লম্বা ক্রোম গ্রিলের ডিজাইন থেকেও অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে।
হেডল্যাম্প ও টেলল্যাম্পের LED Daytime Running Light-এ রয়েছে Mercedes-এর তিনমুখী তারার নকশা। ভারতের বাজারে GLC 400 মডেলটি AMG Line প্যাকেজ-সহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবেই থাকছে ২০ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল এবং স্পোর্টি AMG ডিজাইনের সামনের ও পিছনের বাম্পার।
গাড়িটির বডিতে মসৃণ রেখা ও বাঁকানো প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত বডি ক্ল্যাডিং না থাকায় ডিজাইনটি বেশ পরিমিত। পিছনের দিকে টেলল্যাম্প ও Mercedes লোগো-সহ চকচকে কালো প্যানেলও নজর কাড়ে।
আকারের দিক থেকেও পেট্রল-ডিজেল GLC-র তুলনায় বড় বৈদ্যুতিক সংস্করণটি। দৈর্ঘ্য ১৪০ মিমি, প্রস্থ ২৩ মিমি এবং উচ্চতা ১২ মিমি বেড়েছে। হুইলবেস ৮৪ মিমি বেড়ে হয়েছে ২,৯৭২ মিমি।
ছয়টি রঙের বিকল্পে পাওয়া যাবে GLC Electric। এগুলি হল Sheer Blue, Lavender Silver, Obsidian Black, Opalite White Bright, Patagonia Red Metallic এবং Alpine Grey Solid। শেষের তিনটি রং Manufaktur অপশন হিসেবে পাওয়া যাবে।
ড্যাশবোর্ড জুড়ে ৩৯.১ ইঞ্চির Hyperscreen
গাড়ির কেবিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ৩৯.১ ইঞ্চির Hyperscreen। ড্যাশবোর্ডের প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্থ জুড়ে বিস্তৃত এই ডিসপ্লেটি কোনও তিনটি আলাদা স্ক্রিনের সমষ্টি নয়। বরং কোনও দৃশ্যমান বেজেল বা বিভাজন ছাড়াই তৈরি একটি একটানা প্যানেল। তবে এর ফলে HVAC বা গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো কিছু ফিচারের জন্যও ফিজিক্যাল বোতাম খুব কম রাখা হয়েছে।
স্ক্রিনটির গ্রাফিক্স স্পষ্ট এবং হাই-ডেফিনিশন। ব্যবহারও বেশ মসৃণ বলে জানা গিয়েছে। ডিসপ্লেতে রয়েছে ১১টি প্রিসেট থিম, যার মাধ্যমে চালক নিজের পছন্দমতো স্ক্রিন সাজিয়ে নিতে পারবেন।
কেবিনে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ, ধাতু এবং লেদারের মতো প্রিমিয়াম উপকরণ। সেন্টার কনসোলে রয়েছে ব্ল্যাক ওপেন-পোর উড ফিনিশ। AC ভেন্টে ব্যবহার করা হয়েছে নর্লড মেটালিক ডিজাইন। ১৫টি স্পিকার-সহ 3D Burmester সাউন্ড সিস্টেমের স্পিকার গ্রিলেও রয়েছে বিশেষ ফিনিশ। AMG Line সংস্করণ হওয়ায় মিলবে স্পোর্টি ফোর-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল। Black, Beech Brown এবং Ivory Beige, এই তিনটি রঙে ইন্টেরিয়র বেছে নেওয়া যাবে।
অন্যান্য ফিচারের তালিকায় রয়েছে ইলুমিনেটেড স্টার-সহ প্যানোরমিক গ্লাস রুফ, দুটি ওয়্যারলেস চার্জার, অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, AI-ভিত্তিক ফিচার, পাওয়ারড টেলগেট এবং বৈদ্যুতিকভাবে ভাঁজ করা যায় এমন পিছনের আসন। প্যানোরমিক ছাদে আলাদা সানশেড নেই, তবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কাচের অস্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
নিরাপত্তার জন্য রয়েছে আটটি ক্যামেরা ও পাঁচটি রাডার-সহ Level 2 ADAS, অটো পার্কিং অ্যাসিস্ট, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ন’টি এয়ারব্যাগ। সামনের আসনে ম্যাসাজ ও হিটিং ফাংশন থাকলেও ভেন্টিলেশন নেই। মালপত্র রাখার জন্য পিছনে ৫৭০ লিটারের বুট স্পেস এবং সামনে ১২৮ লিটারের ফ্রাঙ্ক রয়েছে।
৪৯০hp শক্তি, ১০ মিনিটে ৩০০ কিমি রেঞ্জ
ভারতে GLC Electric-এর 400 4Matic সংস্করণটি লঞ্চ হয়েছে। এতে রয়েছে ৯৪kWh ব্যাটারি প্যাক এবং দুটি বৈদ্যুতিক মোটর। একটি মোটর সামনের অ্যাক্সেলে এবং অন্যটি পিছনের অ্যাক্সেলে বসানো হয়েছে। ফলে পাওয়া যাবে All-Wheel Drive ব্যবস্থা।
দুটি মোটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি ৪৯০hp এবং টর্ক ৮০০Nm। সংস্থার দাবি, মাত্র ৪.৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারবে গাড়িটি। প্রায় আড়াই টন ওজনের একটি পারিবারিক SUV-র জন্য এই পারফরম্যান্স যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। এতে রয়েছে দুই-গতির গিয়ারবক্স। প্রথম গিয়ার দ্রুত গতি তোলার জন্য এবং দ্বিতীয়টি বেশি দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হবে।
WLTP শংসাপত্র অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জে ৭১১ কিলোমিটার চলবে GLC Electric। স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ২২kW AC চার্জার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ৩৩০kW DC ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করলে মাত্র ১০ মিনিটে ৩০০ কিলোমিটার চলার মতো চার্জ যোগ করা সম্ভব বলে দাবি Mercedes-এর।
তবে ভারতের সংস্করণে Rear-Wheel Steering এবং Air Suspension রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে রয়েছে Passive Damper।
BMW iX3-র আগে বাজারে Mercedes
বর্তমানে ভারতে GLC Electric-এর সরাসরি কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে আগামী বছর BMW iX3 বাজারে আসার কথা। ফলে প্রিমিয়াম বৈদ্যুতিক SUV-র বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।
দামের দিক থেকেও নতুন GLC Electric বেশ আকর্ষণীয়। পেট্রল চালিত GLC-র তুলনায় এর দাম মাত্র ১.৫ লক্ষ টাকা বেশি। ডিজেল সংস্করণের তুলনায় ব্যবধান মাত্র ৫০ হাজার টাকা। ফলে বেশি জায়গা, উন্নত প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেনের কারণে GLC Electric পেট্রল-ডিজেল GLC-র বিকল্প হিসেবেও ক্রেতাদের নজর কাড়তে পারে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business