আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন ভারতের সামরিক শক্তিকে শক্তিশালী করবে: রাজনাথ সিং

Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন যে, একবিংশ শতাব্দীতে সামরিক প্রস্তুতির জন্য প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অপরিহার্য। ভারতকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সেগুলোতে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ৩রা নভেম্বর ‘দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগ ২০২৬’-এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, আত্মনির্ভরশীলতার অর্থ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অংশীদার হয়ে ওঠার লক্ষ্যে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে জোরদার করাই হলো এর প্রকৃত উদ্দেশ্য।
রাজনাথ সিং বলেছেন যে, প্রতিরক্ষা সংস্কার, আত্মনির্ভরশীলতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি – এই বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনে এই চারটি বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিরক্ষা সংস্কার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, আত্মনির্ভরশীলতা দেশীয় প্রযুক্তির প্রসার ঘটাবে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ করে দেবে এবং রপ্তানি ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেবে।
যুদ্ধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো সামরিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। যুদ্ধ এখন স্থল, সমুদ্র ও আকাশসীমার গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশ, সাইবার এবং ডিজিটাল ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সাশ্রয়ী ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলো ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায়, দ্রুত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অস্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ
রাজনাথ সিং এএমসিএ (AMCA) যুদ্ধবিমান উন্নয়ন, প্রপালশন সিস্টেম, এটিএজিএস (ATAGS) কামান, আর্টিলারি গোলাবারুদ এবং যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের মতো কর্মসূচিগুলোতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিরক্ষা শিল্প করিডোর স্থাপন এবং অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডকে পুনর্গঠন করে সাতটি প্রতিরক্ষা সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানে (DPSUs) রূপান্তরের মতো উদ্যোগগুলো প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে শক্তিশালী করেছে। এটি এমএসএমই (MSMEs), স্টার্টআপ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২০২৫ সালকে ‘সংস্কারের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় সামরিক সমন্বয়, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
- প্রতিরক্ষা রপ্তানি বেড়ে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
- ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য এখন ৮০টিরও বেশি দেশে পৌঁছাচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা।