আলোর উৎসবে নতুন দিশার খোঁজ - 24 Ghanta Bangla News
Home

আলোর উৎসবে নতুন দিশার খোঁজ

Spread the love

দীপাবলি আর দিনকয়েক পরেই। আলোর মালায় সেজে উঠতে শুরু করেছে গ্রাম থেকে শহর। আর উৎসবের সময়কে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে বিশেষ এক উদ্যোগ। বোলপুর, বাঘেরখোল এবং সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক অঞ্চলের মহিলা শিল্পীদের হাতে তৈরি নানা সামগ্রীর কালেকশন সামনে নিয়ে এসেছে এক সংস্থা। হাতে-কলমে শিল্প-শিক্ষা দেওয়া ও প্রান্তিক এলাকার মানুষদের আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তাদের এই উদ্যোগ।

প্রদীপ, ছাতা, টি-শার্ট, মাটির থালা-গ্লাস, কুলো থেকে হ্যান্ডমেড নোটবুক, ক্রোশে তৈরি করেন তাঁরা। সঙ্গে হাতে তৈরি জুয়েলারি, জুটের সামগ্রী, কাশফুলের ডাঁটি দিয়ে তৈরি ঝুড়ি থেকে ব্লাউজ় ও অন্যান্য পোশাকে ব্লক প্রিন্টিং হোক বা ফ্যাব্রিক কালার দিয়ে ড্রয়িং, পান পাতার উপর ডিজ়াইন এবং ডাবের খোলের উপরে ফ্যাব্রিক কালারের কাজ রয়েছে তাদের কালেকশনে। সঙ্গে মাটির সামগ্রী ও কুলোর উপর ক্লে এবং ফ্যাব্রিক কালার দিয়ে বিভিন্ন নকশাও করেন শিল্পীরা।

Diwali Festival Of Lights

দাম মাত্র ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। পণ্যের ধরন, ডিজ়াইন ও কাজের ভিত্তিতে দাম আলাদা হয়। সরাসরি ফোন করে যে কোনও সামগ্রী অর্ডারও দেওয়া যায়। সংস্থার তরফে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিলাদের বিভিন্ন হাতের কাজ ও সৃজনশীল পণ্য তৈরিতে দক্ষ করে তোলা হয়। প্রথমে তিন মাসের, তারপরে আরও একটি কোর্সের মাধ্যমে। ১৮ বছর থেকে ৬০ বছরের বেশি বয়সের মহিলারাও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।

Diwali Festival Of Lights

সংস্থার তরফে উদ্যোক্তা পর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারতজুড়ে প্রায় ৫০ জন আর্টিস্ট ‘ইন্ডি টেম্পটেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মহিলারাও যাতে শিল্পী হিসেবে যোগ্য মর্যাদা পান ও আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, সহানুভূতি বা সমবেদনা নয়, বরং কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া দরকার।’

এই কাজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ মহিলা ও যুব গোষ্ঠীর বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা বাড়ানোর উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি। এর ফলে শিল্পীরা নতুন-নতুন কাজ শেখার এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পান। পর্ণা ও তাঁর সংস্থার লক্ষ্য, মহিলাদের শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের নির্দিষ্ট কাজ বা পেশার সঙ্গে যুক্ত করা। যাতে নিজেদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে স্বাধীন ভাবে তাঁরা ব্যবসা শুরু করেন এবং স্বনির্ভর পরিচয় তৈরি করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *