বঙ্গে খালি ১৮২ ডাক্তারি আসন
দেশে ৮৩৪টি মেডিক্যাল কলেজের ১,৪০,৩১৪টি এমবিবিএস আসনের মধ্যে যে দু’হাজারেরও বেশি আসন ফাঁকা পড়ে রয়েছে, তার ৯৯ শতাংশই বেসরকারি কলেজের। পশ্চিমবঙ্গের মতোই কর্নাটক, তেলঙ্গানা এবং রাজস্থানে িতন রাউন্ড কাউন্সেলিংয়ের পরেও কয়েকশো আসন শূন্য পড়ে রয়েছে। তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির ১৪টি ডিমড ইউনিভার্সিটিতে ৮২৪টি আসন ফাঁকা রয়েছে। কর্নাটকে রেকর্ড সাত রাউন্ড কাউন্সেলিংয়ের পরেও ১৯১টি আসন খালি থাকায়, অনেক বেসরকারি কলেজ হস্টেল ফি ধরে সাড়ে চার বছরের কোর্সে ৮০ লক্ষ টাকার মতো ছাড় ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই বেসরকারি কলেজগুলিতে ডাক্তারি পড়ার খরচ আনুমানিত দেড়–দু’কোটি টাকা। যদিও বাংলায় বেসরকারি কলেজে ডাক্তারি পড়ার খরচ এর চেয়ে কম। স্বাস্থ্য সূত্রে খবর, একই ধাঁচে ফি ছাড়ের ঘোষণা করতে পারে বঙ্গের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিও। কেন এই সঙ্কট? বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির আকাশছোঁয়া খরচই এই সঙ্কটের প্রধান কারণ। পদস্থ এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘বেসরকারি কলেজে একদিকে বিপুল ফি–এর বোঝা, অন্য দিকে ডাক্তারি পড়তে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের পারিবারিক সামর্থ্যের অভাবের জেরেই এই পরিস্থিতি।’ স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, দেশের ডাক্তারি শিক্ষায় যেটা সবচেয়ে নেতিবাচক, সেটা হলো, কমবেশি প্রায় সব রাজ্যেই সরকারির তুলনায় বেসরকারি ডাক্তারি আসনের সংখ্যাই বেশি বেড়েছে গত এক দশকে। প্রশ্ন উঠছে, আদৌ এত আসনের প্রয়োজন আছে কি না! আবার শুধু বাংলা নয়, সারা দেশেই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বার্ষিক ফি দাঁড়িয়েছে এখন গড়ে প্রায় ২৩ লক্ষ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা। চার-পাঁচ বছরের পড়াশোনা ও হস্টেল খরচ মিলিয়ে পুরো কোর্সের মোট খরচ পৌঁছে যাচ্ছে কোটির দোরগোড়ায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোটির বেশি। এ দেশে বেসরকারি ক্ষেত্রে পড়ার যা খরচ, চিন, ইউক্রেন, ফিলিপিন্সে তার চেয়ে অনেক কম খরচে ডাক্তারি পড়া যায়। এটিও আসন শূন্য থেকে যাওয়ার একটা কারণ।