Why is green pea called karahisuti: কড়াইশুঁটি নামে কেন কড়াই, কড়াইয়ের সঙ্গে কী যোগ? | Why is green pea called karahisuti etymology and science
শীতকাল মানেই ফুলকপির রোস্ট আর মুচমুচে কড়াইশুঁটির কচুরি! বাঙালি রসনায় শীতের এই সবুজ দানার কদর ঠিক কতটা, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। বাজারে আসা মাত্রই তরকারি থেকে ফ্রায়েড রাইস— সবখানেই এর অবাধ রাজত্ব। কিন্তু কখনও কি অদ্ভুত এই নামটা নিয়ে মনে প্রশ্ন জেগেছে? বলুন তো, নামটা ‘কড়াইশুঁটি’ হল কেন? এর সঙ্গে কি সত্যি রান্নার ‘কড়াই’-য়ের কোনও সম্পর্ক রয়েছে? নাকি পুরোটাই নেহাতই কাকতালীয়? আসুন, রসিয়ে এবং একটু বৈজ্ঞানিক মোড়কে জেনে নেওয়া যাক কড়াইশুঁটির নামের এই মজার রহস্য।
কড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা কী?
ভাষাতত্ত্ববিদ ও ইতিহাসবিদদের মতে, সংস্কৃত শব্দ ‘কলয়’ (Kalaya) থেকে পরিবর্তন হয়ে বাংলায় শব্দটি এসেছে ‘কলাই’। আর গোল গোল সবুজ মটরদানাগুলো যেহেতু লম্বা খোসা বা ‘শুঁটি’-র ভেতরে গাদাগাদি করে লুকিয়ে থাকে, তাই লোকে নাম দিয়ে দিল ‘কড়াই-শুঁটি’ অর্থাৎ কলাইয়ের শুঁটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকমুখে ‘কলাইশুঁটি’ ঘষেমেজে সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘কড়াইশুঁটি’।
নামের উৎপত্তি তো জানা গেল, তবে কড়াইশুঁটির বৈজ্ঞানিক নামটা জানেন কি? বিজ্ঞানের খাতায় কড়াইশুঁটির পোশাকি নাম হল— Pisum sativum (পিসাম স্যাটিভাম)। শুনতে বেশ ভারী-ভারী মনে হলেও, এর পেছনেও রয়েছে চমৎকার ইতিহাস। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা মটরশুঁটি চাষ করত এবং একে বলা হত ‘পিসন’ (Pison)। সেখান থেকেই এর নাম হয়েছে ‘পিসাম’। আর ‘স্যাটিভাম’ শব্দের অর্থ হল যা চাষ করা হয়। সুতরাং, বৈজ্ঞানিক নাম ঘাঁটলে দেখা যায়, এটি আদতে বুনো কোনও লতাপাতা নয়, বরং আদিকাল থেকে মানুষের যত্ন করে চাষ করা এক পুষ্টিকর সবজি।
তাহলে বুঝলেন তো, নামের মূলে কড়াই না থাকলেও, শীতের দিনে রসনা মেটানোর কড়াইয়ে কিন্তু এই সবুজ দানার জুড়ি মেলা ভার!