স্কুল শিক্ষকদের ভোটে দাঁড়ানো ঠেকাতে এসওপি তৈরি রাজ্য
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, স্কুলশিক্ষায় কর্মরত শিক্ষকদের বিষয়ে ২০১৮–এর মার্চের বিধিতে এই ধরনের কোনও নিয়মের উল্লেখ ছিল না। এতদিন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্পনসর্ড প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের পাশাপাশি এই ধরনের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভোটে লড়তে পারতেন। এমনকী বহু শিক্ষক–শিক্ষিকাই ভোটে লড়েছেন, মন্ত্রীও হয়েছেন। তার সব থেকে বড় উদাহরণ বর্তমান স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার দেওগাঁ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রামের বিধায়ক তথা মন্ত্রী অমিয় কিসকু ও পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি দক্ষিণের বিধায়ক ও মন্ত্রী অরূপকুমার দাস শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া, রাজ্যের বর্তমান বিধায়কদের ৩১ জন হলফনামায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের পেশা স্কুল শিক্ষকতা। নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের অন্যান্য রাজ্যে সরকারি শিক্ষকরা প্রত্যক্ষ ভাবে রাজনীতি করতে পারেন না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আজ ক্যাবিনেটে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজকের পর থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যে সব নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ হবে, তাঁরা কোনও রকম প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না।’ যার অর্থ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা— কোনও স্তরের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তিনি এ–ও জানান, বর্তমানে কর্মরত যে সব শিক্ষক-শিক্ষিকা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে না।