জলদস্যুদের কবলে ২০ জন নাবিক-সহ ইরানি ট্রলার, ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উদ্ধার ভারতীয় নৌ-সেনার - 24 Ghanta Bangla News
Home

জলদস্যুদের কবলে ২০ জন নাবিক-সহ ইরানি ট্রলার, ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উদ্ধার ভারতীয় নৌ-সেনার

Spread the love

আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়া ইরানের মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২০ জন কর্মীকে উদ্ধার করল ভারতীয় নৌ-সেনা। টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে ট্রলারটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় নৌ-সেনা। এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় বায়ুসেনাও। মুম্বই উপকূল থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে চালানো এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

কী ভাবে জলদস্যুদের কবলে পড়ে ট্রলারটি?

ইরানের মাছ ধরার ট্রলারটির নাম ‘আজ়িনি’ (Azini)। গত ২৯ অক্টোবর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে বান্দর বেইলা ও হাফুন শহরের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রলারটি ছিনতাই করে প্রায় ১২ জন সশস্ত্র জলদস্যু। সেই সময়ে জাহাজে ছিলেন ২১ জন ইরানি কর্মী এবং সোমালিয়ার দু’জন নিরাপত্তারক্ষী। জলদস্যুদের হাতে ট্রলারটি চলে যাওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

জলদস্যুদের বড় পরিকল্পনা ভেস্তে দিল ভারত

ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে সতর্কতা জারি করে ভারত মহাসাগরের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার । আশঙ্কা ছিল, জলদস্যুরা ট্রলারটিকে ‘মাদার শিপ’ হিসেবে ব্যবহার করে অন্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে পারে। অর্থাৎ, একটি বড় জাহাজকে ঘাঁটি বানিয়ে সেখান থেকে ছোট নৌকায় অন্য জাহাজে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে তারা।

৪৮ ঘণ্টার অভিযানে কী ভাবে উদ্ধার?

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অভিযানে নামে ভারতীয় নৌসেনা। একটি যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি সমুদ্রে নজরদারির জন্য বিশেষ বিমান মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘক্ষণ নজরদারির পরে আজ়িনির অবস্থান চিহ্নিত করে নৌসেনা। এর পরে ভারতীয় বায়ুসেনার C-17 বিমান থেকে পরিকল্পনামাফিক সমুদ্রে নামানো হয় মেরিন কম্যান্ডোদের। যৌথ বাহিনীর অভিযানে জলদস্যুদের মোকাবিলা করে ট্রলারটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ভারতীয় নৌসেনা। উদ্ধার করা হয় বন্দি ২০ জন কর্মীকেও। এই অভিযানে কেউ নিহত বা আহত হননি।

নভেম্বর অভিযান সফল হওয়ার পর ভারতীয় নৌসেনা ও বায়ুসেনার প্রশংসা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর কথায়, এই সাফল্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার প্রমাণ। সমুদ্রপথে যে কোনও বিপদের মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে নৌ-সেনা। ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সোমালি জলদস্যুদের সক্রিয়তা ফের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত এপ্রিল থেকে অগস্টের মধ্যে অন্তত ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমালিয়া অঞ্চলে জলদস্যুদের পুনরুত্থানের পিছনে মূল কারণ হলো ইরান-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ। সম্প্রতি এডেন উপসাগর এবং সংলগ্ন আরব সাগরে একাধিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে জলদস্যুরা। মাছ ধরার এই ট্রলারটিও বড় জাহাজে হামলার উদ্দেশেই হাইজ্যাক করা হয়েছিল বলে অনুমান। সেপ্টেম্বরে MT Honour 25 নামে একটি ট্যাঙ্কারকে ঘিরেও জলদস্যুদের হামলায় পাঁচ কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে আজ়িনি উদ্ধারের অভিযান ভারত মহাসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *