শব্দকে জব্দ করতে হটস্পট চিহ্নিত করে নজরদারি লালবাজারের
শ্যামগোপাল রায়
শব্দদূষণ ও নিষিদ্ধ বাজি রোখার ক্ষেত্রে শহরের বহুতল আবাসনগুলি যে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, তা মেনে নিচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন। কালীপুজো -দীপাবলি মুখে এবার সেই আবাসনগুলিকেই বিশেষ নজরদারির আওতায় আনতে কোমর বাঁধছে লালবাজার। গত বছর শহরের কোন কোন বহুতলে বা হাউজ়িং কমপ্লেক্সে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ বাজি ফেটেছিল, তার নির্দিষ্ট খতিয়ান তৈরি করে ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে শহরের বহু অভিজাত ও বড় আবাসনের ছাদ কিংবা খোলা প্রাঙ্গণে উৎসবের রাতে দেদার শব্দবাজি পোড়ানো হয়। নিরাপত্তারক্ষী বা আবাসনের নিজস্ব নিয়মনীতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। রাত দশটার পরেও দেদার ফাটানো হয় বাজি, যার শব্দ থেকেই স্পষ্ট, এগুলোর কোনটিই সবুজবাজি নয়। এবার তাই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শহরের প্রতিটি থানার পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিজেদের এলাকার রেকর্ড খতিয়ে দেখার।
যে সমস্ত বহুতল থেকে গত বার বাজির উপদ্রব সংক্রান্ত সর্বাধিক অভিযোগ কন্ট্রোল রুমে এসেছিল, সেগুলিকে ‘ হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই আবাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে, কোন বাজি ফাটানো উচিত। আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করলে সেটা যে বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে দিতে হবে সেটাও।
লালবাজারের এক কর্তা বলেন, আবাসনগুলির আবাসিক সমিতির সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করবে স্থানীয় থানা। উৎসবের দিনগুলিতে আবাসনের ছাদে নজরদারি, নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখা এবং বহিরাগতদের বাজি নিয়ে ঢোকা রুখতে স্পষ্ট নির্দেশিকা ধরানো হবে। শুধু সতর্ক করাই নয়, উৎসবের সন্ধ্যায় ওই চিহ্নিত আবাসনগুলির সামনে এবং সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ ও মোবাইল ভ্যান। পাশাপাশি, আবাসনের ছাদে গোপনে বাজি ফাটানো হচ্ছে কি না, তা দূর থেকে দেখতে বিশেষ ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যও নেওয়া হতে পারে।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, আবাসনের ভিতরে নিষিদ্ধ বাজি ফাটলে কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই নন, দায় এড়াতে পারবে না আবাসন কমিটিও। নিয়মভঙ্গকারীদের চিহ্নিত করতে দেরি করা চলবে না, থানাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লালবাজার। পরিবেশ কর্মী নব দত্তের কথায়, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতি বছরই আবাসনে বাজি তাণ্ডব চলে। কড়া নজরদারি না থাকার কারণেই ফি বছর এটাই চেনা ছবি।’ এবার লালবাজারের এই সুনির্দিষ্ট ‘হটস্পট’ কৌশল কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।
বিগত বছরে বেশি বাজি ফেটেছে যেখানে
বালিগঞ্জ, ভবানীপুর, নিউ আলিপুর, কসবা, কালিকাপুর, বড়বাজার,
গড়িয়াহাট, শিয়ালদহ, গিরিশ পার্ক, পাইকপাড়া, সিঁথি।
বাজি ফাটানোর নিয়ম
ফাটানো যাবে শুধু সবুজ বাজি
কালীপুজোয় রাতে ৮টা থেকে ১০টা
হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ