গোরু-মোষের দাপটে পথ হারাচ্ছে নিরাপত্তা
এই সময়, দুর্গাপুর: জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে দুর্গাপুর শহরের ভিতরের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গবাদি পশু। তার জেরে হামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্র্যাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে একাধিক বার খাটাল মালিকদের সচেতন করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কোনও হেলদোল নেই।
২৬ অক্টোবর দুপুরে পিয়ালা মন্দিরের সামনে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে মোটরবাইক নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন কাঁকসা থানার বিরুডিহা গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় সাউ। দুর্গাপুরে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময়ে হঠাৎ সঞ্জয়ের বাইকের সামনে কয়েকটি গোরু চলে আসে। বাইকের গতি কম করার আগেই একটি গোরুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। রাস্তার এক দিকে বাইক, অন্য দিকে ছিটকে পড়েন সঞ্জয়। হেলমেট পরে থাকায় মাথা বাঁচলেও, তাঁর শরীরে একাধিক জায়গায় চোট লাগে। একই ভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন স্টিল টাউনশিপের বাসিন্দা তথা দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের কর্মী দেবাশিস চৌধুরী। এখনও সে দিনের কথা মনে পড়লে আঁতকে ওঠেন দেবাশিস। বললেন, ‘কয়েক মাস আগে একদিন রাতে সিটি সেন্টার থেকে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলাম। সিএমইআরআই কলোনির পাশের রাস্তায় বসে ছিল একটা কালো গোরু। অন্ধকারে গোরুটাকে ঠিক মতো দেখতে পাইনি। গাড়ির হেডলাইটের আলোয় গোরুটাকে যখন দেখতে পেলাম সেই সময়ে কিছু করার ছিল না। গোরুটার সঙ্গে ধাক্কা লাগতেই আমার গাড়ি কয়েক ফুট উঁচুতে উঠে আছড়ে পড়ল। কোনওরকমে সামলে নিই। না সামলাতে পাড়লে বড়সড় বিপদ হতে পারত।’
রাস্তায় গবাদি পশু ঘুরে বেড়ানো ও বসে থাকার জন্য় ঘটা এমন আরও ঘটনার নজির রয়েছে। ডিভিসি মোড়ে মাঝেমধ্য়ে রাস্তার উপরে গোরু বসে থাকে। এক অটোচালক সমীর দাস বলেন, ‘হর্ন বাজালেও গোরুগুলো রাস্তা থেকে ওঠে না। বসে থাকে। পাশ কাটিয়ে যেতে হয়।’ স্টিল টাউনশিপের বাসিন্দা অভীক রায়ের কথায়, ‘একটা গোরু বা মোষ রাস্তায় থাকলে খুব একটা অসুবিধা হয় না। একসঙ্গে অনেকগুলি গোরু বা মোষ থাকলে ভয় হয়। নিজেদের মধ্য়ে গুঁতোগুঁতি করে পথচারী বা বাইক আরোহীদের ধাক্কা মারলে দুর্ঘটনা ঘটবে।’ এ দিকে, অনেক চেষ্টা করেও ডিভিসি মোড়ে জাতীয় সড়কের ধারের খাটাল সমেত স্টিল টাউনশিপে জেসি বোস রোডের ধারে অবস্থিত খাটালগুলি সরানো যায়নি। এ ছাড়া স্টিল টাউনশিপ সংলগ্ন ইস্পাতপল্লিতে একাধিক খাটাল রয়েছে। অভিযোগ, এখানকার খাটাল মালিকরা অধিকাংশ সময়ে গোরু-মোষ ছেড়ে দেয়। সেই গবাদি পশুগুলো রাস্তায় চড়ে বেরায়।
দুর্গাপুরের ট্র্যাফিক এসিপি রাজকুমার মালাকার বলেন, ‘এই ব্য়াপারে খাটাল মালিকদের একাধিক বার সতর্ক করা হয়েছে। সতর্ক করার পরে কিছুদিন গোরু, মোষ বেঁধে রাখেন খাটাল মালিকরা। মাস ঘোরার আগে ফের যে কে সেই।’ এক খাটাল মালিকের বক্তব্য, ‘গোরু-মোষ সব সময়ে বেঁধে রাখা যায় না। ঘাস-পাতা খাওয়ার জন্য় মাঝেমধ্য়ে ছেড়ে রাখতে হয়। সঙ্গে লোক থাকে। কিন্তু অনেক সময়ে গোরু-মোষগুলো রাস্তায় চলে যায়।’