ক্লিক ছাড়াই iPhone হ্যাকের অভিযোগ, ৯৯ দেশে Apple-এর সতর্কতা

মুম্বই: একযোগে ৯৯টি দেশের iPhone ব্যবহারকারীদের কাছে স্পাইওয়্যার হামলার সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে Apple। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জার্মানিও। সেখানে একাধিক আইনপ্রণেতা…
মুম্বই: একযোগে ৯৯টি দেশের iPhone ব্যবহারকারীদের কাছে স্পাইওয়্যার হামলার সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে Apple। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জার্মানিও। সেখানে একাধিক আইনপ্রণেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির iPhone-এ Pegasus-এর মতো নজরদারি স্পাইওয়্যার ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করেছে জার্মানির Federal Office for Information Security (BSI)।
চলতি বছরের আগস্টে একটি ব্লগ পোস্টে Apple তাদের Threat Notifications ব্যবস্থার কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও iPhone সম্ভাব্য mercenary spyware বা ভাড়াটে নজরদারি স্পাইওয়্যারের নিশানায় এসেছে বলে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে সংস্থাটি। iPhone-এর Lock Screen এবং Settings অ্যাপে এই নোটিফিকেশন দেখা যায়। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানায় Apple।
জার্মান আইনপ্রণেতাদের ফোনে Pegasus-এর মতো স্পাইওয়্যার?
Financial Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জার্মানির BSI দেশটির Bundestag-এর আইনপ্রণেতা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছে। তাঁদের জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে Apple-এর Threat Notification পেয়ে থাকলে নিজেদের iPhone-কে সম্ভাব্যভাবে হ্যাক হওয়া বলে ধরে নেওয়া উচিত। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর থেকে ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠাতে শুরু করে Apple।
জার্মান চ্যান্সেলর Friedrich Merz-এর মুখপাত্র Stefan Kornelius Financial Times-কে জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি এবং Apple-এর সতর্কবার্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিক স্পাইওয়্যার হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে BSI।
প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, একটি zero-click vulnerability কাজে লাগিয়ে Apple-এর ডিভাইসগুলিতে স্পাইওয়্যার ইনস্টল করা হয়েছিল। এই ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে কোনও লিঙ্কে ক্লিক করতে হয় না বা কোনও ফাইল খুলতে হয় না। এমনকী ফোনের মালিকের অজান্তেই ডিভাইসে নজরদারি সফটওয়্যার ঢুকে যেতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের ফোন নম্বর জানা থাকলেই এই আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়েছিল।
কী করতে পারে এই স্পাইওয়্যার?
জার্মান সরকার এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত স্পাইওয়্যারের নাম প্রকাশ করেনি। তবে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এটি ইজরায়েলের NSO Group-এর তৈরি Pegasus স্পাইওয়্যারের মতো। NSO Group-এর দাবি, তারা এই নজরদারি প্রযুক্তি শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশের সরকার এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছেই বিক্রি করে।
Pegasus-এর মতো স্পাইওয়্যার কোনও ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের উপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে হামলাকারীরা। এমনকী end-to-end encryption ব্যবহার করা হলেও মেসেজ পড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ফোনের Contacts, Calendar, GPS Location, ছবি এবং অন্যান্য সংরক্ষিত নথিও হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব।
৯৯টি দেশে Apple-এর সতর্কবার্তা
শুধু জার্মানিতেই নয়, আরও ৯৮টি দেশের iPhone ব্যবহারকারীদের কাছেও পৌঁছেছে Apple-এর Threat Notification। TechCrunch-এর রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে সব দেশের হামলার নেপথ্যে একই ব্যক্তি বা হ্যাকার গোষ্ঠী রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারী সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা Radwan Mortada শুক্রবার X-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, তিনিও ইমেলের মাধ্যমে Apple-এর Threat Notification পেয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে NSO Group-এর Pegasus স্পাইওয়্যারের লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে তিনিও ছিলেন।
Apple-এর এই সতর্কবার্তা ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক স্তরে সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে zero-click পদ্ধতিতে হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ব্যবহারকারীর কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ ছাড়াই স্মার্টফোনে নজরদারি চালানোর ঝুঁকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel