Teacher Shortage in India: একজন শিক্ষক, একই রুমে পাঁচটি ক্লাস; ভারতের স্কুলগুলির ভিতরের ছবি | One Teacher, Five Classes: Inside India’s Single Teacher Schools - 24 Ghanta Bangla News
Home

Teacher Shortage in India: একজন শিক্ষক, একই রুমে পাঁচটি ক্লাস; ভারতের স্কুলগুলির ভিতরের ছবি | One Teacher, Five Classes: Inside India’s Single Teacher Schools

Spread the love

শিক্ষকের অভাবের মূল্য কতটা দিতে হচ্ছে একটি শিশুকে?Image Credit: TV9 Bangla

একটি ছোট গ্রামের স্কুল। একই ঘরে বসে রয়েছে চারটি আলাদা শ্রেণির পড়ুয়া। একজন শিক্ষক একদল শিশুকে পড়াচ্ছেন, অন্য একটি দল স্লেটে অঙ্ক কষার অনুশীলন করছে। তৃতীয় দলটি অপেক্ষা করছে কখন তাদের পালা আসবে। এটি কোনও বিশেষ দিনের সাময়িক ব্যবস্থা নয়। প্রতিদিন এভাবেই চলে স্কুল। কারণ, স্কুলে যতজন পড়ুয়া রয়েছে, সব শ্রেণির জন্য শিক্ষক বলতে রয়েছেন মাত্র একজন।

সরকারের নিজস্ব স্কুল সমীক্ষা UDISE+-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে একজন শিক্ষক পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা ১,০৪,১২৫। এই স্কুলগুলিতে পড়াশোনা করে প্রায় ৩৩.৭ লক্ষ পড়ুয়া। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। তারপরও বাস্তব ছবিটা উদ্বেগজনক। দেশের লক্ষ লক্ষ শিশুকে এমন স্কুলে পড়াশোনা করতে হচ্ছে, যেখানে একজন শিক্ষকই কার্যত গোটা স্কুলের দায়িত্বে। প্রতিটি বিষয়, প্রতিটি শ্রেণি এবং প্রতিটি পড়ুয়ার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাঁকেই, একইসঙ্গে।

জাতীয় গড়ের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে শ্রেণিকক্ষের অন্য বাস্তবতা-

জাতীয় স্তরে ছবিটা অবশ্য তুলনামূলকভাবে ভালো দেখায়। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত (Pupil-Teacher Ratio) বর্তমানে প্রতি ২৬ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক। সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যানে এই অনুপাত ২৫:১ থেকে কমে ২৪:১ হয়েছে। অর্থাৎ, পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এই জাতীয় গড়ের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বিপুল বৈষম্য। ঠিক যেমন একটি দেশের গড় আয় দিয়ে ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে আয়ের ফারাক বোঝা যায় না, তেমনই শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাতের জাতীয় গড় দিয়ে প্রতিটি স্কুলের প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।

শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল যে তথ্য জমা দিয়েছে, তা অনুযায়ী, দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে অনুমোদিত শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৩,৫৭,৮৬২টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২,৯৭,০৫০টি শূন্যপদ রয়েছে প্রাথমিক স্তরে। অথচ এই স্তরেই পড়ুয়াদের শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। এই পর্যায়ে একজন শিক্ষকের অভাব পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু উত্তর প্রদেশেই প্রায় ১,৯৩,৮৬২টি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে, যা রিপোর্টে উল্লেখিত জাতীয় শূন্যপদের অর্ধেকেরও বেশি। মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক এবং রাজস্থানেও কয়েক হাজার করে শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। যে রাজ্যে হাজার হাজার শিক্ষক পদ খালি, সেখানকার স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতি জাতীয় পরিসংখ্যানে সচরাচর ধরা পড়ে না। বাস্তবে এর অর্থ হল, একজন শিক্ষককে একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির পড়ুয়াকে সামলাতে হচ্ছে। বয়স কিংবা পড়াশোনার স্তরের পার্থক্য উপেক্ষা করেই একাধিক শ্রেণিকে একই ঘরে বসিয়ে পড়াতে হচ্ছে। সবচেয়ে সমস্যায় থাকা প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলিতে দেখা যাচ্ছে সেই একই ছবি—একটি ঘর, একজন শিক্ষক এবং একাধিক শ্রেণির পড়ুয়া।

বিহার দেখাচ্ছে, বদল সম্ভব-

এই সমস্যার মধ্যেও একটি ইতিবাচক উদাহরণ রয়েছে বিহার। শিক্ষা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া এই রাজ্যে মাত্র এক বছরের মধ্যে একজন শিক্ষক পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা ১৭,৩৫৯ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১,৮৬৫-তে। অর্থাৎ, প্রায় ৮৯ শতাংশ কমেছে এই ধরনের স্কুলের সংখ্যা। শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ উদ্যোগের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। এই উদাহরণ প্রমাণ করে, সমস্যাটি চিরস্থায়ী বা অপরিবর্তনীয় নয়। কোনও রাজ্য সরকার শিক্ষক নিয়োগকে অগ্রাধিকার দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

তবে একই সময়ে কয়েকটি রাজ্যে পরিস্থিতির উল্টো ছবি দেখা গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডে একজন শিক্ষক পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে গবেষকদের একাংশের মতে, এর পিছনে বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ বা রিপোর্টিংয়ের পদ্ধতিগত পরিবর্তনও থাকতে পারে। অর্থাৎ, সরকারি শিক্ষা সংক্রান্ত পরিসংখ্যানকেও যাচাই না করে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

একজন শিক্ষকের অভাবের মূল্য কতটা দিতে হচ্ছে একটি শিশুকে?

একজন শিক্ষককে যখন একসঙ্গে পাঁচটি শ্রেণি সামলাতে হয়, তখন একটি শিশুকে ঠিক কী কী থেকে বঞ্চিত হতে হয়, তা শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষককে পাঁচটি শ্রেণির পড়ুয়াকে একসঙ্গে পড়াতে হলে কোনও একটি শিশুকে আলাদা করে সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে কার্যত অসম্ভব। অথচ কোনও শিশু পড়তে গিয়ে সমস্যায় পড়লে, একেবারে গোড়াতেই তার সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা জরুরি। প্রাথমিক স্তরে পড়া ও লেখার দক্ষতা গড়ে তোলার যে কর্মসূচি রয়েছে, তার সাফল্যও অনেকাংশে নির্ভর করে এই ব্যক্তিগত নজরদারির উপর।

কোনও শিশু বিয়োগের অঙ্ক বুঝতে একটু বেশি সময় নিতে পারে। আবার কারও নতুন শব্দের উচ্চারণ শিখতে প্রয়োজন হতে পারে বাড়তি ধৈর্য ও অনুশীলন। কিন্তু শিক্ষক যদি একসঙ্গে পাঁচটি শ্রেণির দায়িত্ব সামলান, তাহলে সেই শিশুর প্রয়োজনীয় সাহায্য নাও জুটতে পারে। এর জন্য কাউকে দায়ী করা যায় না। কারণ, একজন শিক্ষক যতই আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হোন না কেন, একসঙ্গে পাঁচজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

এই কারণেই শিক্ষক পদে শূন্যতার পরিসংখ্যানকে পড়ুয়াদের ভর্তির সংখ্যার মতোই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কয়েক দশক ধরে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রথম বড় অগ্রাধিকার ছিল প্রতিটি শিশুকে স্কুলের আওতায় নিয়ে আসা। সেটি নিঃসন্দেহে জরুরি ছিল। কিন্তু এবার প্রতিটি শ্রেণিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যাটি তুলনায় কম দৃশ্যমান হলেও ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় যে শেখার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে এটি।

প্রত্যেক অভিভাবকের যে প্রশ্নটি করা উচিত-

অভিভাবক কিংবা সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজেদের এলাকার শিক্ষা পরিস্থিতি জানতে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা জরুরি। আপনার জেলার স্কুলগুলিতে মোট কতগুলি শিক্ষক পদ অনুমোদিত রয়েছে? তার মধ্যে বর্তমানে কতগুলি পদ খালি?

জাতীয় স্তরের গড় পরিসংখ্যানের চেয়ে এই প্রশ্নের উত্তর অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব আপনার নিজের এলাকার স্কুলে একটি শিশু বাস্তবে কতটা শিক্ষকের নজরদারি ও মনোযোগ পাচ্ছে।

সূত্র: Unified District Information System for Education Plus (UDISE+), ২০২৪-২৫—এক-শিক্ষক পরিচালিত স্কুল এবং শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত সংক্রান্ত তথ্য; কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জমা দেওয়া শিক্ষক পদে শূন্যতার পরিসংখ্যান; রাজ্যভিত্তিক শিক্ষক ঘাটতির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *