আজও পেপারওয়ার্কে বন্দি পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেলপথ, বাড়ছে হতাশা
সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া
রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বয়স প্রায় ছ’মাস হতে চলল। কিন্তু এখনও জঙ্গলমহলের বহুল প্রতীক্ষিত পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেলপথের ঘোষণা হলো না। এই নিয়ে হতাশা বাড়ছে দু’জেলার রেলযাত্রীদের মধ্যে।
১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়েছিল। বিজেপির প্রায় প্রতিটি জনসভায় প্রচার করা হয়েছিল, তাদের সরকার গঠিত হলেই দ্রুত এই নতুন রেললাইন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। বছরখানেক আগে এই লাইনের ফিল্ড সার্ভের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিল রেলমন্ত্রক। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তত্ত্বাবধানে ড্রোনের সাহায্যে সেই সার্ভের কাজও শেষ হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই প্রকাশ্যে আসা সেই প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের মাঝে মোট আটটি নতুন ব্লক স্টেশন হবে, যার মধ্যে চারটি থাকবে পুরুলিয়া জেলায়।
অতীতে এই রুট চালুর দাবিতে বাঁকুড়ার প্রাক্তন সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া থেকে শুরু করে বাঘমুন্ডির প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নেপাল মাহাতো বহু আন্দোলন ও পদযাত্রা করেছেন। রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের আমলেও সার্ভের কথা বলা হলেও তা দীর্ঘকাল ঠান্ডা ঘরেই বন্দি ছিল। তবে জঙ্গলমহলে বিজেপির জনভিত্তি মজবুত হওয়ার পরে এই ইস্যু ফের সামনে আসে। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আশা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু আজও রেল বোর্ডের তরফ থেকে চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা করা হলো না।
নেপাল মাহাতোর বক্তব্য, ‘সরকার চাইলে যে কোনও প্রকল্প বা পরিষেবা শুরু করতে পারেন। তার জন্য বছরের পর বছর সার্ভে করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু কাজ করার মানসিকতার। গত ছ’মাসে সারা দেশে বহু প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। শুধু পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম লাইনের ঘোষণা হলো না। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের হতাশা বাড়ছে।’ মানবাজারের বাসিন্দা তথা পেশায় শিক্ষক অমিতাভ মিশ্রর কথায়, ‘রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে মানুষ আশা করেছিলেন, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতায় প্রকল্পটি গতি পাবে। সাংসদ তা নিয়ে আশ্বস্তও করেছিলেন। পুরুলিয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করতে দ্রুত এই কাজ শুরু করা দরকার।’
পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা দীপক কুমার জানান, এই লাইনের ঘোষণা নিয়ে মানুষ প্রবল আগ্রহ নিয়ে বসে রয়েছেন। এই রেলপথটি চালু হলে পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলার একটি বিরাট অংশের শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক বিরাট পরিবর্তন ঘটবে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের প্রাক্তন স্টেশন ম্যানেজার অচিন্ত্যময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই রেলপথ হলে লক্ষণীয় ভাবে পুরুলিয়া থেকে ঝাড়গ্রাম, খড়্গপুর ও হাওড়ার দূরত্ব কমে যাবে। এতে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলবে।’
পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো অবশ্য আশার আলো দেখিয়েছেন। গত সোমবার পুরুলিয়া স্টেশনে সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা নতুন এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এই রেললাইন প্রকল্প নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেন। সাংসদ বলেছেন, ‘এয়ারপোর্ট নিয়ে ভালো খবররে মতো এ বার পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেললাইন নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি সুখবর পাবেন। পেপারওয়ার্ক চলছে, যা তাড়াতাড়ি শেষ হবে।’