Work From Home-এ কাজ সহজ করবে ৭ ধরনের প্রয়োজনীয় গ্যাজেট
মুম্বই: বাড়ি থেকে কাজের অভ্যাস (Work From Home) এখন অনেক পেশাজীবীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বাড়ির একটি ছোট কোণই হয়ে উঠেছে অফিস। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই চোখের ক্লান্তি, ঘাড়ে ব্যথা, মনোযোগের অভাব এবং দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যায় পড়েন। সঠিক কিছু গ্যাজেট ব্যবহার করলে এই সমস্যাগুলি অনেকটাই সামলানো সম্ভব।
Work From Home-এর জন্য ভালো সেটআপ তৈরি করতে যে খুব বেশি টাকা খরচ করতেই হবে, তা নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ভালো মনিটর, নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন, ওয়েবক্যাম, মাইক্রোফোন, কিবোর্ড, মাউস এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের ব্যাকআপ ব্যবস্থা বেছে নেওয়া জরুরি।
ভারতের মতো দেশে বাড়িতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ছোট কাজের জায়গা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একই ঘর ভাগ করে নেওয়ার মতো বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে। তাই কোন গ্যাজেট আগে কেনা উচিত এবং কেনার সময় কী কী দেখা প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া দরকার।
কেনার আগে নিজের কাজের ধরন বুঝে নিন
কোনও গ্যাজেট কেনার আগে তিনটি বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
প্রথমত, সারাদিন কী ধরনের কাজ করেন? যাঁরা লেখালেখি, ডেটা অ্যানালিসিস বা কোডিং করেন, তাঁদের জন্য বড় স্ক্রিন এবং আরামদায়ক কিবোর্ড গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের নিয়মিত অনলাইন মিটিং করতে হয়, তাঁদের ভালো মাইক্রোফোন এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। ডিজাইনারদের ক্ষেত্রে রঙের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, আপনার ল্যাপটপে কী কী পোর্ট রয়েছে, তা দেখে নিন। USB-C পোর্টে যদি ভিডিও আউটপুট এবং চার্জিং সমর্থন থাকে, তাহলে একটি কেবল দিয়েই মনিটর সংযোগ এবং ল্যাপটপ চার্জ করা সম্ভব। শুধু HDMI থাকলেও সাধারণ মনিটর ব্যবহার করা যাবে।
তৃতীয়ত, ঘরের পরিবেশ কেমন, তা বুঝুন। বাড়িতে বেশি শব্দ হলে ANC হেডফোন কাজে আসবে। ঘরে আলো কম থাকলে ভালো ডেস্ক ল্যাম্প প্রয়োজন। আর যেখানে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, সেখানে UPS কেনা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
| গ্যাজেট | কেন প্রয়োজন |
| মনিটর | কাজের গতি ও আরামের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব |
| হেডফোন | বাইরের শব্দ কমানো এবং পরিষ্কার কলিং |
| কিবোর্ড ও মাউস | দীর্ঘক্ষণ হাতের আরাম |
| ওয়েবক্যাম ও মাইক্রোফোন | ভিডিও মিটিংয়ের জন্য |
| ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ও USB হাব | সঠিক বসার ভঙ্গি ও সংযোগ |
| UPS ও সার্জ প্রোটেক্টর | বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামা থেকে সুরক্ষা |
| স্মার্ট অ্যাক্সেসরিজ | অতিরিক্ত সুবিধা ও কাজের পরিবেশ উন্নত করা |
Work From Home-এর জন্য সেরা মনিটর
ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা মনিটর কেনা অন্যতম কার্যকর আপগ্রেড। একটি স্ক্রিনে ইমেল বা চ্যাট খুলে রেখে অন্য স্ক্রিনে মূল কাজ করা যায়। ফলে ছোট ল্যাপটপ স্ক্রিনে বারবার উইন্ডো পরিবর্তনের প্রয়োজন কমে এবং দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে বসে থাকার সমস্যাও এড়ানো যায়।
মনিটর কেনার সময় কী দেখবেন?
- স্ক্রিনের মাপ: ছোট ডেস্কের জন্য ২৪ ইঞ্চি ভালো বিকল্প। স্প্রেডশিট বা একাধিক উইন্ডো নিয়ে কাজ করলে ২৭ ইঞ্চি বেশি সুবিধাজনক।
- রেজোলিউশন: ২৪ ইঞ্চি মনিটরে Full HD বা ১৯২০×১০৮০ যথেষ্ট। ২৭ ইঞ্চির ক্ষেত্রে QHD বা ২৫৬০×১৪৪০ বেশি পরিষ্কার ছবি দিতে পারে।
- প্যানেল: IPS প্যানেলে বিভিন্ন দিক থেকে দেখলেও রঙ ও ছবি তুলনামূলক ভালো থাকে।
- রিফ্রেশ রেট: ১০০Hz বা তার বেশি হলে স্ক্রলিং মসৃণ লাগে। সাধারণ অফিসের কাজের জন্য ৬০Hz-ও যথেষ্ট।
- পোর্ট: HDMI ও DisplayPort-এর পাশাপাশি USB-C এবং Power Delivery থাকলে একটি কেবলেই ভিডিও ও চার্জিং করা যায়।
- চোখের আরাম: Flicker-free এবং Low Blue Light মোড রয়েছে কি না দেখে নিন।
ভারতে পাওয়া কয়েকটি মনিটর ও দাম
| মডেল | প্রকাশের সময়ের দাম | স্ক্রিন ও প্যানেল | উল্লেখযোগ্য পোর্ট |
| Samsung S3 24-inch | ৬,৬৯৯ টাকা | ২৪ ইঞ্চি, IPS, ১০০Hz | HDMI, VGA |
| Dell SE2425HM | ১০,৯৯৯ টাকা | ২৪ ইঞ্চি, IPS, ১০০Hz | HDMI, VGA |
| BenQ GW2490 | ১২,২৪৯ টাকা | ২৪ ইঞ্চি, IPS, ১০০Hz | Dual HDMI, DisplayPort |
| LG 24MR400 | ১১,২৪৯ টাকা | ২৪ ইঞ্চি, IPS, ১০০Hz | HDMI, VGA |
| Acer B247Y D6 | ১২,৯৯৯ টাকা | ২৩.৮ ইঞ্চি, IPS, ১২০Hz | USB 3.2 Hub, HDMI, VGA, DisplayPort |
এই মডেলগুলির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। Samsung S3, Dell SE2425HM এবং BenQ GW2490-তে উচ্চতা অনুযায়ী মনিটর অ্যাডজাস্ট করার সুবিধা নেই। LG-র স্ট্যান্ডও সাধারণ মানের। অন্যদিকে, Acer-এর ক্ষেত্রে ছোট শহরে সার্ভিস পাওয়ার সুবিধা তুলনামূলক দুর্বল হতে পারে বলে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দামগুলি ২০২৬ সালের প্রকাশকালীন তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া। কেনার আগে বর্তমান দাম এবং ওয়ারেন্টি যাচাই করে নিন।
বাড়িতে কাজের জন্য সেরা Noise-Cancelling Headphones
বাড়িতে অন্য সদস্যদের উপস্থিতি, রাস্তার শব্দ, ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনারের আওয়াজের মধ্যে কাজ করতে হলে ভালো হেডফোন প্রয়োজন। বিশেষ করে Active Noise Cancellation বা ANC প্রযুক্তি একটানা চলা শব্দ কমিয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে হঠাৎ কারও কথা বলা বা তীব্র শব্দ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না।
হেডফোন কেনার আগে যা দেখবেন
- ANC কতটা ভালোভাবে কাজ করে।
- অনলাইন মিটিংয়ের জন্য মাইক্রোফোনের মান।
- দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের জন্য ওজন ও কানের আরাম।
- অন্তত ৩০ ঘণ্টা বা তার বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ।
- Multipoint Connectivity, যাতে একই সঙ্গে ল্যাপটপ ও ফোনে সংযোগ রাখা যায়।
- ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে ব্যবহারের জন্য Wired Connection-এর সুবিধা।
ভারতে পাওয়া কয়েকটি জনপ্রিয় হেডফোন
| মডেল | প্রকাশের সময়ের দাম | বিশেষত্ব |
| Sony WH-1000XM6 | ৩৮,৩৩৯ টাকা | উন্নত ANC, LDAC |
| Bose QuietComfort Ultra Headphones | ৩৫,৯০০ টাকা | শক্তিশালী ANC, আরামদায়ক ডিজাইন |
| Sennheiser Momentum 4 Wireless | ২৬,৯৯০ টাকা | ANC চালু রেখেও ৬০ ঘণ্টার ব্যাটারি |
| Sony ULT Wear WH-ULT900N | ১৪,৯৮৯ টাকা | উন্নত ANC |
| Sennheiser Accentum Wireless | ১২,৯৯০ টাকা | ৫০ ঘণ্টার ব্যাটারি |
| JBL Live 770NC | ৯,৯৯৯ টাকা | Adaptive ANC, ৬৫ ঘণ্টার ব্যাটারি |
| Sony WH-CH720N | ৮,৭২৭ টাকা | ১৯২ গ্রাম ওজন, ৩৫ ঘণ্টার ব্যাটারি |
| CMF by Nothing Headphone Pro | ৭,৯৪৯ টাকা | LDAC, দীর্ঘ ব্যাটারি, Wired Option |
| JBL Tune 770NC | ৪,৯৯৯ টাকা | কম দাম, JBL App EQ |
বাজেট অনুযায়ী কোন হেডফোন কিনবেন?
- ১০,০০০ টাকার মধ্যে: ভালো ব্যাটারি ও মোটামুটি আরামের হেডফোন পাওয়া যায়। তবে ANC এবং মাইক্রোফোনের মানে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
- ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা: অধিকাংশ পেশাজীবীর জন্য এই বাজেটে ভালো ANC ও আরামদায়ক ডিজাইনের বিকল্প রয়েছে।
- ২৫,০০০ টাকার বেশি: উন্নত ANC এবং প্রিমিয়াম কমফোর্ট পাওয়া যায়। সারাদিন হেডফোন ব্যবহার করলে এই বিনিয়োগ কাজে আসতে পারে।
ভিডিও মিটিংয়ের জন্য ওয়েবক্যাম ও মাইক্রোফোন
ল্যাপটপের বিল্ট-ইন ওয়েবক্যাম অনেক সময় ৭২০p রেজোলিউশনের হয়। কম আলোতে ছবির মান আরও খারাপ হতে পারে। তাই যাঁদের নিয়মিত ভিডিও মিটিং করতে হয়, তাঁদের জন্য আলাদা ১০৮০p ওয়েবক্যাম ভালো বিকল্প।
Logitech C920e-এর মতো ওয়েবক্যাম ভারতের বাজারে পাওয়া যায়। কেনার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন।
- রেজোলিউশন: সাধারণ ভিডিও কলের জন্য ১০৮০p যথেষ্ট। স্ট্রিমিং না করলে 4K ক্যামেরা কেনার প্রয়োজন নেই।
- লো-লাইট পারফরম্যান্স: শুধু মেগাপিক্সেল নয়, কম আলোতে ছবির মান কেমন, তা দেখুন।
- Field of View: একা ভিডিও কল করলে ৭৮ ডিগ্রি যথেষ্ট। একাধিক ব্যক্তি একই ফ্রেমে থাকলে বেশি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল প্রয়োজন হতে পারে।
- Privacy Shutter: ক্যামেরা ব্যবহার না করার সময় ঢেকে রাখার সুবিধা থাকলে ভালো।
- ক্যামেরার অবস্থান: চোখের সমান উচ্চতায় ক্যামেরা রাখুন। নিচ থেকে ক্যামেরা তাক করলে ছবির মান ভালো দেখায় না।
মাইক্রোফোনের ক্ষেত্রেও খরচের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন মিটিংয়ে খারাপ অডিও অনেক সময় খারাপ ভিডিওর চেয়েও বেশি সমস্যা তৈরি করে। যাঁদের সারাদিন কল করতে হয়, তাঁরা আলাদা USB মাইক্রোফোন অথবা Boom Microphone-সহ হেডসেট কিনতে পারেন।
দীর্ঘক্ষণ কাজের জন্য কিবোর্ড ও মাউস
দিনের বেশিরভাগ সময় যাঁদের টাইপিং বা মাউস ব্যবহার করে কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য কিবোর্ড ও মাউসের আরাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিবোর্ড কেনার সময়:
- স্প্রেডশিট নিয়ে কাজ করলে Number Pad-সহ Full-size কিবোর্ড সুবিধাজনক।
- ছোট ডেস্ক হলে Compact Keyboard বেছে নিতে পারেন।
- Bluetooth এবং4GHz Receiver-সহ মডেল বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহার করা যায়।
- Mechanical Keyboard-এ টাইপিংয়ের অনুভূতি ভালো হলেও শব্দ বেশি হতে পারে। একই ঘরে অন্য কেউ থাকলে নীরব Membrane Keyboard সুবিধাজনক।
- Wrist Rest বা Low-profile Keys থাকলে দীর্ঘক্ষণ টাইপিংয়ে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
মাউস কেনার সময়:
মাউসের DPI সংখ্যার চেয়ে সেটি হাতের তালুতে কতটা ভালোভাবে বসছে, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের কবজিতে অস্বস্তি হয়, তাঁরা Ergonomic বা Vertical Mouse ব্যবহার করার কথা ভাবতে পারেন। তবে এই ধরনের মাউসে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগে।
দীর্ঘদিন ধরে হাত বা কবজিতে ব্যথা থাকলে শুধু গ্যাজেটের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ল্যাপটপ স্ট্যান্ড, ডক ও USB হাব
টেবিলের উপর সরাসরি ল্যাপটপ রেখে কাজ করলে স্ক্রিনের অবস্থান অনেক সময় চোখের তুলনায় নিচে থাকে। ফলে ঘাড় ঝুঁকিয়ে কাজ করতে হয়। একটি ভালো ল্যাপটপ স্ট্যান্ড স্ক্রিনকে চোখের কাছাকাছি উচ্চতায় তুলে দিতে পারে।
স্ট্যান্ড কেনার সময় উচ্চতা অ্যাডজাস্ট করার সুবিধা, মজবুত বেস এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে কি না দেখে নিন। অ্যালুমিনিয়ামের স্ট্যান্ড তাপ ছড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে, USB Hub বা Dock ল্যাপটপের সীমিত পোর্টের সমস্যা দূর করে। এর মাধ্যমে মনিটর, এক্সটার্নাল ড্রাইভ, ওয়েবক্যাম এবং অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করা যায়।
তবে শুধু গ্যাজেট কিনলেই হবে না। পিঠ ও ঘাড়ের আরামের জন্য সঠিক উচ্চতার চেয়ার এবং ডেস্কও গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য UPS ও Surge Protector
ভারতের অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং ভোল্টেজের ওঠানামা এখনও সমস্যা। কাজের মাঝখানে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট হতে পারে বা অনলাইন মিটিং বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এই সমস্যা এড়াতে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
- UPS: বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারির সাহায্যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। UPS-এর ক্ষমতা অনুযায়ী কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ পাওয়া যেতে পারে।
- Surge Protector: বিদ্যুতের আকস্মিক ভোল্টেজ বৃদ্ধি থেকে সংযুক্ত ডিভাইসকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। তবে এটি বিদ্যুৎ ব্যাকআপ দেয় না।
- Router Backup: ছোট DC UPS বা উপযুক্ত পাওয়ার ব্যাঙ্ক দিয়ে রাউটার চালু রাখা যায়। তবে রাউটারের ভোল্টেজ এবং কানেক্টরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না দেখে নিতে হবে।
- সঠিক ক্ষমতা নির্বাচন: UPS-এ ল্যাপটপ, মনিটর ও অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করলে সবগুলির মোট বিদ্যুৎ খরচ হিসাব করে প্রয়োজনীয় ক্ষমতার মডেল কিনুন।
নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের জন্য Wi-Fi আপগ্রেড
Work From Home-এর ক্ষেত্রে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড থাকলেই হবে না, বাড়ির প্রতিটি জায়গায় নির্ভরযোগ্য সিগন্যাল পাওয়াও প্রয়োজন।
রাউটার এমন জায়গায় রাখুন যেখানে চারপাশ খোলা থাকে। দেওয়াল, বড় আসবাব এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির খুব কাছে রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে।
সম্ভব হলে Ethernet Cable দিয়ে ল্যাপটপকে সরাসরি রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করুন। সাধারণত Wi-Fi-এর তুলনায় এই সংযোগ বেশি স্থিতিশীল। একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করা হলে Dual-band বা Wi-Fi 6 রাউটার বিবেচনা করতে পারেন। বড় বাড়িতে যেখানে কিছু জায়গায় Wi-Fi সিগন্যাল পৌঁছয় না, সেখানে Mesh Wi-Fi System কাজে আসতে পারে।
Work From Home-এর জন্য উপযোগী কিছু Smart Accessories
সব স্মার্ট অ্যাক্সেসরি অপরিহার্য নয়। তবে কয়েকটি জিনিস কাজের পরিবেশকে আরও সুবিধাজনক করে তুলতে পারে।
- Smart Plug: মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ল্যাম্প বা ফ্যান চালু ও বন্ধ করা যায়। কিছু মডেলে বিদ্যুৎ খরচের হিসাবও দেখা যায়।
- Adjustable Desk Lamp: আলোর রঙ ও উজ্জ্বলতা পরিবর্তন করা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যায় কাজের সময় সুবিধা হয়।
- Monitor Light Bar: মনিটরের সামনে ডেস্কে আলো দেয়, কিন্তু স্ক্রিনে সরাসরি ঝলক তৈরি করে না।
অজানা ব্র্যান্ডের সস্তা স্মার্ট ডিভাইস কেনার আগে সতর্ক থাকুন। সংশ্লিষ্ট অ্যাপের Privacy Policy, সফটওয়্যার আপডেটের সুবিধা এবং অপ্রয়োজনীয় Permission চাওয়া হচ্ছে কি না যাচাই করুন।
বাজেট অনুযায়ী Work From Home সেটআপ
| সেটআপ | প্রয়োজনীয় গ্যাজেট | আপাতত বাদ দিতে পারেন |
| প্রাথমিক | ২৪ ইঞ্চি Full HD IPS মনিটর, বাজেট ANC হেডফোন, সাধারণ কিবোর্ড-মাউস, ল্যাপটপ স্ট্যান্ড | আলাদা ওয়েবক্যাম, স্মার্ট অ্যাক্সেসরি |
| মাঝারি | ২৪-২৭ ইঞ্চি মনিটর, Mid-range ANC হেডফোন, Wireless Keyboard ও Mouse, ১০৮০p ওয়েবক্যাম, UPS | Dock, Mesh Wi-Fi |
| প্রিমিয়াম | ২৭ ইঞ্চি QHD বা USB-C মনিটর, Flagship ANC হেডফোন, Ergonomic Keyboard ও Mouse, Dock, UPS, Mesh Wi-Fi | বিশেষ কিছু নয় |
গ্যাজেট কেনার সময় যে ভুলগুলি এড়াবেন
শুধু কম দাম দেখে কোনও গ্যাজেট কেনা উচিত নয়। আপনার শহরে সংস্থার সার্ভিস সেন্টার না থাকলে পরে সমস্যা হতে পারে। একইভাবে, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রিমিয়াম হেডফোন কেনার সময় বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। নকল পণ্যের ঝুঁকি এড়াতে ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল স্টোর বা অনুমোদিত বিক্রেতাকে অগ্রাধিকার দিন।
এ ছাড়াও মনিটর ও ল্যাপটপের পোর্ট একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, মাইক্রোফোনের মান কেমন এবং ওয়ারেন্টি কত দিনের, তা দেখে নিন। একসঙ্গে সব গ্যাজেট কেনার প্রয়োজন নেই। কাজের সময় কোন জায়গায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে, সেটি বুঝে ধাপে ধাপে সেটআপ উন্নত করুন।
কেনার আগে শেষবার যা যাচাই করবেন
- ডেস্কের মাপ নিয়ে মনিটরের স্ক্রিন ও স্ট্যান্ডের জায়গা নিশ্চিত করুন।
- ল্যাপটপের পোর্ট এবং চার্জিং পদ্ধতি যাচাই করুন।
- হেডফোনের কলিং, আরাম এবং ব্যাটারি নিয়ে সাম্প্রতিক ক্রেতাদের মতামত পড়ুন।
- ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট এবং অন্তত দুটি বিক্রেতার দাম তুলনা করুন।
- ওয়ারেন্টি ও নিকটবর্তী সার্ভিস সেন্টারের তথ্য জেনে নিন।
- বিক্রেতা অনুমোদিত কি না নিশ্চিত করুন।
বাড়িতে কাজের জন্য ভালো সেটআপ তৈরি করতে একবারে অনেক টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। প্রথমে মনিটর, হেডফোন এবং কাজের সুবিধাজনক কিবোর্ড-মাউসের দিকে নজর দিন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়েবক্যাম, UPS, ল্যাপটপ স্ট্যান্ড এবং অন্যান্য অ্যাক্সেসরি যোগ করুন। সঠিকভাবে বেছে নেওয়া কয়েকটি গ্যাজেটই দীর্ঘ কর্মদিবসকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে তুলতে পারে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.