বিমানবন্দরে Temple খুলতে হবে না? মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে দাবি গোয়েলের
মুম্বই: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় নতুন স্বাস্থ্য-প্রযুক্তির ওয়্যারেবল Temple খুলে রাখতে হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল প্রশ্ন। এবার সেই বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিলেন Eternal-এর প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েল। তাঁর দাবি, Temple পরা থাকলে বিমানবন্দরের সাধারণ মেটাল ডিটেক্টর সক্রিয় হবে না। ফলে যাঁরা ভ্রমণের সময় এই ডিভাইস ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য বিষয়টি স্বস্তির হতে পারে।
সম্প্রতি X-এ অর্জুন ভারতী নামে এক ব্যবহারকারী গোয়েলকে প্রশ্ন করেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় Temple খুলতে হবে কি না। উত্তরে গোয়েল লেখেন, “না, এটি মেটাল ডিটেক্টর সক্রিয় করে না।”
তবে গোয়েলের এই বক্তব্যকে বিমানবন্দরের সব ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ, বিমানবন্দরে শুধু সাধারণ ওয়াক-থ্রু মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয় না। অন্যান্য স্ক্যানিং পদ্ধতিও রয়েছে। Temple খুলতে হবে না, এমন কোনও সার্বিক নিশ্চয়তা গোয়েল দেননি।
কী এই Temple ওয়্যারেবল?
দীপিন্দর গোয়েলের গবেষণামূলক উদ্যোগের অধীনে তৈরি হয়েছে Temple। সাধারণ স্মার্টওয়াচের মতো কবজিতে পরতে হয় না এই ডিভাইস। এটি কপালের এক পাশে, কানের কাছাকাছি মাথার ত্বকের উপর লাগিয়ে রাখতে হয়।
এই ওয়্যারেবলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল BrainFlow। নির্মাতাদের দাবি, এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় সংকেতও সংগ্রহ করে ডিভাইসটি।
Temple-এ ব্যবহার করা হয়েছে PPG বা Photoplethysmography প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে আলো ব্যবহার করে ত্বকের নীচে রক্তের পরিমাণের পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। প্রচলিত স্মার্টওয়াচে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হৃদস্পন্দনের হার অনুমান করা হয়। Temple-এর নির্মাতারা মাথার সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরবৃত্তীয় সংকেত পর্যবেক্ষণের জন্য একই প্রযুক্তি প্রয়োগ করছেন।
সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি মাঝে মাঝে পরিমাপ করার বদলে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সময়ের সঙ্গে তাঁদের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন।
কীভাবে মাথায় আটকে থাকবে Temple?
Temple-এ প্রচলিত কোনও স্ট্র্যাপ নেই। এর বদলে ত্বকের সঙ্গে ডিভাইসটি আটকে রাখতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরনের ডিসপোজেবল আঠালো প্যাচ। সংস্থার তরফে এগুলিকে বলা হচ্ছে Grips।
গোয়েল আগেই জানিয়েছেন, ব্যায়াম করার সময় এমনকি স্নান বা সাঁতার কাটার সময়ও ডিভাইসটি ব্যবহার করা যাবে। তবে আঠালো প্যাচ নিয়মিত বদলাতে হবে। সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতি দুই থেকে তিন দিন অন্তর নতুন Grip ব্যবহার করা উচিত।
ডিভাইসটি কপাল ও কানের মাঝামাঝি অংশে বসানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। গোয়েলের আগের বক্তব্য অনুযায়ী, এর নকশা এমন রাখা হয়েছে যাতে চশমা পরার সময়ও ব্যবহারকারীদের অসুবিধা না হয়।
ব্যাটারি একবার চার্জে প্রায় সাত দিন চলবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শারীরবৃত্তীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই নকশা তৈরি করা হয়েছে।
ভারতে কবে শুরু হচ্ছে প্রি-অর্ডার, দাম কত?
Temple-এর সাধারণ প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর। যাঁরা আগাম আগ্রহ প্রকাশ করে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য সাধারণ প্রি-অর্ডার শুরুর আগেই অর্ডার করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ছয়টি রঙে ডিভাইসটি বাজারে আসতে পারে। সেগুলি হল True Gold, Rose Gold, Black Mirror, Real Jade, Deep Blue এবং Purple Funk।
গোয়েল এর আগে ডিভাইসটির দাম প্রায় ১,০০০ ডলার হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এটিকে চূড়ান্ত দাম বা ভারতীয় বাজারের নির্ধারিত মূল্য হিসেবে ধরা উচিত নয়। অর্ডার করার সময় সংস্থার আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত দামই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত সংখ্যায় ডিভাইস তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। ফলে উৎপাদন ক্ষমতার উপর নির্ভর করে প্রি-অর্ডারের সুযোগ এবং ডেলিভারির সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।
BrainFlow কতটা নির্ভরযোগ্য, উঠছে প্রশ্ন
বিমানবন্দরের মেটাল ডিটেক্টর সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর মিললেও Temple নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে। সেটি হল, ডিভাইসটি মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন কতটা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে পারে?
গোয়েল এর আগে Temple-এর BrainFlow রিডিংয়ের সঙ্গে প্রচলিত গবেষণার যন্ত্রপাতির তথ্যের তুলনা করে কিছু গবেষণার ফল প্রকাশ করেছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ৬০টি পর্যবেক্ষণ বা তুলনামূলক সেশনে ডিভাইসটির তথ্যের সঙ্গে Time-Domain Near-Infrared Spectroscopy বা NIRS প্রযুক্তিতে পাওয়া তথ্যের তুলনা করা হয়েছিল। এই প্রযুক্তি টিস্যুর মধ্যে রক্তের পরিমাণ এবং অক্সিজেনের মাত্রার পরিবর্তন পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রাথমিক গবেষণায় পাওয়া পারস্পরিক সম্পর্কের ফল আশাব্যঞ্জক হতে পারে। কিন্তু শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে Temple মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ নির্ভুলভাবে মাপতে পারে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। একইভাবে, এই ডিভাইসের সাহায্যে কোনও রোগ নির্ণয় করা সম্ভব, এমন দাবির পক্ষেও এখনও পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
তাই Temple-এর রিডিংকে আপাতত চিকিৎসা পরীক্ষার বিকল্প বা চিকিৎসকের পরামর্শ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপর স্বাধীন পরীক্ষা এবং পিয়ার-রিভিউড গবেষণার ফল প্রকাশিত হলে ডিভাইসটির কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.