বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি, কলকাতায় স্বস্তির পূর্বাভাস
কলকাতা: এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ফের আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়। সোমবার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Murasu) । আবহাওয়া দফতরের…
কলকাতা: এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ফের আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়। সোমবার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Murasu) । আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চেন্নাই ও বিজয়ওয়াড়ার মধ্যবর্তী কোনও এলাকায় স্থলভাগে প্রবেশ করে অন্ধ্রপ্রদেশের উপর দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে সেটি। পরে এর গতিপথ হতে পারে হায়দরাবাদের দিকে। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে বাংলায় বড় কোনও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
দক্ষিণ আন্দামান সাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পর থেকেই এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে শনিবার সকালে সেটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল। পরে শনিবার রাতের দিকে শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
২৪ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা
আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘মুরাসু’ (Murasu)। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং এসক্যাপের (ESCAP) নির্ধারিত নামের তালিকায় এটি পরবর্তী নাম। নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত।
বাংলায় মেঘ, বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস
নতুন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে কার্যত নগণ্য থাকবে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের আবহাওয়া বিজ্ঞানী সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় এবার বাংলায় প্রভাব আরও কম হতে পারে। আকাশে কিছুটা মেঘের উপস্থিতি এবং বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত বড় ধরনের আবহাওয়াগত পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে না।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্ধ্র উপকূলে দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়
গত ২৮ অক্টোবর সকালে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলভাগে প্রবেশ করেছিল। বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১১৫ কিলোমিটার। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ পৌঁছেছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
কলকাতা থেকে ওই উপকূলীয় এলাকার দূরত্ব ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এবারও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলেই নতুন ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নজর রাখছেন আবহবিদরা। তবে বাংলার ক্ষেত্রে আপাতত স্বস্তির পূর্বাভাসই রয়েছে।