পুরভোটের দাবি এ বার পাঁশকুড়াতেও
এই সময়,পাঁশকুড়া: দুই পুরসভাতেই শেষবার ভোট হয় ২০১৭য়। আবার ২০২২–এ একসঙ্গেই দুই পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। দুই পুরসভাতেই ফের ভোট করার পরিবর্তে প্রশাসক বসিয়ে দেয় তৎকালীন রাজ্য সরকার। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে পুরভোট নিয়ে তৎপরতার মধ্যেই হলদিয়ার পুরভোট নিয়ে নানা বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অথচ পাশের পাঁশকুড়ায় ভোট নিয়ে কেন তিনি নীরব সেই প্রশ্ন তুলে হলদিয়ার পাশাপাশি পাঁশকুড়া পুরসভার নির্বাচনের দাবি তুললেন সেখানকার মানুষ। একই দাবি বিরোধীদেরও।
দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ পাঁশকুড়াবাসী। ২০১৭র পুরনির্বাচনে ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টিতে জয়ী হয় তৃণমূল। একটি আসনে জেতেন বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি। সিন্টু বর্তমানে পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক। কিন্তু চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে কোন্দল বাধে তৃণমূলে। কাউন্সিলারদের সমর্থন নিয়ে প্রথমে চেয়ারম্যান হন তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান। কিন্তু দলীয় নির্দেশ না মানায় সাসপেন্ড হন তিনি। চেয়ারম্যান হন নন্দকুমার মিশ্র। ২০২২–এর সেপ্টেম্বরে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ শেষের প্রায় চার বছর পরেও পুরসভায় ভোট না হওয়ায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছিল। বিধানসভা নির্বাচনে তার বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট। বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষিতে পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯ টিতে এগিয়ে বিজেপি। তিনটি ওয়ার্ডে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে তৃণমূল। নভেম্বর মাসে হলদিয়ায় পুরভোট হওয়ার কথা। হলদিয়া পুরসভাকে বিরোধীশূন্য করার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পাঁশকুড়ার নির্বাচন নিয়ে তিনি কিছু না বলায় এখানকার ভোট কবে হবে তা নিয়ে ধন্দে শহরবাসী। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবাও প্রশ্নের মুখে। হলদিয়ার সঙ্গে পাঁশকুড়াতেও নির্বাচন চাইছেন শহরবাসী থেকে বিরোধীরা।
পাঁশকুড়া শহরের বাসিন্দা কংগ্রেস নেতা কল্যাণ রায় বলেন, ‘কতদিন আর জনপ্রতিনিধি ছাড়া পুরসভা চলবে? রাজ্য সরকার হলদিয়ার ভোট নিয়ে তৎপর। কিন্তু পাঁশকুড়া নিয়ে ঘোষণা নেই কেন? আমরা চাই হলদিয়ার সঙ্গে পাঁশকুড়াতেও নির্বাচন হোক।’ পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি বলেন, ‘তৃণমূল সরকার রাজ্যের একাধিক পুরসভায় ভোট না করিয়ে প্রশাসক বসিয়ে দিয়েছিল। মাত্র পাঁচ মাস আগে ক্ষমতায় এসেছে আমাদের সরকার। বিভিন্ন পুরসভায় ভোট করাতে সরকার তৎপর। পাঁশকুড়াতেও ভোট হবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।’