৯ বার গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি, তদন্তে উধাও আঘাতের চিহ্ন! শেখ হাসিনার মামলায় নয়া মোড়
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে ৯ বার গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন এক যুবক। সেই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের…
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে ৯ বার গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন এক যুবক। সেই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন নুর হোসেন নামে ২৭ বছরের এক ব্যক্তি। কিন্তু পুলিশি তদন্তে উঠে এল সম্পূর্ণ অন্য তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, ওই যুবক আদৌ গুলিবিদ্ধ হননি। মামলার সমর্থনে জমা দেওয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরই শেখ হাসিনা-সহ ৮৪ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন মহম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক উকিয়ামং রাখাইন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন। সেখানে শেখ হাসিনা-সহ মোট ৮৪ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকের বক্তব্য, অভিযোগকারী ভুয়ো চিকিৎসার শংসাপত্র ব্যবহার করে মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, এই মামলায় কাউকেই নতুন করে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযুক্তদের মধ্যে আট জনকে অন্য মামলায় আগে থেকেই জেলে থাকতে দেখানো হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের এই মামলাতেও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা?
তদন্তের রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অভিযোগকারী নুর হোসেনের বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিক। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের তরফে এ ধরনের কোনও প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তবে আদালত চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
অন্যদিকে, নুর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
১ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি
গত বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আদালত চূড়ান্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অভিযোগকারীকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
এই মামলায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান-সহ আরও কয়েক জন নেতার নামেও। পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পর এবার আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।
হাসিনার পতনের আগেই ইউনূসকে প্রস্তাব! দুই দিন আগে কী হয়েছিল?
RAW-এর চর সন্দেহ, বিস্ফোরক পডকাস্ট! প্রাক্তন বাংলাদেশি বায়ুসেনা আধিকারিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য