Tensor G6-এ গতি বাড়ল, Pixel Fold-এর সফটওয়্যারে রয়ে গেল খামতি
মুম্বই: ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে Google-এর নতুন সংযোজন Pixel 11 Pro Fold। আগের প্রজন্মের তুলনায় ডিজাইন, পারফরম্যান্স এবং AI ফিচারে কিছু উন্নতি এনেছে সংস্থাটি। তবে বড়সড় কোনও পরিবর্তনের পথে হাঁটেনি Google। বরং ছোটখাটো আপগ্রেডের মাধ্যমেই নতুন মডেলটিকে আরও পরিণত করার চেষ্টা করেছে।
Pixel 9 Pro Fold-এ ডিজাইন ও সফটওয়্যারে বড় পরিবর্তন এনেছিল Google। Pixel 10 Pro Fold-এ গুরুত্ব পেয়েছিল AI প্রযুক্তি। নতুন Pixel 11 Pro Fold-এ সেই AI নির্ভরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে এ বার প্রতিযোগিতাও কঠিন। বাজারে এসেছে Apple-এর প্রথম ফোল্ডেবল iPhone Duo, যার ভারতে ২৫৬GB সংস্করণের দাম ২,৯৯,৯০০ টাকা।
একাধিক প্রজন্মের Pixel Fold ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, নতুন মডেলের হার্ডওয়্যার আগের তুলনায় অনেকটাই পরিণত। কিন্তু সফটওয়্যারের কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারের পর ফোনটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়, এটি একটি শক্তিশালী ফোল্ডেবল হলেও নিখুঁত অভিজ্ঞতা দিতে পারেনি।
ডিজাইন: আগের তুলনায় পাতলা ও কমপ্যাক্ট
Pixel 11 Pro Fold-এর ডিজাইনে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। তবে কয়েকটি ছোট পরিবর্তন ফোনটিকে আগের তুলনায় আরও আকর্ষণীয় করেছে। ক্যামেরা মডিউলের নকশায় সামান্য বদল এসেছে, হিঞ্জের কভার কিছুটা পাতলা হয়েছে এবং বাইরের ডিসপ্লের চারপাশের বেজেলও আগের তুলনায় সরু।
ফোনটির ওজন ২৩৯ গ্রাম। ভাঁজ করা অবস্থায় মাপ ১৫৫.২ x ৭৬ x ১০.১ মিমি। সম্পূর্ণ খুললে মাপ দাঁড়ায় ১৫৫.২ x ১৫০.৪ x ৫ মিমি। IP68 রেটিং থাকায় ধুলো ও জলের বিরুদ্ধে সুরক্ষাও পাওয়া যাবে।
ছোটখাটো পরিবর্তনগুলি মিলিয়ে ফোনটিকে Pixel 10 Pro Fold-এর তুলনায় কিছুটা পাতলা ও হালকা মনে হয়। আগের মডেলের তুলনায় সামান্য সরু হওয়ায় হাতে ধরতেও বেশি কমপ্যাক্ট লাগে। বিশেষ করে ফোন খুলে বড় ডিসপ্লে ব্যবহার করার সময় এই ডিজাইনের সুবিধা বোঝা যায়।
তবে বিল্ড কোয়ালিটিতে একটি সমস্যা রয়েছে। নীচের USB-C পোর্টের ধার কিছুটা ধারালো মনে হতে পারে। ফোনটির ২৩৯ গ্রাম ওজনের কারণে দীর্ঘক্ষণ এক হাতে ধরে রাখলে কনিষ্ঠ আঙুলের উপর চাপ পড়ে।
নতুন HiLight ল্যাম্পও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। পুরনো দিনের LED নোটিফিকেশন লাইটের মতো এটি কাজ করে। Gemini-র সঙ্গে কথা বলার সময় অথবা নির্দিষ্ট রঙ বরাদ্দ করা পছন্দের কোনও পরিচিতির ফোন এলে আলো জ্বলে ওঠে। তবে প্রচলিত নোটিফিকেশন লাইটের মতো এর ব্যবহারিক সুবিধা কিছুটা সীমিত।
ডিসপ্লে: উজ্জ্বলতা ভালো, কিন্তু বড় পরিবর্তন নেই
Pixel 11 Pro Fold-এ রয়েছে দুটি ডিসপ্লে। বাইরের স্ক্রিনটি ৬.৫ ইঞ্চির LTPS OLED, যার রেজোলিউশন ১,০৮০ x ২,৩৪২ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ৬০-১২০Hz। ভিতরের ফোল্ডিং ডিসপ্লে ৮ ইঞ্চির LTPO OLED, রেজোলিউশন ২,০৭৬ x ২,১৫২ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ১-১২০Hz।
বাইরের ডিসপ্লেতে রয়েছে Gorilla Glass Victus 2 সুরক্ষা। ভিতরের স্ক্রিনে ব্যবহার করা হয়েছে Ultra Thin Glass বা UTG।
গত বছরের মডেলের তুলনায় বাইরের ডিসপ্লে ৬.৪ ইঞ্চি থেকে বেড়ে ৬.৫ ইঞ্চি হয়েছে। তবে রেজোলিউশনে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। Google এ বার ডিসপ্লে আরও উজ্জ্বল হওয়ার দাবি করলেও ব্যবহারের সময় খুব বড় কোনও পার্থক্য চোখে পড়েনি।
HDR ছবি ও ভিডিও বেশ উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত দেখায়। প্রয়োজন হলে Natural কালার প্রোফাইল ব্যবহার করে রঙের স্যাচুরেশন কমানো যায়।
তবে ভিতরের ডিসপ্লের ক্রিজ বা ভাঁজের দাগ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। সামনে থেকে সরাসরি দেখলে তা খুব বেশি চোখে পড়ে না। কিন্তু আঙুল দিয়ে স্ক্রিনে সোয়াইপ করার সময় অথবা বাইরে থেকে তির্যক কোণে দেখলে ভাঁজের দাগ স্পষ্ট বোঝা যায়। স্ক্রিনের স্থায়িত্ব নিয়েও বিশেষ কোনও উন্নতি অনুভূত হয়নি।
সফটওয়্যার: AI-তে জোর, কিন্তু অ্যাপ অপ্টিমাইজেশনে সমস্যা
Pixel 11 Pro Fold-এ রয়েছে Android 16 এবং Google-এর Pixel UI। সংস্থা সাত বছরের OS আপডেট ও Security Maintenance Releases (SMR) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নতুন ফোনের অন্যতম আকর্ষণ Gemini Intelligence। এর Agentic AI সুবিধার মাধ্যমে ইমেল, ক্যালেন্ডার এবং ফাইল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করতে পারে Gemini। তবে এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য মাসে ১,৯৫০ টাকার Google AI Pro Plan প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য ভিজ্যুয়াল কার্ড বা চিপ হিসেবেও সামনে আনতে পারে AI।
সবচেয়ে কার্যকর নতুন ফিচারগুলির মধ্যে রয়েছে Gboard-এর Rambler। এটি ভয়েসের মাধ্যমে লেখা তৈরি করার সুবিধা দেয়। সাধারণ Speech-to-Text ব্যবস্থার তুলনায় এটি কথার প্রসঙ্গ ভালোভাবে বুঝতে পারে। দীর্ঘ বার্তাকে বুলেট পয়েন্টে সাজানো, অনুচ্ছেদ তৈরি করা এবং স্থানীয় ভাষা ও শব্দ শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এর দক্ষতা নজর কেড়েছে। বাংলা-সহ বিভিন্ন স্থানীয় ভাষার নাম ও পণ্যের নামও তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে ধরতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে।
Pixel 10 Pro সিরিজে Camera Coach আনার পর এ বার যুক্ত হয়েছে Magic Capture। বিশেষ অনুষ্ঠান বা ব্যস্ত মুহূর্তে ছবি তোলার সময় এই ফিচার কাজে আসতে পারে। ক্যামেরা লাইভ দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করে সেরা মুহূর্তগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেছে নেয়। ফলে প্রতিটি মুহূর্তে শাটার বাটন টিপতে হয় না।
Bubbles: একসঙ্গে তিনটি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা
নতুন Bubbles ফিচারটি মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। আগে দুটি অ্যাপ Split Screen-এ চালানোর পর এ বার তৃতীয় একটি অ্যাপও ভাসমান উইন্ডো হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
এই ফ্লোটিং উইন্ডোর সাহায্যে মূল কাজ বন্ধ না করেই WhatsApp বা অন্য কোনও অ্যাপে দ্রুত ঢোকা এবং বেরিয়ে আসা যায়। Bubble Dock-এ সর্বোচ্চ পাঁচটি অ্যাপ রাখা সম্ভব। তবে এক সময়ে একটি অ্যাপই ভাসমান উইন্ডো হিসেবে দেখা যাবে।
যাঁরা একই সঙ্গে একাধিক কাজ করেন, তাঁদের জন্য এই সুবিধা বেশ কার্যকর হতে পারে।
ফোল্ডেবল অ্যাপের সমস্যা এখনও কাটেনি
এত AI ফিচার থাকা সত্ত্বেও Pixel 11 Pro Fold-এর অন্যতম বড় দুর্বলতা অ্যাপ অপ্টিমাইজেশন। Android-এর অনেক অ্যাপ এখনও ফোল্ডেবল বা ট্যাবলেটের বড় ডিসপ্লের সঙ্গে ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারে না। কিছু অ্যাপে Split View বা দুই ভাগে কাজ করার সুবিধা থাকলেও অধিকাংশ অ্যাপের অভিজ্ঞতা এখনও অসম্পূর্ণ।
Instagram-এর ভিডিও দেখার সময় চারপাশে কালো বর্ডার দেখা যায়। YouTube অ্যাপে Tabletop Mode ব্যবহার করলে ভিডিও সম্পূর্ণ স্ক্রিনে চালানো যায় না। ডিসপ্লের উপরের Status Bar অস্বাভাবিকভাবে বড় হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। Netflix অবশ্য একই ধরনের পরিস্থিতিতে তুলনামূলক ভালোভাবে কাজ করে।
Apple-এর iPhone Duo বাজারে আসার পর ফোল্ডেবল ডিভাইসের জন্য অ্যাপ অপ্টিমাইজেশনের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। iOS-এর জন্য ডেভেলপাররা নতুন অভিজ্ঞতা তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। Android ফোল্ডেবলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন।
পারফরম্যান্স: Tensor G6-এ বড় উন্নতি
Pixel 11 Pro Fold-এ রয়েছে Google Tensor G6 প্রসেসর। ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিপসেটের সর্বোচ্চ ক্লক স্পিড ৪.১GHz। সঙ্গে রয়েছে ১৬GB LPDDR5X RAM এবং ৫১২GB UFS 4.X স্টোরেজ।
ভারতে এ বারও একটি স্টোরেজ সংস্করণই এনেছে Google। তবে গত বছরের তুলনায় সামান্য দাম বাড়লেও বেস ভ্যারিয়েন্টে ২৫৬GB-এর পরিবর্তে ৫১২GB স্টোরেজ পাওয়া যাচ্ছে।
TSMC-তে উৎপাদন সরানোর পর Google-এর প্রসেসর এ বার ৪GHz-এর সীমা পেরিয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারে এর প্রভাব বোঝা যায়। Android ও বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহারের সময় উল্লেখযোগ্য ল্যাগ বা স্টাটারিং দেখা যায়নি। Asphalt 9 Legends এবং Call of Duty: Mobile-এর মতো গেমও বেশ ভালোভাবে চালানো গিয়েছে।
ফোনে Vapour Chamber কুলিং ব্যবস্থা রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে ফোন কিছুটা গরম হয় ঠিকই, কিন্তু আগের মডেলগুলির মতো পারফরম্যান্সে বড় পতন দেখা যায়নি।
তবে উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম চালানোর ক্ষেত্রে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে PowerVR GPU-এর কারণে কিছু ভারী গেমে প্রতিদ্বন্দ্বী ফোল্ডেবলগুলির সঙ্গে পাল্লা দিতে সমস্যা হতে পারে।
ক্যামেরা: মূল ক্যামেরা ভালো, আলট্রা-ওয়াইডে হতাশা
Pixel 11 Pro Fold-এ ক্যামেরার হার্ডওয়্যারে বড় কোনও পরিবর্তন আনেনি Google। মূল ক্যামেরা সেটআপ আগের Pixel 9 Pro Fold ও Pixel 10 Pro Fold-এর মতোই।
ক্যামেরার স্পেসিফিকেশন:
- প্রধান ক্যামেরা: ৪৮ মেগাপিক্সেল, OIS, f/1.7
- টেলিফটো ক্যামেরা: ১০.৮ মেগাপিক্সেল, ৫X অপটিক্যাল জুম, OIS, f/3.1
- আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা: ১০.৫ মেগাপিক্সেল, ০.৫X, f/2.2
- সেলফি ক্যামেরা: ১০ মেগাপিক্সেল, বাইরের ও ভিতরের ডিসপ্লেতে
Google ইমেজ প্রসেসিং ও সফটওয়্যারে কিছু উন্নতি করলেও ছবির গুণমানে পরিবর্তন খুব বেশি নয়।
দিনের আলো এবং কম আলোতে প্রধান ক্যামেরা ভালো ছবি তুলতে পারে। ছবিতে ডিটেল ও ডায়নামিক রেঞ্জ যথেষ্ট ভালো। তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোর কারণে ছবির হাইলাইট অংশের ডিটেল হারিয়ে যেতে পারে।
আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরার পারফরম্যান্স তুলনামূলক দুর্বল। ছবিতে রঙ ও ডায়নামিক রেঞ্জ ভালো থাকলেও সূক্ষ্ম ডিটেল এবং টেক্সচারের অভাব রয়েছে। জুম করে দেখলে এই সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়। কম আলোতে ছবির মানও নরম হয়ে যায়।
৫X অপটিক্যাল জুমের টেলিফটো ক্যামেরা ভালো ডিটেল দিতে পারে। তবে ক্যামেরার Auto Lens Selection চালু থাকলে কাছের বিষয়বস্তুর ছবি তোলার সময় এটি কখনও কখনও টেলিফটো লেন্সের বদলে প্রধান ক্যামেরার ৫X ক্রপ ব্যবহার করে। ফলে ছবির ধার কমে যায়। Pro Camera Settings থেকে Manual Lens Selection চালু করলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
সেলফি ক্যামেরা দিনের আলোতে ভালো ছবি তুললেও কম আলোতে ছবিতে কিছুটা সফটনেস দেখা যায়। তবে ফোল্ডেবল ডিজাইনের সুবিধা নিয়ে বাইরের ডিসপ্লেকে ভিউফাইন্ডার হিসেবে ব্যবহার করে মূল ক্যামেরা দিয়েও সেলফি তোলা যায়। এতে আরও ভালো ডিটেল পাওয়া সম্ভব।
ভিডিওর ক্ষেত্রে পিছনের ক্যামেরাগুলির মান ভালো হলেও প্রো-লেভেলের স্টেবিলাইজেশন বা সব পরিস্থিতিতে স্থির ফ্রেম রেট আশা করা ঠিক হবে না।
ব্যাটারি: একদিন চলে, তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে
Pixel 11 Pro Fold-এ রয়েছে ৪,৮০৬mAh ব্যাটারি। আগের মডেলের তুলনায় ব্যাটারির ক্ষমতা কমেছে। তবে সাধারণ থেকে ভারী ব্যবহারে একবার চার্জে মোটামুটি পুরো দিন চালানো সম্ভব।
PCMark Battery Life পরীক্ষায় বাইরের ডিসপ্লে ব্যবহার করে ১৫ ঘণ্টা ১৩ মিনিট এবং ভিতরের ডিসপ্লে ব্যবহার করে ১১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট ব্যাকআপ পাওয়া গিয়েছে। গত বছরের মডেল একই পরীক্ষায় বাইরের ডিসপ্লেতে ১৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট চলেছিল। ফলে ব্যাটারি পারফরম্যান্সে নতুন মডেল পিছিয়ে রয়েছে।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে ৩০W তারযুক্ত চার্জিং এবং ২৫W Qi 2.2 ওয়্যারলেস চার্জিং। সঙ্গে ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। বক্সে অবশ্য চার্জার দেওয়া হচ্ছে না।
পরীক্ষায় ৩০ মিনিটে ব্যাটারির ৪৭ শতাংশ চার্জ হয়েছে। সম্পূর্ণ চার্জ হতে সময় লেগেছে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
Google Pixel 11 Pro Fold: চূড়ান্ত মূল্যায়ন
Pixel 11 Pro Fold আগের প্রজন্মের তুলনায় পরিণত একটি ফোল্ডেবল স্মার্টফোন। ডিজাইন আরও কমপ্যাক্ট হয়েছে, Tensor G6 প্রসেসরে পারফরম্যান্সের উন্নতি হয়েছে এবং Gemini, Rambler, Magic Capture ও Bubbles-এর মতো ফিচার ব্যবহারিক সুবিধা দেয়।
তবে ক্যামেরার হার্ডওয়্যারে বড় আপগ্রেড নেই। ব্যাটারির ক্ষমতা কমেছে এবং ফোল্ডেবল অ্যাপ অপ্টিমাইজেশনের সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে এত দামি ফোনে YouTube বা Instagram-এর মতো জনপ্রিয় অ্যাপের অভিজ্ঞতায় খামতি থাকা হতাশাজনক।
ভারতে Pixel 11 Pro Fold-এর দাম ১,৮৬,৯৯৯ টাকা। তুলনায় Samsung Galaxy Z Fold 8 Ultra-র দাম ১,৯৯,৯৯৯ টাকা। কম দাম এবং ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা Pixel-কে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তবে শক্তিশালী গেমিং পারফরম্যান্স ও ফোল্ডেবল অ্যাপের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে Samsung-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা কঠিন।
Pixel 11 Pro Fold-এর হার্ডওয়্যার যথেষ্ট উন্নত হলেও সফটওয়্যারের আরও পরিমার্জন প্রয়োজন। ফোল্ডেবল ফোনে AI ফিচার ও Google-এর নিজস্ব সফটওয়্যার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিলে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু ক্যামেরা, ব্যাটারি এবং অ্যাপ অপ্টিমাইজেশনকে অগ্রাধিকার দিলে কেনার আগে প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলগুলির সঙ্গেও তুলনা করে নেওয়া উচিত।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.