২৯ কিমির দাবি, বাস্তবে ১৭! Renault Duster Hybrid-এর ৫ খামতি
গুরুগ্রাম: ভারতীয় SUV বাজারে Renault Duster নামটির আলাদা পরিচিতি রয়েছে। প্রথম প্রজন্মের Duster-ই দেশে কমপ্যাক্ট SUV সেগমেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ডিজেল ইঞ্জিনের সঙ্গে অল-হুইল ড্রাইভ (AWD) ব্যবস্থার মতো সুবিধাও প্রথম দিকের এই গাড়িকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। এবার তৃতীয় প্রজন্মের Duster-এর Strong Hybrid সংস্করণ চালিয়ে দেখা গেল। পারফরম্যান্স, মাইলেজ, গিয়ারবক্স থেকে শুরু করে আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধা, সব মিলিয়ে নতুন SUV সম্পর্কে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।
১. পারফরম্যান্স দুর্দান্ত, কিন্তু মাইলেজ প্রত্যাশার তুলনায় কম
Duster Hybrid-এর অন্যতম বড় শক্তি এর ইলেকট্রিক মোটর। দ্রুত টর্ক সরবরাহ করার কারণে শহরের রাস্তায় গাড়ি চালানো এবং অন্য গাড়িকে ওভারটেক করা বেশ সহজ। অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিলেই দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়। হাইওয়েতে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতেও গাড়িটি যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ। দ্রুত ওভারটেক করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও হাতে থাকে।
তবে মাইলেজের ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা আলাদা। Renault-এর দাবি, এই SUV প্রতি লিটারে ২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষার সময় শহরের রাস্তায় চালিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পাওয়া গিয়েছে। সংস্থার দাবির সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার ব্যবধান যথেষ্ট বেশি। যদিও এই পারফরম্যান্সের SUV হিসেবে বাস্তব মাইলেজ একেবারে খারাপ নয়।
২. উন্নত গিয়ারবক্স, তবে হাইব্রিডের জন্য বেশি দাম
প্রচলিত CVT গিয়ারবক্সের তুলনায় Duster Hybrid-এর মাল্টি-মোড ট্রান্সমিশন বেশি স্বাভাবিক ও সরাসরি অনুভূতি দেয়। অ্যাক্সিলারেশন বাড়ানোর সময় CVT-র পরিচিত রাবার-ব্যান্ড এফেক্ট তেমনভাবে অনুভূত হয় না।
এই ট্রান্সমিশনে পেট্রোল ইঞ্জিনের চারটি গিয়ার এবং ইলেকট্রিক ড্রাইভের দুটি গিয়ার মিলিয়ে মোট আটটি অপারেটিং কম্বিনেশন রয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইঞ্জিন ও ইলেকট্রিক মোটরের শক্তি ব্যবহার করে গাড়ি চালানো যায়।
তবে এই প্রযুক্তির জন্য অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে। একই ধরনের টার্বো-পেট্রোল সংস্করণের তুলনায় Duster Hybrid-এর দাম প্রায় ১ লক্ষ টাকা বেশি। তাই অতিরিক্ত পারফরম্যান্স ও হাইব্রিড প্রযুক্তির সুবিধা এই বাড়তি দামের যোগ্য কি না, তা ক্রেতাদের বিবেচনা করতে হবে। শুধু বেশি গতি ও শক্তি চাইলে টার্বো-পেট্রোল সংস্করণও ভালো বিকল্প হতে পারে।
৩. আরামদায়ক সাসপেনশন, তবে পিছনের আসনে জায়গা সীমিত
Duster Hybrid-এর সাসপেনশনে রয়েছে Frequency Selective Damping প্রযুক্তি। ভাঙাচোরা রাস্তা বা ছোট-বড় গর্তের ধাক্কা সামলাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর। ফলে রাস্তার ঝাঁকুনি তুলনামূলক কম অনুভূত হয় কেবিনে। একই সঙ্গে গাড়ির বডি কন্ট্রোলও ভালো থাকে। অর্থাৎ আরামদায়ক রাইডের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রয়েছে।
পিছনের আসনেও দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীর বসার জন্য যথেষ্ট আরাম রয়েছে। আসনগুলি ভালো সাপোর্ট দেয়। তবে সামগ্রিকভাবে পিছনের জায়গা খুব বেশি নয়। লম্বা যাত্রীদের হাঁটু সামনের আসনে ঠেকে যেতে পারে। ফলে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারে গাড়িটি আরামদায়ক হলেও পিছনের যাত্রীদের জায়গার দিক থেকে এটি সেগমেন্টের সবচেয়ে প্রশস্ত SUV নয়।
৪. ছোট বুট স্পেস ও স্পেয়ার হুইল না থাকা বড় সমস্যা
দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেবিনে যথেষ্ট সুবিধা থাকলেও Duster Hybrid-এর বুট স্পেস টার্বো-পেট্রোল সংস্করণের তুলনায় ছোট। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যাওয়া বা দীর্ঘ সপ্তাহান্তের ভ্রমণে বেশি লাগেজ বহনের প্রয়োজন হলে এই সীমাবদ্ধতা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গাড়িতে স্পেয়ার হুইল নেই। দীর্ঘ দূরত্বে নিয়মিত যাতায়াত করেন, এমন ক্রেতাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পথে টায়ার পাংচার হলে অতিরিক্ত চাকা না থাকার অসুবিধা হতে পারে। তাই কেনার আগে বুট স্পেস এবং টায়ার সংক্রান্ত এই সীমাবদ্ধতাগুলি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
৫. ফিচারের ঘাটতি ও হার্ড প্লাস্টিক কমাচ্ছে প্রিমিয়াম অনুভূতি
হাইব্রিড সংস্করণের দাম বেশি হলেও ফিচারের তালিকা সেই অনুযায়ী সম্পূর্ণ নয়। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা অনুপস্থিত থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ফগ ল্যাম্প, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, Advanced Driver Assistance Systems (ADAS) এবং অটো-ডিমিং Inside Rear View Mirror (IRVM)।
কেবিনের উপকরণেও কিছুটা হতাশ হতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় হার্ড প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা এই দামের গাড়িতে প্রত্যাশিত প্রিমিয়াম অনুভূতি দিতে পারে না। এগুলি এককভাবে গাড়ি না কেনার কারণ না হলেও, আরও উন্নত মানের উপকরণ এবং বেশি ফিচার থাকলে হাইব্রিড সংস্করণের বাড়তি দাম যুক্তিযুক্ত মনে হত।
শেষ পর্যন্ত কাদের জন্য Renault Duster Hybrid?
নতুন Duster Hybrid-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ইলেকট্রিক মোটর, স্বচ্ছন্দ হাইওয়ে পারফরম্যান্স এবং উন্নত মাল্টি-মোড গিয়ারবক্স। সাসপেনশনের আরামও গাড়িটির অন্যতম ইতিবাচক দিক।
তবে ২৯ কিলোমিটার প্রতি লিটারের ঘোষিত মাইলেজের তুলনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেকটাই কম। পাশাপাশি ছোট বুট, স্পেয়ার হুইলের অভাব, কিছু প্রয়োজনীয় ফিচারের অনুপস্থিতি এবং কেবিনের উপকরণের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যাঁরা উন্নত হাইব্রিড প্রযুক্তি ও শহর-হাইওয়ে দুই জায়গাতেই ভালো পারফরম্যান্স চান, তাঁদের কাছে Duster Hybrid আকর্ষণীয় হতে পারে। কিন্তু যাঁদের কাছে বেশি মাইলেজ, বড় লাগেজ রাখার জায়গা এবং দামের তুলনায় বেশি ফিচার গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের কেনার আগে টার্বো-পেট্রোল সংস্করণের সঙ্গেও তুলনা করে দেখা উচিত।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business