দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ভারত ২.৬ শতাংশে! পাকিস্তানে দারিদ্র পৌঁছল ২৩ শতাংশে
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দক্ষিণ (Poverty Rate)এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত গত ১২ বছরে চরম দারিদ্র্যের হার…
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দক্ষিণ (Poverty Rate)এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত গত ১২ বছরে চরম দারিদ্র্যের হার কমিয়েছে ২৭.১ শতাংশ থেকে মাত্র ২.৬ শতাংশে। একই সময়ে পাকিস্তানে চরম দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশে। এই তথ্য প্রকাশের পর পাকিস্তানি গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর পভার্টি অ্যান্ড ইকুইটি ব্রিফ অনুসারে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে এনেছে। (Poverty Rate)চরম দারিদ্র্যের সংজ্ঞা অনুযায়ী দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ের মানুষের সংখ্যা ভারতে দ্রুত কমেছে। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত ৪.২০ ডলারের দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ীও ভারতে হার কমেছে ৫৭.৭ শতাংশ থেকে ১৬.১ শতাংশে। বিশ্বব্যাংক একে বিশ্বের দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আরও দেখুনঃ ২২০ মিটারের কাচের স্কাইওয়াক! একতা নগরে পর্যটকদের জন্য বিশেষ চমক মোদীর
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী ভোগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, যেমন খাদ্য ভর্তুকি। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ, যা কর্মক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ।
অন্যদিকে পাকিস্তানের চিত্র ভিন্ন। (Poverty Rate)বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে পাকিস্তানে চরম দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৩ শতাংশ। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০১৮-১৯ সালের ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গ্রামীণ ও শহর উভয় এলাকাতেই দারিদ্র্য বেড়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বন্যা এবং অন্যান্য সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এই তথ্য প্রকাশের পর পাকিস্তানি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, নীতিগতাকার্য এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করছেন। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, প্রতিবেশী দেশের অগ্রগতির সঙ্গে তুলনা করে পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, শুধু সংখ্যার তুলনা না করে নিজ দেশের কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
ভারতের সাফল্যের পেছনে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকেও উন্নতি দেখা গেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে এখনও কিছু মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে অগ্রগতির গতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
দুই দেশের এই বৈপরীত্য দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন চিত্রকে সামনে এনেছে। একদিকে ভারত দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তান অর্থনৈতিক চাপের মুখে দারিদ্র্য বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাই এখানে মূল পার্থক্য তৈরি করেছে।