স্টিয়ারিং বা হ্যান্ডল নেই, তবুও কোন উপায়ে বাঁকের মুখে ভারসাম্য বজায় রাখে ট্রেন?

ভারতের যাতায়াত ব্যবস্থায় ট্রেনের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক দূরে কোথাও যাওয়া হোক কিংবা প্রতিদিনের প্রয়োজনে যাতায়াত, নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন রেলের উপরে নির্ভর করেন।

সাধারণত গাড়ি বা বাইকের ক্ষেত্রে তা কন্ট্রোল করার জন্য স্টিয়ারিং বা হ্যান্ডল থাকে। রাস্তার বাঁকের মুখে সেই স্টিয়ারিং হুইল বা হ্যান্ডল ব্যবহার করে গাড়ি বা বাইকের অভিমুখ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে, খেয়াল করে দেখবেন ট্রেনের চালকের কেবিনে কোনও স্টিয়ারিং বা হ্যান্ডল থাকে না। তা সত্ত্বেও কী ভাবে এত বড় আকারের ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করেন লোকোপাইলট?

চাকার বিশেষ আকার
ট্রেনের ধাতব চাকার আকার কখনই ফ্ল্যাট হয় না। চাকাগুলির আকার হয় শঙ্কু বা Cone-এর মতো। এই বিশেষ আকারের কারণে ধাতব রেল লাইনের উপরে বাঁকের মুখে ট্রেনের চাকা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।

শঙ্কু আকারের এই চাকার প্রান্তদেশ কিছুটা উঁচু হয়। এই অংশকে বলে Flange। রেললাইনের বাঁকের পরিমাণ বেশি হলে যাতে চাকা লাইন থেকে পড়ে না যায় সেই কারণেই এই Flange থাকে।

রেললাইনের বিশেষ ডিজ়াইন
বাঁকের মুখে ট্রেনের চাকা যাতে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, সেই কারণে রেলের ট্র্যাক বিশেষ ভাবে ডিজ়াইন করা হয়। সাধারণ বাঁকের মুখে রেললাইনের বাইরের দিকের অংশ ভেতরের অংশের তুলনায় কিছুটা উঁচু করে তৈরি করা হয়।

ট্র্যাকের এই বিশেষ ডিজ়াইনের কারণে বাঁকের মুখে ট্রেন লাইন থেকে পড়ে যায় না। এর পাশাপাশি, এই বিশেষ ডিজ়াইন Centrifugal Force-কেও প্রতিহত করতে সাহায্য করে। ফলে ট্রেনের প্যাসেঞ্জাররাও বাঁকের মুখে ছোট-বড় ঝাঁকুনি অনুভব করেন না।

ট্রেনের বিশেষ গঠন
সাধারণত ট্রেনের মধ্যে থাকে বগি সিস্টেম। একেকটি বগি বা কমপার্টমেন্ট একে অন্যের সঙ্গে বিশেষ সাসপেনশনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই বিশেষ সিস্টেম বাঁকের মুখে ঝাঁকুনি সহজে অ্যাবজ়র্ব করতে পারে। ফলে বাঁকের মুখে ট্রেন সঠিক ভাবে চলতে পারে।

ট্রেনের স্পিড কন্ট্রোল এবং বিশেষ ফিচার
বাঁকের মুখে ট্রেনে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে তা সুনিশ্চিত করতে চালক ট্রেনের স্পিড নিয়ন্ত্রণ করেন। ট্রেনের গতি বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করে কমিয়ে আনেন চালক। এর পাশাপাশি, অনেক আধুনিক ট্রেনে থাকে বিশেষ Tilting Technology। এই প্রযুক্তির জন্য বাঁকের মুখে ট্রেনের গতিবেগ বেশি থাকলেও দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। যাত্রীরাও স্বচ্ছন্দ্যে যাত্রা করতে পারেন।