বাংলায় বসে ISI র গুপ্তচরবৃত্তি! উত্তরবঙ্গ থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন ভারতীয় সেনা কর্মী - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাংলায় বসে ISI র গুপ্তচরবৃত্তি! উত্তরবঙ্গ থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন ভারতীয় সেনা কর্মী

Spread the love

আলিপুরদুয়ার: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার (ISI Spy)অভিযোগে উত্তরবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন কর্মী। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা এলাকা থেকে…

আলিপুরদুয়ার: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার (ISI Spy)অভিযোগে উত্তরবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন কর্মী। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পাঞ্জাব পুলিশের একটি বিশেষ দল। ধৃত ব্যক্তি পাঞ্জাবের তরন তারন জেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ল্যান্স নায়েক পদে কর্মরত ছিলেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশের সামরিক বাহিনীর গোপন তথ্য পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ। (ISI Spy)এই ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী হাসিমারা এলাকায় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ছাউনি থাকায় গোটা বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১কোটি হিন্দু! বিজেপি কর্মীদের তুলোধোনা যোগীর

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত প্রাক্তন সেনাকর্মীর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল পাঞ্জাব পুলিশ। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ সামনে আসে। এরপর তাঁর সন্ধানে পাঞ্জাব পুলিশের একটি দল উত্তরবঙ্গে পৌঁছয়।

শুক্রবার হাসিমারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। (ISI Spy)এই অভিযানে স্থানীয় হাসিমারা থানার পুলিশও পাঞ্জাব পুলিশের দলকে সহযোগিতা করে। ধৃত ব্যক্তি কীভাবে উত্তরবঙ্গে পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে কতদিন ধরে থাকছিলেন , তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হাসিমারা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছেই রয়েছে এই অঞ্চল। এখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেনাছাউনি রয়েছে। ফলে এমন একটি সংবেদনশীল এলাকায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন সেনাকর্মীর গ্রেফতারি নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃত ব্যক্তি একা এই কাজ করতেন না। তাঁর সঙ্গে আরও একজন সহযোগী যুক্ত থাকতে পারে। তবে সেই সহযোগী বর্তমানে পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

মামলায় রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সৌমিত্র সিনহা সরকার। তিনি জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য পাঞ্জাব পুলিশ তাঁর গতিবিধি অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আইএসআই-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত গোপন ও শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে আদালতে জানায় পুলিশ।

শিলিগুড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে অভিযুক্তকে পেশ করা হলে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ড দেওয়া হয়। এর ফলে পাঞ্জাব পুলিশ তাঁকে নিজেদের রাজ্যে নিয়ে গিয়ে পরবর্তী তদন্ত চালাতে পারবে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই গুপ্তচরবৃত্তির চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর কোন ধরনের তথ্য তাঁর কাছে ছিল, সেগুলি কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কার কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পাঞ্জাবের ফাজিলকা থানায় গত ৮ অক্টোবর এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই ধৃতের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বা সরকারি গোপনীয়তা আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই আইনের আওতায় দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা পাচারের মতো অপরাধের তদন্ত করা হয়। তবে ধৃতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না।

এদিকে, এই ঘটনায় পলাতক সহযোগীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ব্যক্তি কি সরাসরি আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, নাকি তথ্য সংগ্রহ ও আদানপ্রদানের কাজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। ধৃত প্রাক্তন সেনাকর্মীর মোবাইল ফোন, যোগাযোগের সূত্র এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা করেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *