এক কামড়েই মন জয়! জিভে জল আনা স্বাদ, ‘কুলচা রাজধানী’ বলে কোন শহরকে?
এক কামড়েই মশলাদার স্বাদ, রুটির মতো নরম তবে কিছুটা ফোলা, আর মাখনের সুবাস— কুলচার এই স্বাদের টানেই মাইলের পর মাইল ছুটে যান খাদ্যপ্রেমীরা। সঙ্গে মশলাদার ছোলা, চাটনি এবং এক গ্লাস ঠান্ডা লস্যি। শুধু পেট ভরানো নয়, রসনাতৃপ্তির সেরা ঠিকানা হিসেবে অমৃতসরের কুলচা আজও বিশ্ব জুড়ে ভোজনরসিকদের প্রথম পছন্দ। সেই কারণেই হয়তো অমৃতসর ভোজনরসিকদের কাছে পরিচিত ‘কুলচা রাজধানী’ হিসেবে।
অলিগলিতে কুলচার সুবাস ও GI স্বীকৃতি
অমৃতসরের ব্যস্ত বাজার থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়— সর্বত্রই মিলবে কুলচার দোকান। সকালের জলখাবার হোক কিংবা দুপুরের ভোজ, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটক সকলেরই প্রথম পছন্দ কুলচা। এমনকী ভারত সরকারের ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’তে স্থান পেয়ে অমৃতসরের কুলচা।

অলিগলিতে কুলচার সুবাস ও সরকারি স্বীকৃতি
অমৃতসর শহরে পা রাখলেই এই পদের আসল দাপট বোঝা যায়। ব্যস্ত বাজার থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়— সর্বত্রই মিলবে কুলচার দোকান। সকালের জলখাবার হোক কিংবা দুপুরের ভারী ভোজ, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ এই কুলচাই। এমনকী ভারত সরকারের পর্যটন পোর্টাল ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’তেও অমৃতসরের পর্যটকদের জন্য অবশ্যই চেখে দেখার মতো খাবারের তালিকায় এই কুলচাকে শীর্ষে রাখা হয়েছে।
শিকড় ও তন্দুরের জাদু
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কুলচার ইতিহাস আধুনিক অমৃতসর শহরের চেয়েও অনেক পুরোনো। এর উৎস পশ্চিম এশিয়ার রুটি তৈরির প্রাচীন প্রথা এবং তন্দুর থেকে। তবে অনেকের ধারণা, খামিরি রুটি থেকেই ধাপে ধাপে রূপ বদলে তৈরি হয়েছে কুলচা। এর পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় রাঁধুনিরা কুলচার ভিতরে মশলাদার পুর ভরে নতুন স্বাদ নিয়ে আসেন, যা অমৃতসরের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

তৈরির কৌশল ও নিজস্বতা
অমৃতসরি কুলচার প্রধান জাদু লুকিয়ে রয়েছে প্রধান উপকরণ ময়দা মাখাতে। সেই কারণেই প্রতি পরতে পরতে থাকে এক বিশেষ স্বাদ। কুলচার ভিতরে মূলত মশলা মাখানো সুস্বাদু আলুর পুর দেওয়া হয়। এর পরে তা সেঁকে নেওয়া হয় মাটির তন্দুরে। সবশেষে উপর থেকে গলানো মাখন বা ঘি ছড়িয়ে গরম-গরম পরিবেশন করা হয়।

সকালের শুরু থেকে ঐতিহ্যের ধাবা
অমৃতসহরের মানুষের কাছে কুলচা কেবল খাবার নয়, এক অবিচ্ছেদ্য অভ্যাস। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় প্রতিদিন সকালে পছন্দের দোকানে হাজির হন কুলচা খেতে। পর্যটকদের জন্যও শহরে রয়েছে বেশ কিছু নামকরা ও জনপ্রিয় ঠিকানা।

সাধারণ রুটির চেয়ে কেন আলাদা?
উত্তর ভারতের নানা প্রান্তে কুলচা কিংবা দিল্লিতে কুলচা পাওয়া গেলেও অমৃতসরের কুলচার স্বাদ সম্পূর্ণ আলাদা। এখানকার কুলচা নিজেই একটি সম্পূর্ণ আহার। এটি বাইরে থেকে যেমন নরম তুলতুলে, তেমনই ভিতরে থাকে সুস্বাদু পুর। আর শেষে গরম কুলচার উপরে দেওয়া হয় মাখন, যা আরও লোভনীয় করে তোলে এই পদকে।

দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি
বর্তমানে অমৃতসরি কুলচার কদর শুধু পাঞ্জাবে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বিভিন্ন বড় শহর ছাড়াও বিদেশের মাটিতে নানা পঞ্জাবি রেস্তরাঁয় এখন মিলছে এই পদ। তবে ভোজনরসিকদের এক বাক্যে স্বীকারোক্তি— আসল অমৃতসরি কুলচার সেই স্বাদ পেতে হলে পা রাখতেই হবে অমৃতসরে।

সংস্কৃতি ও শহরের অবিচ্ছেদ্য প্রতীক
অমৃতসর বহু সুস্বাদু খাবারের জন্য পরিচিত হলেও কুলচা এই শহরের প্রধান পরিচিতি। এখানকার সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে গিয়েছে এর স্বাদ। তাই স্বর্ণমন্দিরের শহরে গেলেই খাঁটি অমৃতসরি কুলচা চেখে না দেখলে পর্যটকের সফর সম্পূর্ণ হয় না।