রামায়ণের মর্মার্থ অক্ষুন্ন থাকলেও প্রাধান্য সমাজকে
দিনটি ছিল ১৬ জানুয়ারি। ১৯৭৬। বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ঊষা গঙ্গোপাধ্যায় তৈরি করেছিলেন জাতীয় নাট্যদল ‘রঙ্গকর্মী’। তিনি আর নেই, তবুও সেই দল ৫০ বছর পার করেছে এ বছরের গোড়াতেই। ঊষার মৃত্যুর পরে এই দলের পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অনিরুদ্ধ সরকার। তাঁরই নির্দেশনায় তপন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হলো ‘রাম কি লড়াই’ নাটকটি। এটি আসলে লক্ষ্মীনারায়ণ লালের অত্যন্ত চিন্তাশীল ও সঙ্গীতপ্রধান একটি নাট্য প্রযোজনা। যেখানে নাট্যকার রামায়ণের পরিচিত আখ্যানের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক গভীরে প্রবেশ করতে পেরেছেন। রামায়ণের মর্মার্থ ও ভাব অক্ষুন্ন রেখে খুঁজতে চেয়েছেন আরও এক অন্তর্নিহিত যোগসূত্র। যা তাঁর নাটকে অনেকাংশেই প্রতিফলিত।
নাটকটি রামগুলাম নামের এক অতি সাধারণ মানুষের গল্প বলে। রামের চরিত্র ঘোরাঘুরি করে সেই সব মানুষের মধ্যে যাদের অবলম্বন শুধুই পরিশ্রম ও দিনের শেষে নিশ্চিন্তে ঘুম। নাটক যত এগোতে থাকে, ততই অভিনয় ও বাস্তবের মধ্যেকার সীমারেখাটি অস্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করে। অর্থাৎ বাস্তব ধ্যান-ধারণা বদলাতে থাকে। এখানে এমন এক লড়াই ও দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে সমাজ মুখ্য হয়ে ওঠে।

নাটকের মূল ভিত জোরালো হয়েছে হৃদয়স্পর্শী সঙ্গীত, হাস্যরস, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, গভীর আবেগ ও দুরন্ত প্রতীকী ব্যবহারের মাধ্যমে এবং প্রয়োগে। নির্দেশকের দাবি, নৈতিক দ্বিধাগুলো উন্মোচিত হয়েছে। সুন্দর অভিনয় করেছেন দীপেশ রজক, প্রহ্লাদ কুমার, মহম্মদ সাজিদ, বিনতেশ পাণ্ডে, মেঘা গুহ রায়, চন্দন মণ্ডল, তন্ময় বিশ্বাস, সুচেতনা দে প্রমুখ। কোরিয়োগ্রাফি করেছেন রুদ্রপ্রসাদ রায়।