আজ দু’পক্ষের ‘মক পার্লামেন্ট’ যুদ্ধ, নজরে রামলীলাও
এই সময়: মক বা বিদ্রুপের পার্লামেন্ট! শুনতে অবাক লাগলেও পরিহাসের ছলে আয়োজিত পার্লামেন্ট সেশনের মাধ্যমেই আজ, শুক্রবার পরস্পরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছে শাসক ও বিরোধী শিবির৷ একদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে মক পার্লামেন্ট বসিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ইমপিচ’ করবে বিরোধী শিবির। সেখানে লোকসভার অধ্যক্ষের ভূমিকায় ‘অভিনয়’ করবেন প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার মীরা কুমার৷ কেন তাঁরা জ্ঞানেশকে ইমপিচ করতে চাইছেন, সেই ব্যাখ্যা দিয়ে ‘মক সংসদীয় ডিবেট’ শুরু করবেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়গে৷ বিতর্ক শেষ করবেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী৷
এই ডিবেটে বিরোধী শিবিরের সাংসদরা তুলে ধরবেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) পর্বে জ্ঞানেশ কুমারের তথাকথিত ‘বিতর্কিত’ ভূমিকা৷ সূত্রের খবর, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের ইশারায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কী ভাবে ‘ভোট চুরি’ করছেন, তা বোঝাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মক পার্লামেন্ট’–এর ভিডিয়ো শেয়ার করবেন বিরোধীরা। ঘটনাচক্রে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবির যখন এই কর্মসূচিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই কয়েক কিলোমিটার দূরে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কনভেনশন সেন্টারে শাসক দল বিজেপির সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ‘মক পার্লামেন্ট’–এ একজোট হবেন ‘গণতন্ত্র বাঁচানো এবং নৈরাজ্য দূর করা’-র লক্ষ্যে!
সেই ‘মক পার্লামেন্ট’–এ বিজেপি সাংসদরা অভিনয় করে দেখাবেন, কী ভাবে দেশের গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ পীঠস্থানে দিনের পর দিন অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করছেন বিরোধীরা৷ এতে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন–সহ বিজেপির প্রথম সারির সাংসদরা৷ সূত্রের দাবি, বার বার অসংসদীয় আচরণের জন্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনা হতে পারে এই মক পার্লামেন্টে।
একদিকে, যেমন মক পার্লামেন্টের লড়াই চলবে, অন্যদিকে তেমনই জ্ঞানেশ–ইস্যুতে রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির৷ তার আগে বিরোধীদের লক্ষ্য, জ্ঞানেশের ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ সফল করা। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির বাসভবনে বৈঠকে বসেছিলেন বিরোধী শিবিরের নেতারা৷ উপস্থিত ছিলেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, জয়রাম রমেশ, নাসির হোসেন, মণিকম টেগোর, পবন খেরা, তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সাংসদ মহুয়া মাজি এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ হরেন্দ্র মালিক। সেখানে স্থির হয়েছে, মক পার্লামেন্টে জ্ঞানেশের ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’–এর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে দেশের আমজনতার উপরেই৷
রামলীলার রবিবারের জনসভা বানচালের চেষ্টা করতে পারে দিল্লি পুলিশ, এমনটা আঁচ করেই বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডলে রাহুলের পোস্ট, ‘এটা দেশের প্রতিবাদ। পুলিশের লাঠিকে ভয় পাবেন না। সংবিধান বাঁচাতে আমাদের সমাবেশে যোগ দিন।’ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রবিবার রামলীলা ময়দানে সামিল হতে পড়ুয়া, মহিলা ও সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে দিওয়ালির আগের রবিবার এমন জনসমাগম তাঁদের বিপুল অঙ্কের ব্যবসার ক্ষতি করতে পারে, এই আশঙ্কায় রাহুলের কাছে সমাবেশ পিছোনোর আর্জি জানিয়েছিলেন দিল্লির বণিক সংগঠন। কংগ্রেস সাংসদ তাতে সাড়া না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও চিঠি লিখেছেন ব্যবসায়ীরা।