অসমের ধুবড়িতে বিশেষ অভিযানে আটক ৩৬ অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী
গুয়াহাটি: অসমের ধুবড়ি জেলায় পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ৩৬ জন (Bangladeshi)বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। জোগামায়া ফেরিঘাটে এই অভিযান চালানো হয়। ধুবড়ি জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট…
গুয়াহাটি: অসমের ধুবড়ি জেলায় পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ৩৬ জন (Bangladeshi)বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। জোগামায়া ফেরিঘাটে এই অভিযান চালানো হয়। ধুবড়ি জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ দেবাশীষ বরাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। হাতসিংগিমারি থেকে যান্ত্রিক নৌকায় করে এই দলটি ধুবড়ি এসে পৌঁছায়। জোগামায়া ঘাটে নামার পরপরই পুলিশ তাদের আটক করে। আটককৃতদের ধুবড়ি পুলিশ রিজার্ভে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আরও দেখুনঃ বেলাগাম অবৈধ বাল্য বিবাহ আটকাল অসম পুলিশ! ধুবড়িতে আটক ৬৩
এসএসপি দেবাশীষ বরাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা ৩৬ জনকে চিহ্নিত করেছি।(Bangladeshi) বর্তমানে সব দিক থেকে পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে মনে হচ্ছে এরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। সবকিছু আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে। এখন পর্যন্ত এদের মধ্যে কোনো ভারতীয় নাগরিক পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এরা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল এই দল। ধুবড়িকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে চেন্নাইয়ের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছিল বলে আটককৃতরা জানিয়েছে। মিলন নামে এক মধ্যস্বত্বভোগীর নামও উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নৌকায় প্রায় ১২০ জন যাত্রী ছিল। স্ক্রিনিংয়ের পর ৩৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়। এরা সবাই পুরুষ এবং বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। নথিপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কীভাবে তারা প্রবেশ করেছে এবং কে সাহায্য করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধুবড়ি জেলা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকা। (Bangladeshi)নদীপথে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা এখানে সময় সময় ঘটে। পুলিশ নদীঘাটগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছিল। গোপন তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পেয়েছে। আটককৃতদের জাতীয়তা নিশ্চিত করতে নথি যাচাই ও আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ বলছে, আইনের পূর্ণ প্রয়োগ করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।