পাকিস্তানে মানবাধিকার রক্ষার মাশুল? ১০ বছরের কারাদণ্ড আইনজীবী দম্পতির - 24 Ghanta Bangla News
Home

পাকিস্তানে মানবাধিকার রক্ষার মাশুল? ১০ বছরের কারাদণ্ড আইনজীবী দম্পতির

Spread the love

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি (Imaan Mazari)ও তাঁর স্বামী হাদি আলি চাট্টাকে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সমালোচকরা এই রায়কে রাজনৈতিক…

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি (Imaan Mazari)ও তাঁর স্বামী হাদি আলি চাট্টাকে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সমালোচকরা এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা অভিযোগভিত্তিক বলে বর্ণনা করেছেন।

আদালত ২০২৪ সালের একটি ক্রিকেট সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযোগ করা হয়, ইসলামাবাদে রাস্তার ব্যারিয়ার সরিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দিয়েছিলেন তাঁরা। উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আরও দেখুনঃ ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ হামলা ইসলামপন্থী মৌলবাদীদের! দুই দিনে প্রাণ গেল ৬০ খ্রিস্টানের

বিচারক তাহির আব্বাস সিপ্রা আদিয়ালা কারাগারে রায় ঘোষণা করেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছরের সাজা ও জরিমানা করা হয়। এছাড়া সরকারি কর্মচারীকে বাধা দেওয়া ও আক্রমণের অভিযোগে অতিরিক্ত এক বছর ও দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়। সব সাজা একসঙ্গে চলবে।

ইমান মাজারি পাকিস্তানে মানবাধিকার রক্ষায় পরিচিত মুখ। (Imaan Mazari)তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের গুম, সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন। তাঁর স্বামী হাদি আলি চাট্টাও আইনজীবী হিসেবে একই ধরনের কাজ করেন। তাঁদের পরিবার ও সমর্থকরা বলছেন, মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের কারণেই তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই রায়ের নিন্দা করেছে। তারা বলেছে, এটি পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার জন্য কলঙ্ক। পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এই মামলায় দম্পতি ইতিমধ্যে অন্য একটি মামলায় সাজা ভোগ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের অভিযোগে তাঁদের আগে ১৭ বছরের সাজা হয়েছিল। সমালোচকরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় চাপের কারণেই এমন রায় এসেছে।

পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনজীবী ও কর্মীদের বিরুদ্ধে এমন মামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ইমান ও হাদি নিজেদের ‘বিবেকের বন্দি’ বলে দাবি করেছেন।

আদালতের রায় ঘোষণার পর মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। (Imaan Mazari)তাঁরা বলছেন, সাধারণ একটি ঘটনাকে সন্ত্রাসের অভিযোগে ফুলেফেঁপে তোলা হয়েছে। রাস্তার ব্যারিয়ার সরানোর মতো বিষয়কে এভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখানো যায় না। এই ঘটনা পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে। আগামী দিনে আপিলের ফলাফল কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *