নওগাঁয় ২ কোটির শিবলিঙ্গ চুরি! পাচারের আগেই বিজিবি র জালে মোস্তফা আলী
ঢাকা: নওগাঁয় এক অভূতপূর্ব (Naogaon)অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করেছে ২৪৫ কেজি ওজনের এক বিশাল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা আলীকে আটক করা হয়েছে এই মূর্তিসহ।…
ঢাকা: নওগাঁয় এক অভূতপূর্ব (Naogaon)অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করেছে ২৪৫ কেজি ওজনের এক বিশাল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা আলীকে আটক করা হয়েছে এই মূর্তিসহ। মূর্তির আনুমানিক মূল্য দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ সদর উপজেলার চক রাজবল্লভ এলাকায়।
বুধবার দুপুরের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। মোস্তফা আলীর বাড়ির একটি কক্ষের মেঝেতে সদ্য খোঁড়া মাটির দাগ দেখে সন্দেহ হয়। মাটি খুঁড়ে বেরিয়ে আসে ওই ভারী শিবলিঙ্গ। এটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছিল। ওজন পরিমাপ করে দেখা যায় ২৪৫ কেজি। এমন বড় ও ভারী কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধারের ঘটনা এ অঞ্চলে বিরল।
আরও দেখুনঃ নদীতে ভেসে উঠল হাসিনার পালানোর দৃশ্য রেকর্ড করা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার নিথর দেহ
মোস্তফা আলী ৩৪ বছর বয়সী। তার বাবার নাম গহির উদ্দিন প্রামানিক। (Naogaon)স্থানীয়রা জানেন তাকে। কিন্তু কেউ জানত না তার বাড়িতে এমন মূল্যবান পুরাকীর্তি লুকানো আছে। আটকের পর তাকে নওগাঁ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে মূর্তিটি কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে তার হাতে এসেছে এবং পাচারের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না।
কষ্টিপাথর বা টাচস্টোন দিয়ে তৈরি এ ধরনের মূর্তি অত্যন্ত মূল্যবান। প্রাচীনকালের এসব নিদর্শন দেশের বাইরে পাচার হলে বিপুল অর্থের বাজার তৈরি হয়। বাংলাদেশে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে। মন্দির থেকে বা মাটি খুঁড়ে পাওয়া পুরাকীর্তি চোরাচালানের চেষ্টা চলে। এবারও সেই ধারারই অংশ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মোস্তফার বাড়ি হয়তো সাময়িক আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অবাক হয়েছেন এত বড় মূর্তি কীভাবে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা সম্ভব হলো। কেউ কেউ বলছেন, এ ধরনের কাজ শুধু অর্থের লোভেই হয়। পুরাকীর্তি পাচার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। এতে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য শিবলিঙ্গ পবিত্র প্রতীক।
বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। সন্দেহজনক স্থান খুঁজে বের করে মাটি খোঁড়ার পর মূর্তিটি উদ্ধার হয়। এরপর আসামিকে থানায় নেওয়া হয়। এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মূর্তিটি কোথায় পাওয়া গিয়েছিল, কে তাকে দিয়েছিল বা সে নিজেই সংগ্রহ করেছিল কি না সবকিছু জানতে চাওয়া হচ্ছে। পাচারের সঙ্গে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশে প্রাচীন মূর্তি ও পুরাকীর্তি পাচারের ঘটনা নতুন নয়। সময় সময় বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের উদ্ধার অভিযান হয়। কোনোটি ছোট ওজনের, কোনোটি বড়। (Naogaon)কিন্তু ২৪৫ কেজির মতো ভারী শিবলিঙ্গ উদ্ধার সত্যিই নজর কাড়ার মতো। এর মূল্যও অনেক। দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকার হিসাব দিয়েছে বাহিনী। আন্তর্জাতিক বাজারে এ ধরনের নিদর্শনের দাম আরও বেশি হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এ ধরনের অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হবে। পুরাকীর্তি রক্ষায় সচেতনতাও জরুরি। কেউ মাটি খুঁড়ে বা নদীতে পেয়ে এমন কিছু পেলে কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। নিজে রেখে দিলে বা বিক্রির চেষ্টা করলে আইনের মুখোমুখি হতে হয়। মোস্তফা আলীর ঘটনা সেই শিক্ষাই দিচ্ছে।