এনভিডিয়া কর্তা জেনসেন হুয়াংকে টার্গেট চিনের! গোয়েন্দা অভিযানের সন্দেহ - 24 Ghanta Bangla News
Home

এনভিডিয়া কর্তা জেনসেন হুয়াংকে টার্গেট চিনের! গোয়েন্দা অভিযানের সন্দেহ

Spread the love

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নতুন এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য(Jensen Huang)। বলা হয়েছে, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে লক্ষ্য করে চিন একটি গোয়েন্দা অভিযান চালিয়েছে…

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নতুন এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য(Jensen Huang)। বলা হয়েছে, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে লক্ষ্য করে চিন একটি গোয়েন্দা অভিযান চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডেটা সেন্টার কোম্পানি মেগাস্পিডের চিনা নির্বাহী অ্যালিস হুয়াং বা হুয়াং লেকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল।

তিনি জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এনভিডিয়ার পরিকল্পনা ও কৌশলগত তথ্য চিনে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অ্যালিস হুয়াং জেনসেন হুয়াংয়ের কোনো আত্মীয় নন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে নজরদারিতে রেখেছিল এবং তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি চিনা সরকারের পক্ষে কাজ করছিলেন।

আরও দেখুনঃ সৌদি-ইয়েমেনের যুদ্ধের মধ্যেই আচমকা গর্ভবতী ১২৫ পাক মহিলা সেনা

এই সন্দেহের শিকড় আরও গভীরে। (Jensen Huang)মেগাস্পিডের মালয়েশিয়ান সহযোগী সংস্থা গত কয়েক বছরে প্রায় চার দশমিক আট বিলিয়ন ডলার মূল্যের এনভিডিয়া চালিত এআই সরঞ্জাম কিনেছে। মার্কিন তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চিনা কোম্পানিগুলো রফতানি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে উন্নত চিপ পাচ্ছিল।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ডেটা সেন্টারগুলোতে এই চিপগুলো রাখা হয়েছিল এবং সেখান থেকে চিনা গ্রাহকদের কম্পিউটিং ক্ষমতা সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের শেষের দিকে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা মালয়েশিয়ার একটি ডেটা সেন্টার পরিদর্শন করে দেখেন যে এনভিডিয়ার যন্ত্রপাতি এখনও বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরে এই তদন্ত বিচার বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।

জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে অ্যালিস হুয়াংয়ের সম্পর্ক শুধু ব্যবসায়িক ছিল না বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো দাবি করেছে। তাইপেইয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও রেস্তোরাঁয় তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইলেকট্রনিক নজরদারির মাধ্যমে এই সম্পর্ক শনাক্ত করে এবং জেনসেন হুয়াংকে একজন আমেরিকান নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে।

হোয়াইট হাউসে এই তথ্য উদ্বেগ তৈরি করে কারণ জেনসেন হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই বিষয়ক একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা। প্রায় এক বছর আগে ট্রাম্পকে এই গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সূত্রগুলো বলছে, এনভিডিয়ার শেয়ার বাজার এবং চিনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নীরব ছিলেন।

এনভিডিয়া অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। (Jensen Huang)কোম্পানির মুখপাত্র বলেছেন, জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে অ্যালিস হুয়াংয়ের যোগাযোগ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক বৈঠকের অংশ এবং তিনি প্রতি বছর হাজার হাজার গ্রাহক নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলেন। মেগাস্পিডকে আঞ্চলিক ক্লাউড গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের কোনো সংবেদনশীল বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।

চিপ পাচারের অভিযোগ গত বছর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে খারিজ করা হয়েছে বলেও এনভিডিয়া দাবি করেছে। মেগাস্পিডের বর্তমান নেতৃত্ব অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং বহিরাগত আইনজীবী নিয়োগ করে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। তারা মার্কিন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত।

চিন এই পুরো বিষয়কে ভিত্তিহীন জল্পনা এবং চিনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা বলে বাতিল করেছে। চিনা বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের প্রতিবেদন নিছক গুজব ছাড়া কিছু নয়। অ্যালিস হুয়াংয়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে তিনি ২০২৪ সালের শেষের দিকে চিনে ফিরে গেছেন বা তার সম্পৃক্ততা কমে গেছে। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল বলেও খবর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *