Volkswagen Taigun-এর বিক্রি ১ লক্ষ পার, ফেসলিফটে ফিরছে চাহিদা
গুরুগাঁও: ভারতের গাড়ির বাজারে এক লক্ষ ইউনিট বিক্রির মাইলফলক পার করল Volkswagen Taigun। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মপ্রকাশ করা এই মিডসাইজ SUV পাঁচ বছর পূর্ণ করার পর গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করল। Society of Indian Automobile Manufacturers (SIAM)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত ভারতে গাড়িটির পাইকারি বিক্রি হয়েছিল ৯৯,০৯৫ ইউনিট। অক্টোবরের প্রথমার্ধে আরও ৯০৫ ইউনিট বিক্রি হওয়ায় দেশীয় বাজারে মোট বিক্রির সংখ্যা পৌঁছে যায় এক লক্ষে। শুধু ভারতের বাজারেই নয়, বিদেশেও Taigun-এর চাহিদা রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাড়িটির ৫২,৭৫১ ইউনিট রপ্তানি করেছে Volkswagen India। ফলে দেশীয় বিক্রি ও রপ্তানি মিলিয়ে Taigun-এর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৮৪৬ ইউনিট।
ভারতের বাজারে Taigun-এর যাত্রা শুরু হয় Volkswagen-এর কৌশলগত India 2.0 প্রকল্পের অধীনে। MQB A0 IN প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই SUV ছিল সংস্থার প্রথম মিডসাইজ SUV। একই প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে Skoda Kushaq, যা ২০২১ সালের জুনে বাজারে আসার পর থেকে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৮৬৩ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। Taigun এবং Kushaq, দুটিই ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য তৈরি হলেও Volkswagen-এর গাড়িটি তার জার্মান ব্র্যান্ড পরিচয়, শক্তপোক্ত নির্মাণ এবং ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
বিক্রির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, Taigun-এর সবচেয়ে সফল অর্থবর্ষ ছিল ২০২২-২৩। ওই সময়ে গাড়িটির ২১,৭৩৬ ইউনিট বিক্রি হয়েছিল। সেই বছর Volkswagen India-র মোট ৪১,৩২৬টি যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রির মধ্যে Taigun-এর অবদান ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। তবে এরপর থেকে বিক্রির গতিতে কিছুটা ভাটা পড়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বিক্রি ৫.৭৫ শতাংশ কমে ২০,৪৮৫ ইউনিটে দাঁড়ায়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আরও ২.৮০ শতাংশ কমে বিক্রির সংখ্যা হয় ১৯,৯১০ ইউনিট। অর্থাৎ, প্রথম দিকের সাফল্যের পর বাজারে গাড়িটির চাহিদা ধরে রাখা Volkswagen-এর কাছে ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিক্রির পতন আরও স্পষ্ট হয়। ওই বছর Taigun-এর ১২,৯১২ ইউনিট বিক্রি হয়, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ৩৫.১৪ শতাংশ কম। তা সত্ত্বেও Volkswagen India-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখে SUV-টি। ওই অর্থবর্ষে সংস্থার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মডেল ছিল Virtus সেডান, যার বিক্রি ২২,৯৫৯ ইউনিট। Taigun ছিল দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে Tiguan-এর ১,১২৬ ইউনিট এবং Tayron-এর ২৩৮ ইউনিট বিক্রি হয়েছিল।
বিক্রি কমার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী SUV-গুলির সঙ্গে তুলনায় Taigun-এর কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। Hyundai Creta, Kia Seltos এবং Maruti Victoris-এর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জায়গার ব্যবহার, কেবিনের প্রশস্ততা এবং কিছু আধুনিক সুবিধার ক্ষেত্রে Taigun পিছিয়ে পড়তে পারে। গাড়িটির নির্মাণের মান ও চালানোর অভিজ্ঞতা প্রশংসিত হলেও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রশস্ত কেবিন এবং বেশি ফিচার অনেক ক্রেতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এই বিভাগে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে Taigun-এর বিক্রির উপর চাপ পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে আসা ফেসলিফট মডেলটি বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, Taigun-এর ৭,১৬৩ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। আগের অর্থবর্ষের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬,৮৯১ ইউনিট। সেই হিসাবে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩.৯৪ শতাংশ। নতুন মডেলে বাহ্যিক নকশায় কিছু পরিবর্তন, অতিরিক্ত ফিচার এবং ১.০ TSI ইঞ্জিনের সঙ্গে নতুন স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স যুক্ত হয়েছে। এই আপডেট ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিও Taigun-এর ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ২,৮৫১ ইউনিট রপ্তানি দিয়ে শুরু হয়েছিল এই SUV-র আন্তর্জাতিক যাত্রা। পরের অর্থবর্ষে রপ্তানি বেড়ে ৭,৯৫৮ ইউনিটে পৌঁছয়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা আরও বেড়ে ১২,৬২১ ইউনিট হয় এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ ১৪,৯০৩ ইউনিট রপ্তানি করা হয়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রপ্তানি ২৬.৮৮ শতাংশ কমে ১০,৮৯৭ ইউনিটে নেমে আসে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ৩,৫২১ ইউনিট, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৪.৩৯ শতাংশ কম। ফলে দেশীয় বিক্রিতে সাম্প্রতিক উন্নতি দেখা গেলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
২০২৬ মডেল বছরের Taigun সম্পর্কে Autocar India-র ক্রেতাদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নতুন নকশা, বাড়তি ফিচার এবং ১.০ TSI ইঞ্জিনের জন্য নতুন অটোমেটিক গিয়ারবক্স গাড়িটির আগের কিছু দুর্বলতা দূর করেছে। গাড়িটির নির্মাণের দৃঢ়তা এবং চালানোর আনন্দ এখনও উল্লেখযোগ্য দিক, বিশেষত ১.৫ TSI ইঞ্জিনের সংস্করণে। তবে কেবিনের জায়গা এবং কয়েকটি আকর্ষণীয় ফিচারের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান রয়ে গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এক লক্ষ দেশীয় বিক্রির মাইলফলক Volkswagen Taigun-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। যদিও গত কয়েক বছরে বিক্রির ধারায় ওঠানামা দেখা গিয়েছে, ফেসলিফট মডেলের পর সাম্প্রতিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত সংস্থার জন্য আশাব্যঞ্জক। এখন দেখার বিষয়, নতুন আপডেটের সাহায্যে Volkswagen কতটা শক্তিশালীভাবে Hyundai Creta, Kia Seltos এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে এবং একই সঙ্গে রপ্তানির বাজারেও বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হয় কি না।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business