Firhad Hakim: ফিরহাদের নিজের পাড়াতেই পড়ল ‘গদ্দার’ ব্যানার! মেয়ে-জামাইয়ের বেলায় ভক্ত না রক্ত? উঠল প্রশ্ন | Gaddar Poster in front of Firhad Hakim’s House, Question Over His Daughter Son in Law
ফিরহাদের নামে পোস্টার।Image Credit: TV9 বাংলা
কলকাতা: নিজের পাড়াতেই ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে ব্যানার! ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির অদূরেই পড়ল ‘গদ্দার’ ব্যানার। প্রাক্তন মেয়রের বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরেই বড় ব্যানার লাগানো হয়েছে, যেখানে বড় বড় হরফে লেখা গদ্দার। ৮২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেই এই পোস্টার দেওয়া হয়েছে বলে লেখা ওই ব্যানারে।
ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির সামনেই যে ব্যানার লাগানো হয়েছে, তাতে একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিম। উপরে ও নীচে বড় করে লেখা- “নিজের বেলায় আঁটি শুঁটি, পরের বেলায় দাঁত কপাটি, নিজের জামাই ও মেয়ের বেলায় কোন ফর্মূলায় রক্ত না ভক্ত”।
কেন এমন ব্যানার পড়ল?
রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। মমতার অন্যতম ভরসাস্থল ছিলেন যে ববি, সে-ও দিদির হাত ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। গত সপ্তাহের শেষভাগেই টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে যখন ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তিনি আর কখনও দিদির কাছে ফিরবেন কি না, তখন তিনি ‘রক্ত নয়, ভক্তের’ কথা বলেছিলেন। দিদির পাশে ফেরা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “দিদি যদি কোনোদিন রক্ত কে ছেড়ে ভক্তকে ডাকে ভক্ত যাবে । কিন্তু আপাতত উনি রক্তকে নিয়েই আছেন”। সেই বক্তব্যের সূত্র ধরেই আজকের এই পোস্টার। তাও আবার ববি হাকিমের বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যেই!
কারা পোস্টার দিল?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের এক সমর্থকই এই ব্যানার লাগানোর কথা স্বীকার করে নেন। জিতু নামক ওই তৃণমূল সমর্থক বলেন, “গদ্দারকে প্রমাণ করতে চাইছি। আমরা লুকিয়ে থাকতে চাইছি না, এই গদ্দারকে বোঝাতে চাইছি যে চেতলাবাসী এই ধরনের লোককে কখনও গ্রহণ করবে না।”
কী বলছেন ফিরহাদ-কন্যা?
ওই ব্যানারে যার নাম, ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম বলেছেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক যে পার্টিটাকে এত ভালোবেসেছি, এত নিজের ভেবেছি, নিজের বর্ধিত পরিবারের মতো ভালোবেসেছি, সেই পরিবারটা আজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, তাতে আমি খুবই দুঃখিত। অনেক কাকা-জ্যেঠুরা আছে, যারা এখনও ভালোবাসে আমাকে। একজনের মনোমালিন্য হতেই পারে, সেই মানুষটা দুটো পোস্টার লাগাতে পারে। সবাইকে তো একসঙ্গে খুশি করা যায় না। অনেকে হোয়াটসঅ্যাপে ট্রোল করে, এরা হয়তো প্রবীণ মানুষ। কিংবা নবীন কেউ একটা পোস্টার লাগিয়ে দিয়েছে। সেটায় তো আর কিছু বলার নেই।”
কালীঘাট তৃণমূলের কী বক্তব্য?
এদিকে, কালীঘাট তৃণমূল এই ব্যানার লাগিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও কথা না বললেও, মমতা-পন্থী তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “ও যা করেছে, তাতে আমাদের দলের কর্মীরা সবাই তো গদ্দারই বলছে। মমতাদির পাশে পাশে ঘুরে, মমতাদিকে ওঁকে মেয়র করল, মন্ত্রী করল। মমতাদির ছবি নিয়ে জিতল, তারপর ঋত শিবিরে গিয়ে যোগদান করাটা, মমতাদির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, এটা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছেই। তবে এই পোস্টারের বিষয় জানি না।”
তিনি আরও বলেন, “দলের সুদিনে যদি থাকতে হয়, তাহলে অন্ধকারেও থাকতে হবে। ক্ষমতা থাকার সময় ঘুরব, মুখ্যমন্ত্রীর পাশে পাশে ছবি তুলব। ছবি তুলতে গেলে ববি আর অরূপেরই ছবি উঠত। এখন যেই দল একটু খারাপ অবস্থায় পড়েছে, সেখানে উল্টো দিকে ঋত শিবিরে চলে গেলাম, আমরা অন্তত মানব না।”