Cyclone Arnab: অর্ণবের প্রভাবে বাংলায় শুরু বৃষ্টি, কবে থামবে? জানাল হাওয়া অফিস | West Bengal Weather Update: Cyclone Arnab Weakens, New Depression Threatens Alongside Sikkim Snowfall - 24 Ghanta Bangla News
Home

Cyclone Arnab: অর্ণবের প্রভাবে বাংলায় শুরু বৃষ্টি, কবে থামবে? জানাল হাওয়া অফিস | West Bengal Weather Update: Cyclone Arnab Weakens, New Depression Threatens Alongside Sikkim Snowfall

Spread the love

কী বলছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর?Image Credit: tv9 network

কমলেশ চৌধুরী ও সৌভিক সরকারের রিপোর্ট:

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থলভাগে ঢুকে ইতিমধ্যেই অনেকটা শক্তি হারিয়েছে। কিন্তু বাংলার আকাশ থেকে দুর্যোগের কালো মেঘ এখনও সম্পূর্ণ কাটেনি। ঘূর্ণিঝড় যেতে না যেতেই বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনাচ্ছে গভীর নিম্নচাপ। আন্দামান সাগরে ইতিমধ্যেই নতুন একটি নিম্নচাপের জন্ম হয়েছে। শনিবারের মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। এই নতুন নিম্নচাপটিও পূর্ব উপকূলের দিকেই এগোবে বলে খবর। তবে ঠিক কোন অঞ্চল হয়ে এটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত আজ ও আগামিকাল আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

হঠাৎ বাংলায় কেন বৃষ্টি হচ্ছে?

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, মূলত জোড়া দুর্যোগের জেরেই বাংলায় এই মেঘলা আকাশ ও অকাল বৃষ্টি। প্রথমত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বর্তমানে অতি গভীর নিম্নচাপ রূপে ছত্তিশগড়ের দিকে এগোচ্ছে। এর অভিমুখ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি আরও দুর্বল হবে ঠিকই, কিন্তু এই সিস্টেমের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। দ্বিতীয়ত, উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকছে। একদিকে সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্রতা এবং অন্যদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, এই জোড়া ফলার প্রভাবেই মূলত কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে আজ, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের বাংলা উপকূলের সমুদ্রে যেতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া আজ কেমন থাকবে?

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত মেঘলা। আজ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের দু’এক জায়গায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। এই জেলাগুলির বেশিরভাগ জায়গায় এবং বাকি জেলার কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলাগুলিতেও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে।

আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৭ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৮ থেকে ৯৮ শতাংশ। শহরে ইতিমধ্যেই সামান্য হালকা বৃষ্টি হয়েছে। মূলত মেঘলা আকাশ থাকলেও কখনও সামান্য সময়ের জন্য আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে সামান্য ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আগামীকাল থেকে আংশিক মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমবে। মাঝে শুষ্ক আবহাওয়া থাকলেও, আগামী সপ্তাহে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। আগামীকাল পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। ৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে, কেবল দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি বৃষ্টিতে ভিজবে উত্তরবঙ্গও। আজ সব জেলাতেই হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস। দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। এই দুই জেলার দু’এক জায়গায় ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, সঙ্গে বইবে ৩০-৪০ কিমি ঝোড়ো হাওয়া। শুক্রবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা আরও বাড়বে। সব জেলাতেই অনেক জায়গায় বৃষ্টি হবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির পাশাপাশি কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারেও জারি হয়েছে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, সঙ্গে বইবে ৩০-৪০ কিমি বেগে বাতাস। শনিবার, ৩১ অক্টোবর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১ থেকে ৪ নভেম্বর আংশিক মেঘলা আকাশ ও কিছু এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে, তবে বিক্ষিপ্তভাবে দু’এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের খবর আসছে পাহাড় থেকে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে সিকিমের নাথুলা এবং নাথাং ভ্যালিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুষারপাত। আজ এবং কাল সেখানে ভারী তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ঝঞ্ঝা এবং নিম্নচাপের জোড়া ফলায় পাহাড়ে রীতিমতো দুর্যোগের ভয় দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় বিদায় নিলেও, এখনই স্বস্তির শ্বাস ফেলার কোনও উপায় নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *