ছাদ খোলা রেখেও ৩৫০ কিমি গতি, ১,০৭৯ হর্সপাওয়ারের Aston Martin - 24 Ghanta Bangla News
Home

ছাদ খোলা রেখেও ৩৫০ কিমি গতি, ১,০৭৯ হর্সপাওয়ারের Aston Martin

Spread the love

গুরুগাঁও: বিলাসবহুল সুপারকার নির্মাতা অ্যাস্টন মার্টিন (Aston Martin) প্রকাশ্যে নিয়ে এল তাদের নতুন Valhalla Spider। সংস্থার দাবি, এটি তাদের তৈরি দ্রুততম ওপেন-টপ গাড়ি। ছাদ খোলা…

গুরুগাঁও: বিলাসবহুল সুপারকার নির্মাতা অ্যাস্টন মার্টিন (Aston Martin) প্রকাশ্যে নিয়ে এল তাদের নতুন Valhalla Spider। সংস্থার দাবি, এটি তাদের তৈরি দ্রুততম ওপেন-টপ গাড়ি। ছাদ খোলা রেখেও এই সুপারকারের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এতে রয়েছে ১,০৭৯ হর্সপাওয়ারের প্লাগ-ইন হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন, যা Valhalla Coupe মডেলেও ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছনোর ক্ষমতা রয়েছে গাড়িটির। নতুন এই সুপারকারের বিশ্বব্যাপী আত্মপ্রকাশ হবে ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত লাস ভেগাসের Wynn-এ আয়োজিত Concours অনুষ্ঠানে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক থেকে বিশ্ববাজারে গাড়িটির ডেলিভারি শুরু হবে।

Valhalla Spider-এর নকশায় Coupe সংস্করণের তুলনায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। গাড়িটির সঙ্গে অধিকাংশ বাজারে স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে পাওয়া যাবে খুলে রাখা যায় এমন কালো কাপড়ের ছাদ। বিকল্প হিসাবে কার্বন-ফাইবার হার্ডটপও বেছে নিতে পারবেন ক্রেতারা। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে হার্ডটপই থাকবে স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে। কাপড়ের ছাদ লাগানো অবস্থায় গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ থাকবে। হার্ডটপ ব্যবহার করলে সংস্থার দাবি করা সর্বোচ্চ গতিবেগে পৌঁছনো সম্ভব হবে। ছাদ খুলে গাড়ি চালানোর সময় বাতাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য এতে বিশেষ উইন্ড ডিফ্লেক্টর রয়েছে। এটি যাত্রীদের মাথার উপর দিয়ে বাতাসের প্রবাহ পরিচালনা করে এবং ছাদের উপরে থাকা এয়ার স্কুপের দিকে বাতাস পাঠাতে সাহায্য করে। ছাদ লাগানোর সময় ডিফ্লেক্টরটি তিনটি অংশে ভাঁজ করে গাড়ির সিলের মধ্যে থাকা নতুন ১৫ লিটারের স্টোরেজ কম্পার্টমেন্টে রাখা যায়। Spider সংস্করণে এয়ার স্কুপটির নকশাও পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি Coupe-এর তুলনায় ৩৫ মিলিমিটার উঁচুতে বসানো হয়েছে।

aston-martin-valhalla-spider-launch-1079hp-hybrid-supercar-top-speed

গাড়িটির দরজায় রয়েছে কার্বন-ফাইবার ডায়হেড্রাল ডিজাইন। Coupe থেকে এই দরজাগুলি নেওয়া হলেও Spider-এ সেগুলি ফ্রেমবিহীন করা হয়েছে। অ্যাস্টন মার্টিনের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় দরজা খোলা ও বন্ধ করা আরও মসৃণ হবে। দরজার কাচের উপরের প্রান্তও কিছুটা বেশি বাঁকানো, যাতে ছাদ লাগানো অবস্থায় গাড়িতে ওঠা-নামা সহজ হয়। সুপারকারটিতে রয়েছে অ্যাক্টিভ অ্যারোডাইনামিক্স প্রযুক্তি। ‘Race’ ড্রাইভ মোডে পিছনের উইংটি ২৫৫ মিলিমিটার পর্যন্ত উপরে উঠে আসে। সামনের দিকে রয়েছে একটি আড়ালে থাকা উইং। ছাদ লাগানো অবস্থায় গাড়িটি ৬০০ কিলোগ্রামের বেশি ডাউনফোর্স তৈরি করতে পারে বলে দাবি করেছে সংস্থা। ছাদ খোলা ও লাগানো, দুই অবস্থাতেই গাড়ির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অ্যারোডাইনামিক্স এবং স্টেবিলিটি কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে নতুন করে ক্যালিব্রেট করা হয়েছে।

Valhalla Spider-এর মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে কার্বন-ফাইবার টাব দিয়ে। এটি নকশা ও ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে Aston Martin Performance Technologies, যা সংস্থার ফর্মুলা ওয়ান দলের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভাগ। অ্যাস্টন মার্টিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফর্মুলা ওয়ান থেকে নেওয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেজিন ট্রান্সফার মোল্ডিং এবং অটোক্লেভ প্রক্রিয়ায় টাবের উপরের ও নিচের অংশ তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের সামনের ও পিছনের সাবফ্রেম, পুশরড ডাবল-উইশবোন ফ্রন্ট সাসপেনশন এবং অভিযোজিত Bilstein ড্যাম্পার। ব্রেকিং ব্যবস্থায় স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে দেওয়া হয়েছে কার্বন-সিরামিক ব্রেক। সামনের চাকায় ৪১০ মিলিমিটার এবং পিছনের চাকায় ৩৯০ মিলিমিটার ব্যাসের ব্রেক ডিস্ক ব্যবহার করা হয়েছে।

গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪,৭২৮ মিলিমিটার, প্রস্থ ২,২০৮ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১,২৩৩ মিলিমিটার। প্রস্থের হিসাবের মধ্যে বাইরের রিয়ারভিউ মিররও অন্তর্ভুক্ত। হুইলবেস ২,৭৬০ মিলিমিটার। সামনে রয়েছে ২০ ইঞ্চির ফোর্জড অ্যালয় হুইল এবং পিছনে ২১ ইঞ্চির চাকা। এগুলিতে বিশেষভাবে তৈরি Michelin Pilot Sport S 5 টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। ক্রেতারা চাইলে লাল, সবুজ অথবা নীল রঙের টিন্টেড কার্বন-ফাইবার ফিনিশ বেছে নিতে পারবেন। গাড়িটির জন্য মোট ১০টি লিভারি বা বিশেষ বাহ্যিক রঙের বিকল্প রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি কেবল হার্ডটপ সংস্করণের জন্য উপলব্ধ থাকবে।

Valhalla Spider-এর পারফরম্যান্সের কেন্দ্রে রয়েছে ৪.০ লিটারের ফ্ল্যাট-প্লেন-ক্র্যাঙ্ক, টুইন-টার্বো V8 পেট্রোল ইঞ্জিন। এটি একাই ৮২৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৮৬৮ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। অ্যাস্টন মার্টিনের দাবি, প্রতি লিটারে ২০৭ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা সংস্থার তৈরি কোনও অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তিনটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং ৬.১ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি প্যাক। বৈদ্যুতিক মোটরগুলি আরও ২৫১ হর্সপাওয়ার শক্তি যোগ করে। ফলে সম্মিলিতভাবে গাড়িটি ১,০৭৯ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১,১০০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে।

সামনের অ্যাক্সেলে রয়েছে দুটি বৈদ্যুতিক মোটর, যা ইলেকট্রিক টর্ক ভেক্টরিংয়ের মাধ্যমে দুই সামনের চাকায় শক্তি বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে। তৃতীয় মোটরটি আট গতির ডুয়াল-ক্লাচ স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের সঙ্গে যুক্ত। এটি V8 ইঞ্জিনের সঙ্গে কাজ করে পিছনের চাকায় শক্তি পাঠায়। পিছনের চাকায় শক্তি বণ্টন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইলেকট্রনিক লিমিটেড-স্লিপ ডিফারেনশিয়াল। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সামনের ও পিছনের অ্যাক্সেলের মধ্যে সরাসরি কোনও যান্ত্রিক সংযোগ নেই। প্রতিটি চাকায় শক্তি বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে ‘Integrated Vehicle Dynamics Control’ ব্যবস্থা। গিয়ারবক্সে আলাদা রিভার্স গিয়ারও নেই। পিছনের দিকে গাড়ি চালানোর কাজ সামনের বৈদ্যুতিক মোটরগুলি সামলায়।

Valhalla Spider-এর শুকনো ওজন ১,৬৮০ কিলোগ্রাম, যেখানে হালকা ওজনের বিকল্প সরঞ্জাম ব্যবহারের হিসাব ধরা হয়েছে। চালকের পছন্দ অনুযায়ী Sport, Sport+, Race এবং EV, এই চারটি ড্রাইভ মোড ব্যবহার করা যাবে। EV মোডে বৈদ্যুতিক শক্তির উপর নির্ভর করে গাড়ি চালানোর সুবিধা রয়েছে। তবে ব্যাটারির চার্জ, চালানোর ধরন এবং অন্যান্য পরিস্থিতির উপর বাস্তব পারফরম্যান্স নির্ভর করবে।

গাড়ির কেবিনেও বিলাসিতা ও স্পোর্টি ডিজাইনের সমন্বয় রাখা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে রয়েছে কার্বন-ফাইবার ‘Touring’ সিট, যা দীর্ঘক্ষণ বসার আরাম এবং ছাদ লাগানো অবস্থায় ওঠা-নামার সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি। আরও বেশি শরীর-সমর্থন চান এমন ক্রেতারা অতিরিক্ত দাম ছাড়াই Coupe-এর কার্বন-ফাইবার সিট বেছে নিতে পারবেন। কেবিনে নর্লড মেটাল এবং বোনা কার্বন-ফাইবার ট্রিম ব্যবহার করা হয়েছে। Aston Martin-এর বিশেষ Q বিভাগ থেকে আরও ব্যক্তিগতকরণের সুযোগ মিলবে। Podium Green, Teal এবং Bronze রঙের টিন্টেড কার্বন-ফাইবার ফিনিশের পাশাপাশি কাস্টম লিভারি ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উপকরণের সমন্বয় বেছে নেওয়া যাবে।

প্রযুক্তির দিক থেকে গাড়িটিতে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং সমান মাপের টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এতে Apple CarPlay, ডিজিটাল রিয়ারভিউ মিরর এবং Alcantara ট্রিম রয়েছে। উন্নত অডিও অভিজ্ঞতার জন্য বিকল্প হিসাবে পাওয়া যাবে Bowers & Wilkins সাউন্ড সিস্টেম। নিরাপত্তা ও চালক-সহায়ক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে অটোনোমাস ইমার্জেন্সি ব্রেকিং, Stop & Go-সহ অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন-কিপিং অ্যাসিস্ট এবং ড্রাইভার মনিটরিং সিস্টেম। তবে গাড়িটির দাম এখনও ঘোষণা করেনি সংস্থা। ২০২৬ সালের শেষদিকে বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশের পর ২০২৭ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ডেলিভারি শুরু হলে Valhalla Spider অ্যাস্টন মার্টিনের হাই-পারফরম্যান্স হাইব্রিড সুপারকারের তালিকায় নতুন সংযোজন হবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *