কৌস্তভ-দিলীপের বাকযুদ্ধের মধ্যেই উত্তমের বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা, কীসের ইঙ্গিত?
কলকাতা: মণীশ শুক্লা খুনের মামলাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত ব্যারাকপুরের রাজনীতি। অভিযুক্তদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে দলের অন্দরে যখন বিতর্ক চলছে, তখনই ব্যারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান…
কলকাতা: মণীশ শুক্লা খুনের মামলাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত ব্যারাকপুরের রাজনীতি। অভিযুক্তদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে দলের অন্দরে যখন বিতর্ক চলছে, তখনই ব্যারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের বাড়িতে হাজির হলেন একদল বিজেপি কর্মী। চলল কোলাকুলি, বিলি হল মিষ্টি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন উত্তম? যদিও দলবদলের কথা এখনও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেননি তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্তদের দলে নেওয়া হলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক। পাল্টা কৌস্তভের রাজনৈতিক অতীত টেনে এনে মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। আর তার পরেই উত্তম দাসের বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
প্রায় ছ’বছর আগে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুন হন। সেই ঘটনায় তাঁর বাবার অভিযোগের আঙুল উঠেছিল উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীর দিকে। সম্প্রতি তাঁদের বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানান কৌস্তভ। তাঁর বক্তব্য, ওই দু’জন দলে এলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং বিজেপির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই অবস্থান বোঝাতে গিয়ে কৌস্তভ বলেন, প্রয়োজনে দলের রাজ্য দফতরের সামনে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
দিলীপের পাল্টা মন্তব্যে নতুন জল্পনা
কৌস্তভের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, কে বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা দলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। প্রত্যেকের এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কৌস্তভের কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে আসার প্রসঙ্গ তুলে দিলীপের বক্তব্য, তিনি যদি বিজেপিতে আসতে পারেন, তা হলে অন্যদের আসার ক্ষেত্রেও আপত্তির কারণ নেই।
এ দিকে মণীশ শুক্লার বাবা কৌস্তভকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ছেলের খুনের মামলায় আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছিল না বলে তিনি কৌস্তভের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রথমে মামলা লড়ার আশ্বাস দিলেও পরে প্রাণের ভয়ের কথা বলে কৌস্তভ পিছিয়ে যান বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও কৌস্তভ এই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি দলবদলের ইঙ্গিত?
দিলীপের মন্তব্যের পরেই উত্তম দাসের বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের যাতায়াত এবং মিষ্টিমুখের ঘটনা সামনে আসে। তবে বিষয়টিকে দলবদলের ঘোষণা হিসেবে দেখতে নারাজ উত্তম। তাঁর বক্তব্য, অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় থাকতেই পারে। এখনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা তিনি ঘোষণা করেননি বলেও স্পষ্ট করেছেন।
এক বিজেপি কর্মীর দাবি, বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করতেই তাঁরা উত্তমের বাড়িতে গিয়েছিলেন। শুধু উত্তম নন, সিপিএম ও তৃণমূলের কর্মীদের বাড়িতেও তাঁরা গিয়েছেন বলে জানান ওই কর্মী।
ফলে আপাতত উত্তম দাসের বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, তাঁর দলবদল নিয়ে নিশ্চিত কোনও ঘোষণা সামনে আসেনি।
ঝড়ের আগেই ভিজল উপকূল! সাইক্লোন ‘অর্ণব’-এর আতঙ্কে ঘুম উড়েছে সুন্দরবনের
‘আইন ভাঙলে এমনই পরিণতি হবে…’ গাইঘাটা এনকাউন্টার নিয়ে কড়া বার্তা দিলীপ ঘোষের