কোন প্রিমিয়াম স্কুটার কেনা বেশি লাভজনক?
গুরুগ্রাম: প্রিমিয়াম স্কুটার কেনার পরিকল্পনা করছেন? তা হলে Honda ADV 160 এবং Yamaha Aerox 155, এই দুই মডেল আপনার বিবেচনায় থাকতে পারে। Honda ADV 160-এ রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার-ধাঁচের ডিজাইন, বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, বড় ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং TFT ডিসপ্লে। অন্যদিকে Yamaha Aerox 155 তুলনামূলক সস্তা, ওজনে হালকা এবং স্পোর্টি ডিজাইনের জন্য আকর্ষণীয়। ইঞ্জিনের ক্ষমতা, ফিচার, আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার বিচারে দুই স্কুটারের মধ্যে কোনটি এগিয়ে, তা দেখে নেওয়া যাক।
দাম ও ভ্যারিয়েন্ট: Yamaha Aerox 155 সস্তা
দামের ক্ষেত্রে Yamaha Aerox 155 স্পষ্টভাবে এগিয়ে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এর এক্স-শোরুম দাম ১,৪৫,৫৩০ টাকা। অন্যদিকে Honda ADV 160-এর দাম ১,৭০,০০০ টাকা। অর্থাৎ, Yamaha Aerox 155 কিনলে প্রায় ২৪,৪৭০ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
| স্কুটার | এক্স-শোরুম দাম |
| Honda ADV 160 | ১,৭০,০০০ টাকা |
| Yamaha Aerox 155 | ১,৪৫,৫৩০ টাকা |
Honda ADV 160-এ Mat Dune Brown, Athletic Blue Metallic এবং Mat Axis Gray Metallic-সহ বিভিন্ন রঙের বিকল্প রয়েছে বলে উৎসে উল্লেখ করা হয়েছে। Yamaha Aerox 155-এর উল্লেখিত রং Metallic Black এবং Pearl Deep Ground Gray।
বাজেট যাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের জন্য Aerox 155 আকর্ষণীয় বিকল্প। তবে Honda ADV 160-এর অতিরিক্ত দাম দিয়ে বেশি ফিচার, বড় ফুয়েল ট্যাঙ্ক ও উন্নত ব্যবহারিক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।
ডিজাইন ও আকার: ADV 160-এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বেশি
দুই স্কুটারের ডিজাইন দর্শন আলাদা। Honda ADV 160-এ অ্যাডভেঞ্চার বাইকের মতো উঁচু গঠন ও বড়সড় সামনের অংশ রয়েছে। Yamaha Aerox 155-এর ডিজাইন তুলনামূলক স্পোর্টি, যা তরুণ ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।
| বৈশিষ্ট্য | Honda ADV 160 | Yamaha Aerox 155 |
| হুইলবেস | ১,৩৩৩ মিমি | ১,৩৫০ মিমি |
| গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স | ১৭৫ মিমি | ১৪৫ মিমি |
| ফুয়েল ট্যাঙ্ক | ৮.১ লিটার | ৫.৫ লিটার |
| সিটের উচ্চতা | ৭৮০ মিমি | ৭৯০ মিমি |
| কার্ব ওজন | ১৩৭ কেজি | ১২৬ কেজি |
Yamaha Aerox 155-এর হুইলবেস ১,৩৫০ মিমি, যা Honda ADV 160-এর তুলনায় ১৭ মিমি বেশি। দীর্ঘ হুইলবেস স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে, যদিও বাস্তব রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা সাসপেনশন ও সামগ্রিক নকশার উপরও নির্ভর করে।
অন্যদিকে, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সে Honda ADV 160 অনেকটাই এগিয়ে। এর ১৭৫ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স Aerox 155-এর তুলনায় ৩০ মিমি বেশি। ফলে উঁচু স্পিড ব্রেকার, গর্ত এবং অসমান রাস্তায় চলার সময় Honda-র সুবিধা থাকতে পারে।
ফুয়েল ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও ADV 160 এগিয়ে। এতে ৮.১ লিটারের ট্যাঙ্ক রয়েছে, যেখানে Aerox 155-এর ধারণক্ষমতা ৫.৫ লিটার। ফলে অন্যান্য বিষয় সমান থাকলে Honda-তে একবার জ্বালানি ভরার পর তুলনামূলক বেশি দূরত্ব যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিটের উচ্চতা Honda ADV 160-এ ৭৮০ মিমি, যা Yamaha Aerox 155-এর ৭৯০ মিমির তুলনায় ১০ মিমি কম। কম উচ্চতার চালকদের জন্য Honda-র সিটে বসে মাটিতে পা রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। অন্যদিকে, Yamaha-র ওজন ১২৬ কেজি, যা Honda-র চেয়ে ১১ কেজি কম। পার্কিংয়ে স্কুটার সরানো এবং কম গতিতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কম ওজন সুবিধা দিতে পারে।
সাসপেনশন ও ব্রেক: Honda-র পিছনের ডিস্ক ব্রেকের সুবিধা
দুই স্কুটারেই সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে টুইন শক অ্যাবজর্ভার রয়েছে। তবে ব্রেকিং ব্যবস্থায় পার্থক্য রয়েছে।
| বৈশিষ্ট্য | Honda ADV 160 | Yamaha Aerox 155 |
| সামনের সাসপেনশন | টেলিস্কোপিক ফর্ক | টেলিস্কোপিক ফর্ক |
| পিছনের সাসপেনশন | টুইন শক অ্যাবজর্ভার | টুইন শক অ্যাবজর্ভার |
| সামনের ব্রেক | ডিস্ক, সিঙ্গল-চ্যানেল ABS | ২৩০ মিমি ডিস্ক, সিঙ্গল-চ্যানেল ABS |
| পিছনের ব্রেক | ডিস্ক | ১৩০ মিমি ড্রাম |
| সামনের টায়ার | ১১০/৮০-১৪ | ১১০/৮০-১৪ |
| পিছনের টায়ার | ১৩০/৭০-১৩ | ১৪০/৭০-১৪ |
Honda ADV 160-এ সামনে ও পিছনে দু’দিকেই ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। Yamaha Aerox 155-এ সামনে ডিস্ক ব্রেক থাকলেও পিছনে রয়েছে ড্রাম ব্রেক। ফলে ব্রেকিং হার্ডওয়্যারের বিচারে Honda-র সুবিধা রয়েছে। তবে শুধু ব্রেকের ধরন দেখে থামার দূরত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, কারণ টায়ার, রাস্তার অবস্থা এবং ব্রেকিং সিস্টেমের সামগ্রিক কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
Yamaha Aerox 155-এর পিছনের টায়ার ১৪০/৭০-১৪ মাপের, যা Honda ADV 160-এর ১৩০/৭০-১৩ টায়ারের তুলনায় চওড়া। টায়ারের মাপ ও গঠন স্কুটারের গ্রিপ এবং চালানোর অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফিচার: TFT ডিসপ্লেতে এগিয়ে Honda ADV 160
ফিচারের দিক থেকে Honda ADV 160 কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেয়। এতে TFT ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল রয়েছে, যেখানে Yamaha Aerox 155-এ LCD কনসোল পাওয়া যায়। দুই স্কুটারেই ব্লুটুথ সংযোগ, USB চার্জিং এবং সম্পূর্ণ LED লাইটিং রয়েছে।
| ফিচার | Honda ADV 160 | Yamaha Aerox 155 |
| সম্পূর্ণ LED লাইটিং | রয়েছে | রয়েছে |
| ব্লুটুথ সংযোগ | রয়েছে | রয়েছে |
| USB চার্জিং | রয়েছে | রয়েছে |
| ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল | TFT | LCD |
| সিটের নীচে স্টোরেজ | ২৭ লিটার | ২৪.৫ লিটার |
| টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন | রয়েছে | উৎসে উল্লেখ নেই |
Honda ADV 160-এর TFT ডিসপ্লে এবং টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন এর বাড়তি আকর্ষণ। পাশাপাশি সিটের নীচে ২৭ লিটারের স্টোরেজ রয়েছে। Yamaha Aerox 155-এ স্টোরেজের পরিমাণ ২৪.৫ লিটার। অর্থাৎ, Honda-তে অতিরিক্ত ২.৫ লিটার জায়গা পাওয়া যায়।
দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় ব্যাগ, প্রয়োজনীয় জিনিস বা ছোটখাটো কেনাকাটার সামগ্রী রাখার ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত জায়গা কাজে লাগতে পারে। তাই ফিচার ও ব্যবহারিক সুবিধা একসঙ্গে বিবেচনা করলে Honda ADV 160 এগিয়ে।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স: Honda ADV 160 বেশি শক্তিশালী
ইঞ্জিনের ক্ষমতার বিচারে Honda ADV 160 সামান্য এগিয়ে। এতে রয়েছে ১৫৬.৯৩ সিসির সিঙ্গল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন। Yamaha Aerox 155-এ রয়েছে ১৫৫ সিসির সিঙ্গল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন।
| ইঞ্জিনের বৈশিষ্ট্য | Honda ADV 160 | Yamaha Aerox 155 |
| ইঞ্জিন ক্ষমতা | ১৫৬.৯৩ সিসি | ১৫৫ সিসি |
| সর্বোচ্চ পাওয়ার | ১৬.৩১৬ PS, ৮,৭৫০ rpm-এ | ১৫ PS, ৮,০০০ rpm-এ |
| সর্বোচ্চ টর্ক | ১৪.৯ Nm, ৬,৫০০ rpm-এ | ১৩.৯ Nm, ৬,৫০০ rpm-এ |
| গিয়ারবক্স | CVT | CVT |
Honda ADV 160 সর্বোচ্চ ১৬.৩১৬ PS পাওয়ার ও ১৪.৯ Nm টর্ক উৎপন্ন করে। Yamaha Aerox 155-এর পাওয়ার ১৫ PS এবং টর্ক ১৩.৯ Nm। অর্থাৎ, Honda-র পাওয়ার ১.৩১৬ PS বেশি এবং টর্কে ব্যবধান ১ Nm।
তবে Yamaha Aerox 155-এর ওজন ১১ কেজি কম। ফলে ইঞ্জিনের আউটপুটে পিছিয়ে থাকলেও কম ওজনের কারণে চালানোর অনুভূতিতে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। বাস্তবে ত্বরণ ও পারফরম্যান্স নির্ভর করবে চালকের ওজন, রাস্তার অবস্থা এবং অন্যান্য পরিস্থিতির উপর।
দুই স্কুটারেই CVT ট্রান্সমিশন থাকায় প্রচলিত গিয়ার পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। ফলে শহরের যানজটে বারবার থামা ও চলার সময় দু’টিই ব্যবহারিক হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কোন স্কুটার কিনবেন?
Honda ADV 160 বেছে নিন যদি:
- বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স চান।
- বড় ফুয়েল ট্যাঙ্ক ও বেশি সম্ভাব্য রেঞ্জকে গুরুত্ব দেন।
- TFT ডিসপ্লে এবং নেভিগেশনের মতো ফিচার প্রয়োজন।
- পিছনের ডিস্ক ব্রেক ও বেশি স্টোরেজ চান।
- তুলনামূলক বেশি পাওয়ার ও টর্ক পছন্দ করেন।
Yamaha Aerox 155 বেছে নিন যদি:
- প্রায় ২৫ হাজার টাকা কম খরচ করতে চান।
- হালকা ও স্পোর্টি স্কুটার পছন্দ করেন।
- দীর্ঘ হুইলবেসের মডেল চান।
- তুলনামূলক কম বাজেটে প্রিমিয়াম স্কুটারের অভিজ্ঞতা পেতে চান।
ব্যবহারিক সুবিধা, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, স্টোরেজ, ফুয়েল ট্যাঙ্কের ক্ষমতা এবং ইঞ্জিনের আউটপুটের বিচারে Honda ADV 160 এগিয়ে। অন্যদিকে, দাম ও কম ওজনের কারণে Yamaha Aerox 155 বেশি বাজেটবান্ধব এবং স্পোর্টি বিকল্প। আপনার কাছে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটির উপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business