বাজার খুলতেই বড় পতন, ৭৩ হাজারের নীচে সেনসেক্স! তেলের দামে বাড়ছে উদ্বেগ
মুম্বই: সপ্তাহের মাঝপথে ফের চাপের মুখে দেশের শেয়ার বাজার। বুধবার লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স নেমে গেল ৭৩ হাজারের নীচে। দুর্বল তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শেয়ার, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত…
মুম্বই: সপ্তাহের মাঝপথে ফের চাপের মুখে দেশের শেয়ার বাজার। বুধবার লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স নেমে গেল ৭৩ হাজারের নীচে। দুর্বল তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শেয়ার, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান, এই তিনের প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে পতনের মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র শেয়ার।
বুধবার সকালে বিএসই সেনসেক্স ৬০১.১৪ পয়েন্ট কমে ৭২,৯৯৭.৫৫-তে নেমে আসে। অন্য দিকে, এনএসই নিফটি ১৪৬ পয়েন্ট হারিয়ে পৌঁছয় ২২,৬০৪.৮০-তে। সেনসেক্সের উল্লেখযোগ্য পতনের পিছনে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রির চাপ বড় ভূমিকা নিয়েছে।
সেনসেক্সের উল্লেখযোগ্য পতনের তালিকায় ছিল ইনফোসিস, এইচসিএল টেকনোলজিস, টেক মহিন্দ্রা এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস। পাশাপাশি আইটিসি ও এশিয়ান পেইন্টসের শেয়ারেও দুর্বলতা দেখা যায়।
তবে বাজারের এই ছবির মধ্যেও উল্টো পথে হেঁটেছে L&T। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটির সংহত নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২.৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫,২০২.১০ কোটি টাকা। আয় বৃদ্ধির জেরেই সংস্থার শেয়ারের দর ৪ শতাংশের বেশি বাড়ে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
১১৫ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট ক্রুড
বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ১.৩৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫.৪০ ডলারে পৌঁছয়। তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে ভারতের আমদানি খরচ এবং অর্থনীতির উপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাজার বিশেষজ্ঞদের।
জিওজিত ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি কে বিজয়কুমারের মতে, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের মার্কিন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে খবর সামনে আসায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য, তেলের দর ১১৫ ডলারের উপরে থাকা ভারতীয় অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের পক্ষে উদ্বেগজনক। এ দিন জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির দিকেও বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে বলে জানান তিনি।
ফেডের সিদ্ধান্তের আগে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা
এ দিকে মঙ্গলবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় শেয়ার বাজারে ৪,২৪০.৩৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন বলে এক্সচেঞ্জের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। এশিয়ার অন্য বাজারগুলিতে অবশ্য তুলনায় ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬.১১ শতাংশ বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫, চিনের সাংহাই কম্পোজিট এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও সবুজে ছিল। মঙ্গলবার ঊর্ধ্বমুখী হয় আমেরিকার বাজারও।
এনরিচ মানির সিইও পনমুদি আর জানিয়েছেন, ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকতে পারেন। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং জ্বালানির দামের ওঠানামাও নজরে থাকবে। তাঁর মতে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ থেকে ১০১ ডলারের আশপাশে থাকায় উৎপাদন খরচ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার লেনদেনের শেষে সেনসেক্স ৮.০৮ পয়েন্ট কমে ৭৩,৫৯৮.৬৭-তে এবং নিফটি ৩.৪৫ পয়েন্ট নেমে ২২,৭৪৯.৭৫-এ বন্ধ হয়েছিল।
ভারতে অনুমোদন না পেয়ে আম্বানির মত ধন কুবেরদের দোষারোপ মাস্কের
জি আই ট্যাগ যুক্ত সুগন্ধি চালের রফতানি বাড়াতে বাংলায় ২ চাল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র